শনিবার| ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২০| ১৫ফাল্গুন১৪২৬

প্রথম পাতা

চট্টগ্রামে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা ও ২৪ আওয়ামী লীগ কর্মীকে হত্যা

পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়ে ৩২ বছর পর রায় ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম ব্যুরো

১৯৮৮ সালে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গুলি চালিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা ২৪ আওয়ামী লীগ কর্মীকে হত্যার দায়ে পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় স্পেশাল জজ মো. ইসমাঈল হোসেন গতকাল রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন গোপাল চন্দ্র মণ্ডল, মোস্তাফিজুর রহমান, প্রদীপ বড়ুয়া, শাহ মো. আবদুল্লাহ মমতাজ উদ্দিন। আসামিরা সবাই পুলিশ সদস্য ছিলেন। গোপাল চন্দ্র মণ্ডল ছাড়া অন্য আসামিরা রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রায় ঘোষণার আগে মামলার চার আসামি জামিনে ছিলেন। আসামিদের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। অন্য আসামিদের মধ্যে গোপাল চন্দ্র মণ্ডল ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন। এছাড়া মামলার অন্য আসামির মধ্যে প্রধান আসামি চট্টগ্রামের তৎকালীন পুলিশ কমিশনার মীর্জা রকিবুল হুদা, কনস্টেবল বশির উদ্দিন আব্দুস সালাম মারা গেছেন।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ১৯৮৮ সালে লালদীঘি ময়দানে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গুলি চালিয়ে ২৪ জনকে হত্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টায় সরাসরি জড়িত থাকার কারণে আদালত পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল। ১৪ জানুয়ারি চাঞ্চল্যকর মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মামলায় বিভিন্ন সময়ে মোট ৫৩ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানের সমাবেশে যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার গাড়িবহর লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় পুলিশ। সময় শেখ হাসিনাকে রক্ষা করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে মারা যান ২৪ নেতাকর্মী। ঘটনায় ১৯৯২ সালের মার্চ আইনজীবী মো. শহীদুল হুদা বাদী হয়ে মামলা করেন। ১৯৯৬ সালে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করা হয়।

পরে আদালতের আদেশে সিআইডি মামলাটি তদন্ত করে ১৯৯৭ সালের ১২ জানুয়ারি প্রথম ১৯৯৮ সালের নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগপত্রে তৎকালীন সিএমপি কমিশনার মীর্জা রকিবুল হুদাসহ আট পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়। ২০০০ সালের মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত।

পিপি মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ঘটনার আগের রাতে তৎকালীন সিএমপি কমিশনার মীর্জা রকিবুল হুদার অফিসে গোপন সভা হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় শেখ হাসিনাসহ দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের হত্যা করার। পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে ঘটনার দিন প্যাট্রল ইনস্পেক্টর গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার পুলিশ সদস্য গুলি চালান। তৎকালীন সিএমপির দায়িত্বশীল নয়জন পুলিশ কর্মকর্তা দায়ী আসামিদের শনাক্ত করেছেন এবং আদালতে তাদের সাক্ষ্য দেয়ার সময় এসব তথ্য জানিয়েছেন। এছাড়া যুক্তিতর্কের সময় তৎকালীন পুলিশ কমিশনার মীর্জা রকিবুল হুদার নির্দেশে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল তার নিয়ন্ত্রিত পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে আদালতকে জানিয়েছিলাম আমরা। আসামিরা নিজেদের পক্ষে সাফাই গাইলেও নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেননি।

লালদীঘির ঘটনায় নিহতরা হলেন মো. হাসান মুরাদ, মহিউদ্দিন শামীম, স্বপন কুমার বিশ্বাস, এলবার্ট গোমেজ, স্বপন চৌধুরী, অজিত সরকার, রমেশ বৈদ্য, বি কে দাশ, পঙ্কজ বৈদ্য, সমর দত্ত, পলাশ দত্ত, বদরুল আলম, ডি কে চৌধুরী, সাজ্জাদ হোসেন, আব্দুল মান্নান, সবুজ হোসেন, কামাল হোসেন, বাহার উদ্দিন, চান্দ মিয়া, হাসেম মিয়া, মো. কাসেম, আব্দুল কুদ্দুস, গোবিন্দ দাশ শাহাদাত হোসেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন