বৃহস্পতিবার| ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০| ১৪ফাল্গুন১৪২৬

প্রথম পাতা

ভোটের দিন পিছিয়ে ১ ফেব্রুয়ারি

পিছিয়েছে এসএসসি পরীক্ষা শুরুর দিনও

নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্দোলন ও বিতর্কের মুখে অবশেষে ভোটগ্রহণের দিন পিছিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের তারিখ ৩০ জানুয়ারি থেকে পিছিয়ে ১ ফেব্রুয়ারি পুনর্নির্ধারণ করেছে কমিশন। গতকাল রাতে নির্বাচন কমিশনের এক জরুরি বৈঠকে ভোটের এ পরিবর্তিত তারিখ নির্ধারণ করা হয়। পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা সাংবাদিকদের ভোটের দিন পেছানোর কথা জানান।

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ১ ফেব্রুয়ারি থেকে পিছিয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি শুরুর ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

নির্বাচন পেছানোর দাবিতে দুই সপ্তাহজুড়ে শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলন, ইসি ও আদালতে একের পর এক আবেদন এবং বিভিন্ন মহলের তীব্র সমালোচনার মুখে এ সিদ্ধান্ত নিল ইসি।

তফসিল ঘোষণার পর থেকেই সরস্বতী পূজার কারণে ৩০ জানুয়ারি ভোটের তারিখ পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছে বিভিন্ন সংগঠন। কিন্তু কমিশন তার অবস্থানেই অনড় ছিল। কমিশনের সভা ডেকে দুই দফায় প্রায় ৩ ঘণ্টা বৈঠকের পর গতকাল রাতে ভোটগ্রহণের দিন পেছানোর কথা জানায় ইসি।

কমিশনের সভাশেষে সিইসি সাংবাদিকদের জানান, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে যাতে আঘাত বা ব্যাঘাত না আসে, সেটা বিবেচনা করে আমরা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনিও তার দপ্তরে বসে দাপ্তরিক প্রস্তুতি নিয়ে আমাকে জানিয়েছেন, ১ ফেব্রুয়ারির পরীক্ষা পিছিয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করেছেন। এর ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনে আলোচনা করে সর্বসম্মতিতে ১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনটি অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সিইসি বলেন, সরকারি ক্যালেন্ডারে ২৯ জানুয়ারি সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে উল্লেখ আছে। ক্যালেন্ডারে ৩০ জানুয়ারি পূজার তারিখ উল্লেখ নেই। সেই প্রেক্ষাপটে ৩০ জানুয়ারি ভোটের দিন নির্ধারণ করেছিলাম।

নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, ভোটের তারিখ পেছানোর পর পুনঃতফসিলসংক্রান্ত চিঠি গতকাল রাতেই জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে এ-সংক্রান্ত চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানিয়ে দেয়া হয়েছে। ভোট পেছানোয় প্রার্থীরাও প্রচারের সময় দুদিন বেশি পাচ্ছেন।

গত ২২ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ৩০ জানুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে ২৯ জানুয়ারি সকাল ৯টা ১০ মিনিট থেকে পরদিন ৩০ জানুয়ারি ১১টা পর্যন্ত সরস্বতী পূজার তিথি উল্লেখ করে নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের নির্দেশনা চেয়ে ৬ জানুয়ারি হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়। শুনানি শেষে আইনজীবী অশোক কুমার ঘোষের করা ওই রিট আবেদন খারিজ করে দেন আদালত। পরে অশোক কুমার ঘোষ এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করেন। আজই এর শুনানি হওয়ার কথা।

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ভোট পেছানোর দাবিতে অনশন কর্মসূচি পালন করছিলেন। ভোটের দিন পেছানোর খবরে অনশন ভেঙেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এখন পর্যন্ত অনশনে ৩০ জনের মতো শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছেন বলে জানা গেছে। 

এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম বলেন, আমরা যে অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ তা প্রমাণ হলো। আমার বন্ধুর উৎসবে আমি যেতে পারব না, বা সে সুন্দরভাবে সবাইকে নিয়ে তার ধর্মীয় উৎসবটি পালন করতে পারবে না, এটা আসলে হয় না। আমরা সবাই মিলে সবার ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করব। আমি এ সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানাই।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেন, আমি খুশি যে নির্বাচন কমিশন একটি ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যখন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল, তখনই পূজার বিষয়টি বিবেচনায় রাখার দরকার ছিল। দেরিতে হলেও সবার দাবির মুখে তারা নির্বাচনের তারিখ একদিন পিছিয়েছে। এতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাও আনন্দিত হবেন। ভবিষ্যতে বিষয়টি নির্বাচন কমিশন খেয়াল রাখবে বলে আশা করছি।

পিছিয়েছে এসএসসি পরীক্ষা

এসএসসি পরীক্ষা পেছানোর বিষয়ে গতকাল নিজের হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এ সময় তিনি বলেন, সরস্বতী পূজা থাকায় সিটি নির্বাচন পেছানোর বিষয়ে আলোচনা করছিল নির্বাচন কমিশন। এজন্য তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। যেহেতু বেশির ভাগ ভোটকেন্দ্রই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, তাই এসএসসি পরীক্ষা পেছানো সম্ভব কিনা, তা জানতে চেয়েছিল ইসি। তাদের প্রস্তাবের আলোকে এসএসসি পরীক্ষা দুদিন পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন