বৃহস্পতিবার | অক্টোবর ০১, ২০২০ | ১৬ আশ্বিন ১৪২৭

শেষ পাতা

আঙ্কটাডের প্রতিবেদন

২০১৯ সালে বিদেশী বিনিয়োগ কমেছে ৬%

বদরুল আলম

প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে ২০১৮ সালে বড় উল্লম্ফনের মুখ দেখেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এক বছরের ব্যবধানে আবারো নেতিবাচক ধারায় ফিরে গেছে এফডিআই প্রবাহ। জাতিসংঘের বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থার (আঙ্কটাড) তথ্য বলছে, ২০১৯ সালে দেশে বিদেশী বিনিয়োগ হয় ৩৪০ কোটি ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে শতাংশ কম।

বিদেশী বিনিয়োগ নিয়ে প্রতি বছর ইনভেস্টমেন্ট ট্রেন্ডজ মনিটর প্রতিবেদন প্রকাশ করে আঙ্কটাড। আজ বিশ্বব্যাপী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ হবে ২০২০ সালের প্রতিবেদন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে এফডিআইয়ের বৈশ্বিক প্রবাহ ছিল কম। ২০১৮ সালে বৈশ্বিক এফডিআই প্রবাহ ছিল দশমিক ৪১ ট্রিলিয়ন ডলার, যা ২০১৯ সালে শতাংশ কমে দশমিক ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ঐতিহাসিক ধারা অব্যাহত রেখে গত বছরও এফডিআই প্রবাহ কম ছিল উন্নয়নশীল দেশগুলোয়।

২০১৯ সালে উন্নয়নশীল দেশে এফডিআই প্রবাহ কমেছে শতাংশ। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মোট এফডিআই প্রবাহ কমলেও আঙ্কটাড বলছে, দক্ষিণ এশিয়ায় এফডিআই প্রবাহ বেড়েছে। অঞ্চলে এফডিআই প্রবাহ ১০ শতাংশ বেড়ে হয়েছে হাজার কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধির চালক ছিল ভারত। দেশটিতে গত বছর ১৬ শতাংশ বেড়ে এফডিআই প্রবাহের আনুমানিক পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৯ বিলিয়ন ডলার। বিনিয়োগের বেশির ভাগই এসেছে সেবা তথ্যপ্রযুক্তি খাতে। ভারতে বাড়লেও বাংলাদেশ পাকিস্তানে এফডিআই প্রবাহ কমেছে। পাকিস্তানে ২০ শতাংশ কমে এফডিআই এসেছে ১৯০ কোটি ডলার। আর বাংলাদেশে শতাংশ কমে এফডিআই এসেছে ৩৪০ কোটি ডলার।

বিনিয়োগসংশ্লিষ্টরা বলছেন, জমি গ্যাস-বিদ্যুতের মতো ভৌত অবকাঠামোগত সম্পদে ঘাটতির পাশাপাশি বিনিয়োগের সার্বিক পরিবেশে ব্যাপক অস্বস্তি, অস্বচ্ছতা বিভ্রান্তি রয়েছে বাংলাদেশে। কারণে অনেক ধরনের সক্ষমতায় এগিয়ে থাকলেও দেশে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে বিনিয়োগ আসছে না। তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে আঙ্কটাডের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে। 

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক . আহসান এইচ মনসুর বলেন, বাংলাদেশ এখনো ইমেজ সংকট দূর করতে ব্যস্ত। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মতো সমস্যা এখন না থাকলেও জমি সমস্যার পাশাপাশি ওয়ান স্টপ ফ্যাসিলিটির অকার্যকারিতার মতো সমস্যা রয়ে গেছে। যোগাযোগ অন্যান্য অবকাঠামো সমস্যা তো রয়েছেই। ভালো বা খারাপ না, এটাই বাংলাদেশের বাস্তবতা। তবে পৃষ্ঠপোষক সংস্থাগুলোর তদারকিতে বিনিয়োগ পরিবেশে ক্রমেই উন্নতি হচ্ছে। ওয়ান স্টপ সার্ভিসও খুব দ্রুতই কার্যকর হবে বলে আশা করছি। তাই আগামী দিনগুলোয় বিনিয়োগের চিত্র বদলে যাওয়ার বিষয়ে আমি আশাবাদী।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যানও এফডিআই প্রবাহ কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সম্প্রতি ২০১৯ সালের নয় মাসের এফডিআই প্রবাহের তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে এফডিআই প্রবাহ ছিল ২১৫ কোটি ৩৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার। ২০১৮ সালের একই সময়ে এফডিআই প্রবাহ ছিল ২২৬ কোটি ৫৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার। হিসাবে নয় মাসে দেশে এফডিআই প্রবাহ কমেছে প্রায় শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র বলছে, ২০১৮ সালে এফডিআই প্রবাহে বড় ধরনের উল্লম্ফন হওয়ার কারণ ছিল বিদেশী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠানের তামাক ব্যবসা অধিগ্রহণ, যার প্রভাবে এফডিআই প্রবাহ বেড়ে যায় ৬৮ শতাংশ। আর ২০১৯ সালে বড় ধরনের অধিগ্রহণ, নতুন বিনিয়োগ বা বিদ্যমান বিনিয়োগকারীরা পুনরায় বড় ধরনের বিনিয়োগ করেননি। ফলে ২০১৯ সালে বিদেশী বিনিয়োগপ্রবাহ কমে গেছে।

ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করে বিনিয়োগকারী বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোর বাংলাদেশে নিয়ে আসা অর্থসংক্রান্ত জরিপের ভিত্তিতেই এফডিআই প্রবাহের পরিসংখ্যান গতিপ্রকৃতি সংবলিত তথ্য প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এক্ষেত্রে নিট নিজস্ব মূলধন বা ইকুইটি ক্যাপিটাল, আয়ের পুনর্বিনিয়োগ বা রিইনভেস্টেড আর্নিংস আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ঋণ বা ইন্ট্রা কোম্পানি লোন তিন ভাগে এফডিআই প্রবাহ হিসাব করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

নয় মাসের হিসাবে দেখা যায়, বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের আয়ের পুনর্বিনিয়োগ বা রিইনভেস্টেড আর্নিংসই ছিল সবচেয়ে বেশি। নয় মাসে মোট এফডিআই প্রবাহ ২১৫ কোটি ৩৮ লাখ ৬০ হাজার ডলারের মধ্যে নিট নিজস্ব মূলধন বা ইকুইটি ক্যাপিটাল ছিল ৬০ কোটি ২৭ লাখ ৯০ হাজার ডলার। আয়ের পুনর্বিনিয়োগ বা রিইনভেস্টেড আর্নিংস ছিল ৯৯ কোটি ৯৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার। আর আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ঋণপ্রবাহ ছিল ৫৫ কোটি ১২ লাখ ৯০ হাজার ডলার।

বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ২০২০ সালে বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে আমরা অনেক আশাবাদী। বিশ্বের অনেক দেশের বিনিয়োগকারীরাই বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ২০১৮ সালে সৌদি আরব থেকে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি এসেছে। চলতি বছর সেগুলো বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে আশা করছি। এছাড়া বিনিয়োগ ব্যবসার সেবাগুলো সহজ করতে অনেক ধরনের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে, যার প্রভাবে ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করে পক্ষান্তরে বিদেশী বিনিয়োগকে আরো বেশি আকর্ষণ করবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন