শনিবার| ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২০| ১৫ফাল্গুন১৪২৬

প্রথম পাতা

পাঁচ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নয়জনের মৃত্যু

বণিক বার্তা ডেস্ক

সারা দেশে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে যশোরে মারা গেছেন একই পরিবারের তিনজন। এছাড়া সিলেট ও গোপালগঞ্জে দুজন করে এবং ধামরাই ও পঞ্চগড়ে মারা গেছেন একজন করে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর

যশোর: যশোরে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিন নারী নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন আফরোজা তাবাসসুম (২৬) এবং তার দুই ননদ তানিমা ইয়াসমিন পিয়াসা (২৫) ও তানজিলা ইয়াসমিন তিয়াসা (২৮)।

যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তাসনিম আহমেদ ও নিহতদের স্বজনরা জানান, আগামী বৃহস্পতিবার তানজিলা ইয়াসমিনের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এ উপলক্ষে তার স্বামী শফিকুল ইসলাম জ্যোতির বাড়িতে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। এ আলোকসজ্জা দেখার জন্য তানজিলা ইয়াসমিন তার বোন ও ভাবিকে সঙ্গে নিয়ে স্বামী জ্যোতির প্রাইভেট কারে চড়ে তার বাড়ির দিকে রওনা হন। এ সময় তাদের সঙ্গে আফরোজার তিন বছরের মেয়ে মানজিরাসহ আরো দুজন আরোহী ছিলেন। আলোকসজ্জা দেখার পর শহর ঘুরতে বের হন তারা। রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ তাদের বহনকারী গাড়িটি শহরের পুরাতন কসবা বিমান অফিস মোড়ের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ও একটি বাড়ির প্রাচীরে গিয়ে সজোরে ধাক্কা খায়। এ সময় গাড়ির আরোহী তিন নারীর মৃত্যু ঘটে। আহত হন অন্য আরোহীরা। বর্তমানে আহতরা শঙ্কামুক্ত।

পুলিশ পরিদর্শক তাসনিম আহমেদ আরো জানান, ৯৯৯ নম্বর থেকে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। তাদের মরদেহ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের স্বামী ও গাড়িটির চালক শফিকুল ইসলাম জ্যোতি মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে পুলিশ। তাসনিম আহমেদ বলেন, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন শফিকুল ইসলাম জ্যোতি। তিনি পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন বিষয়টি। রাতেই তাকে আটক করা হয়। কাজেই আমরা ধারণা করছি, মদপান করে বেপরোয়া গাড়ি চালানোয় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। জ্যোতি সুস্থ আছেন এবং গাড়িটি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।

সিলেট: সিলেটের দক্ষিণ সুরমা ও নগরের মোতালেব চত্বরে (টিলাগড় মোড়) পৃথক দুই সড়ক দুর্ঘটনায় এক গৃহবধূ ও এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাতে এ দুই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন মৌলভীবাজারের জুড়ি জাঙ্গিরাই গ্রামের নাজিয়া আক্তার (৩০) ও নগরের চামেলীবাগ এলাকার নয়ন দাস (২৭)। নয়ন এমসি কলেজের স্নাতকোত্তর শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের দক্ষিণ সুরমার জলকরকান্দি এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে অটোরিকশার আরোহী নাজিয়া আক্তার ও তার দুই সন্তান আহত হন। তাদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে নাজিয়া আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

সিলেট মোগলাবাজার থানার ওসি আখতার হোসেন এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জানান, নিহতের পরিবারের সদস্যদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তর করা হয়েছে।

একই দিন রাত ১১টা নাগাদ নগরীর মোতালেব চত্বর এলাকায় একটি প্রাইভেট কার উল্টে নয়ন দাস নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু ঘটে। শাহপরান থানা পুলিশ জানায়, নগরীর বালুচর থেকে বেপরোয়া গতিতে প্রাইভেট কারটি ইসলামপুরের দিকে যাচ্ছিল। পথে এমসি কলেজের সামনের গতিরোধকে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এতে প্রাইভেট কারটি উল্টে চার আরোহী মারাত্মকভাবে আহত হন। এ সময় স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নয়নকে মৃত ঘোষণা করেন।

গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় গতকাল সকালে একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেলে ঘটনাস্থলেই দুই নারীর মৃত্যু হয়। গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট সড়কের ভেন্নবাড়ী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহতরা হলেন জেলার মুকসুদপুর উপজেলার চামটা গ্রামের নূর মোল্লার স্ত্রী রুবিচা বেগম (৪৫) ও মহিষতলী গ্রামের সুবল বালার স্ত্রী শেফালী বালা (৫০)।

ধামরাই: ঢাকার ধামরাইয়ে বাসচাপায় এক পথচারী নিহত হয়েছেন। গতকাল সকালে ধামরাই উপজেলার শ্রীরামপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ইমরান হোসেন ধামরাইয়ের সূতিপাড়া ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের মতিয়ার হোসেনের ছেলে।

পুলিশ জানিয়েছে, নীলাচল পরিবহন নামে একটি বাস মহাসড়কের শ্রীরামপুর সেতু পার হওয়ার সময় ইমরানকে চাপা দেয়। এতে তিনি আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান।

ঘাতক বাস বা এর চালককে আটক করতে পারেনি পুলিশ। অন্যদিকে থানায় অভিযোগ না করায় তার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পঞ্চগড়: পঞ্চগড়ে ট্রাকের ধাক্কায় এক মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত দাইমুল ইসলাম মন্টু (৫৩) স্থানীয় পুলিশ সুপার কার্যালয়ে টাইপিস্টের কাজ করতেন। শুক্রবার রাত ১১টা নাগাদ সদর উপজেলার পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সদর থানার ওসি আবু আক্কাস আহমদ জানান, নিহত দাইমুল ইসলাম মন্টু তেঁতুলিয়ায় একটি অনুষ্ঠানের শুটিং দেখে রাতে মোটরসাইকেলে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়কের অমরখানা ইউনিয়নের চৈতন্যপাড়া অংশে থেমে থাকা একটি ট্রাকের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের সজোরে ধাক্কা লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয়রা তাকে আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন