শনিবার | সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০ | ১১ আশ্বিন ১৪২৭

খবর

সিপিডির সংলাপে অধ্যাপক রেহমান সোবহান

রাজনৈতিক পরিচয়ে নয় যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি হোক

নিজস্ব প্রতিবেদক

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক . রেহমান সোবহান বলেছেন, রাষ্ট্রের একটি বড় দায়িত্ব হলো নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। আর বাধ্যতামূলকভাবে যুব কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে রাষ্ট্রকেই উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, চাকরি নিশ্চিত করতে হবে যোগ্যতার ভিত্তিতে।

গতকাল রাজধানীর এক হোটেলে সিপিডি আয়োজিত প্রান্তিক যুবসমাজের কর্মসংস্থানে সরকারি পরিষেবার ভূমিকা শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

রেহমান সোবহান বলেন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হলে দেশকে প্রতিযোগিতাপূর্ণ অবস্থানে রাখতে হবে। যার মাধ্যমে মানুষ তার মেধা শ্রমের স্বীকৃতি পাবে। যেখানে রাজনৈতিক পরিচয় বড় করে না দেখে মেধা দক্ষতার মূল্যায়ন ব্যক্তিগত যোগ্যতা গুরুত্ব পাবে, তাহলে রাষ্ট্র সরকার উভয়ই উপকার পাবে। তিনি বলেন, বেকারদের কর্মসংস্থানে রাষ্ট্রের বড় ভূমিকা রয়েছে। দেশের উন্নয়ন প্রবৃদ্ধি কতটা উন্নতি হলো মাথায় না রেখে সামষ্টিক অর্থনীতি উন্নয়নের ধারাকে সামনে আনতে হবে। প্রতি বছর বাজেট পেশকালে অর্থমন্ত্রী জানাবেন, বছর কত হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থনীতিবিদ . মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি বলেন, যুবসমাজের কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ মূলত জীবন চক্রের চ্যালেঞ্জ। যুবসমাজের মধ্যে যারা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর, তাদের চ্যালেঞ্জ আরো বেশি। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে নতুন তিন কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চায়। তবে বর্তমানে বাংলাদেশ যে প্রবৃদ্ধির হারে ( দশমিক শতাংশ) কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে, সময়কালে দেশে কোটি ৪৯ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব। অর্থাৎ ২০৩০ সালের মধ্যে সরকারের ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। বিষয়টি এখন থেকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।

সিপিডির ফেলো অর্থনীতিবিদ . দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে তিন কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যদি তা চলমান গতিতে এগিয়ে চলে, সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব নয়। এখানে চাহিদা জোগানের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, সেটা কেউ আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে না। যারা চাকরির প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, তাদের বাজারের চাহিদার আলোকে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতে কর্মদক্ষতা তৈরিতে বাজারমুখী শিক্ষাব্যবস্থা সৃষ্টি করতে হবে। চাকরি বাজারের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে।

সংলাপে বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুর বলেন, আজ থেকে ১০ বছর আগে এক লাখ গ্র্যাজুয়েট বের হতো, ১০ বছর পর এখন তিন গুণ বেশি গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছে। অথচ কর্মসংস্থানের নতুন কোনো সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে না। পৃথিবীর একমাত্র দেশ বাংলাদেশ যেখানে পাবলিক সেক্টরের চেয়ে প্রাইভেট সেক্টরে বেতন সুযোগ-সুবিধা কম। সুতরাং প্রাইভেট সেক্টরমুখী হচ্ছে না শিক্ষিত তরুণরা।

সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, নানারকম সুযোগ-সুবিধার কারণে তরুণরা সরকারি চাকরির দিকে ঝুঁকছে। একই সঙ্গে বেসরকারি কর্মক্ষেত্র সেভাবে তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মান এত খারাপ হয়েছে যে, প্রথম শ্রেণীতে পাস করে ভালো কোনো চাকরি মিলছে না। শিক্ষার্থীদের সেভাবে তৈরি করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষিত ৫০ শতাংশ যুবক বেকার। সরকার ক্ষমতায় এসে এসএসসি এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে গুরুত্ব দিয়েছে, শিক্ষার মানে নয়। এজন্য বেকারত্ব তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা কোটি ৮২ লাখ হলেও সরকারি সংস্থা দেখিয়েছে ২৬ লাখ। এখানেও অনেক ভুল তথ্য দেয়া হয়েছে। সরকার শুধু দেশের উন্নয়নের কথা বললেও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারছে না।

সংলাপে সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, মন্ত্রণালয়গুলোয় কাজের সমন্বয়হীনতার অভাব রয়েছে। এক মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিলেও অন্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতার অভাবের কারণে অনেক কিছুই করা সম্ভব হয় না। তবে হতাশা হওয়ার জাতি বাঙালি নয়। নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এক সময় এলাকার বাজার থেকে বাড়ি যেতাম কয়েক ঘণ্টায়, এখন বাড়ি যাই মিনিটে। দেশ উন্নয়নের জন্য আমাদের মনমানসিকতার পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে।

সংলাপে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফাউন্ডেশনের সভাপতি বাবুল আক্তার, ইউসেপ বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা আহমেদ, জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সভাপতি সারাহ কামাল প্রমুখ।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন