সোমবার| এপ্রিল ০৬, ২০২০| ২২চৈত্র১৪২৬

টকিজ

শিশুদের বড় উৎসব আজ থেকে...

ফিচার প্রতিবেদক

ঢাকায় আজ শুরু হওয়া আট দিনব্যাপী ১৩তম আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসবে ৩৯টি দেশের ১৭৯টি শিশুতোষ চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে

ফ্রেমে ফ্রেমে আগামী স্বপ্নস্লোগান নিয়ে আজ ঢাকায় শুরু হচ্ছে১৩তম আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব বাংলাদেশচিলড্রেন ফিল্ম সোসাইটি বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত উৎসবটি আজ বিকাল ৪টায় উদ্বোধন করবেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি চত্বর শওকত ওসমান মিলনায়তনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করবেন উৎসবটির উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান মুস্তাফা মনোয়ার।

উদ্বোধনী দিন ছাড়া প্রতিদিন বেলা ১১টা, বেলা ২টা, বিকাল ৪টা সন্ধ্যা ৬টায় মোট চারটি প্রদর্শনী হবে। এবারের উৎসবে ঢাকায় মোট পাঁচটি ভেনুতে ৩৯টি দেশের ১৭৯টি শিশুতোষ চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। প্রতিটি প্রদর্শনীতে একাধিক শিশুতোষ চলচ্চিত্র দেখানো হবে। উৎসবের সব প্রদর্শনী অভিভাবক, শিশু-কিশোরসহ সবার জন্য উন্মুক্ত। ঢাকায় মূল উৎসব কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহূত হবে কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির শওকত ওসমান মিলনায়তনটি। উৎসবের  ভেনুগুলোয় শিক্ষার্থীদের উপস্থিত থাকার জন্যে উৎসব আয়োজকদের পক্ষ থেকে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য তিনটি দ্বিতল বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এবারো উৎসবের অন্যতম আকর্ষণীয় বিভাগ হিসেবে থাকছে বাংলাদেশী শিশুদের নির্মিত প্রতিযোগিতা বিভাগটি। বিভাগে এবার ৪৮টি চলচ্চিত্র জমা পড়েছিল, যার মধ্যে নির্বাচিত ১৮টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। ১৮টি চলচ্চিত্রের পাঁচটি চলচ্চিত্র পাবে পুরস্কার। পুরস্কার হিসেবে থাকছে ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট আর্থিক প্রণোদনা। পুরস্কারের জন্য গঠিত পাঁচ সদস্যের জুরি বোর্ডের সবাই শিশু-কিশোর। অর্থাৎ ছোটদের নির্মিত শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রগুলো বাছাই করবে ছোটরাই।

এবারোইয়ং বাংলাদেশী ট্যালেন্টশীর্ষক বিভাগটি রয়েছে, যেখানে ১৯ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ নির্মাতারা অংশ নিয়েছে। এছাড়া মুজিব বর্ষ উপলক্ষে রয়েছেস্পেশাল ফিল্ম কম্পিটিশনবিভাগ, যেখানে বিষয় হলো, ‘প্রজন্মের চোখে বঙ্গবন্ধু একই সঙ্গে রয়েছে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বিভাগ, বিভাগে উৎসব কমিটির দ্বারা মনোনীত বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের মোট ১০৫টি চলচ্চিত্র অংশ নেবে। চলচ্চিত্রগুলো বিচার করার জন্য সৈয়দ সালাউদ্দীন জাকীর সভাপতিত্বে শামীম আখতার শবনম ফেরদৌসীকে সদস্য করে আন্তর্জাতিক জুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। নূরুল আলম আতিকের সভাপতিত্বে নূর ইমরান মিঠু আবু শাহেদ ইমনকে সদস্য করেইয়ং বাংলাদেশী ট্যালেন্টবিভাগের চলচ্চিত্র বিচার করার জন্য একটি জুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

গত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারো বিভিন্ন দেশের শিশুদের বানানো চলচ্চিত্র নিয়ে থাকছে প্রতিযোগিতা বিভাগ, যেখান থেকে একটি চলচ্চিত্রকে পুরস্কার দেয়া হবে। এবার কয়েকটি দেশ থেকে বিদেশী অতিথি উৎসবে প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন। উৎসবে প্রতিনিধিদের জন্য বিভিন্ন কর্মশালা সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। এবার মোট চারটি কর্মশালা হবে, সিনেমাটোগ্রাফির ওপর কর্মশালা নেবেন নিহাল কুরাইশি, পরিচালনার ওপর পিপলু আর খান, ‘সাউন্ড ইন ফিল্ম’-এর ওপর নাহিদ মাসুদ, ‘স্টোরি টেলিংনিয়ে অমিতাভ রেজা।


এছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ আড্ডায় উপস্থিত থাকবেন মুক্তিযোদ্ধা রণাঙ্গনের আলোকচিত্রী হারুন হাবীব প্রথম বাংলাদেশী নারী ফিফা রেফারি জয়া চাকমা, যেখানে প্রতিনিধিরা তাদের সঙ্গে আলাপচারিতার সুযোগ পাবেন।

উৎসবের সমাপনী পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে ৩১ জানুয়ারি বিকাল ৫টায় কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির শওকত ওসমান মিলনায়তনে। অনুষ্ঠানে সবকটি প্রতিযোগিতা বিভাগে অংশ নেয়া চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে পুরস্কার প্রাপ্তদের নাম ঘোষণা পুরস্কার প্রদান করা হবে। সমাপনী অনুষ্ঠানে উৎসব উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান মুস্তাফা মনোয়ার এবং সিএফএস বাংলাদেশের সভাপতি . মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের গুণী ব্যক্তি, বিভিন্ন দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত থাকবেন।

১৩তম আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব বাংলাদেশ’-এর উৎসব পরিচালক ফারিহা যাহিন বিভা বলেন, ‘শিশুদের জন্য সাজানো উৎসবটি আয়োজনের জন্য অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ খুব কম এবং কিছু প্রতিষ্ঠান আমাদের সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও তারা একেবারে শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে যায়, যা খুবই দুঃখজনক। ফলে উৎসবের বিশাল ব্যয়ভার আমাদের পক্ষে বহন করা বেশ কষ্টকর। তবু আমরা চেষ্টা করছি উৎসবটি সফল করতে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন