বৃহস্পতিবার| ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০| ১৪ফাল্গুন১৪২৬

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

শি জিনপিংয়ের মিয়ানমার সফর

মূল উদ্দেশ্য কয়েকশ কোটি ডলারের অবকাঠামো চুক্তি

বণিক বার্তা ডেস্ক

মিয়ানমারে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে গতকাল দেশটির রাজধানী নেপিদোয় পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এ সফরের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিকসহ নানামুখী চাপে থাকা মিয়ানমারের অং সান সু চি সরকারের প্রতি নিজেদের সমর্থনের জানান দিচ্ছে চীন। একই সঙ্গে বেইজিং আশা করছে, সফরটি মিয়ানমারে তাদের কয়েকশ কোটি ডলারের অবকাঠামোগত চুক্তি বাস্তবায়নের পথ সুগম করবে।

দুদিনের এ সফরে শি জিনপিংয়ের জন্য স্বাগত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সু চি ও মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন চীনা রাষ্ট্রপ্রধান। আশা করা হচ্ছে, সফরকালে শি চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের অংশ হিসেবে মিয়ানমারের সঙ্গে বেশকিছু বাণিজ্যচুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন। চুক্তি অনুযায়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, উচ্চগতির রেললাইনসহ বেশকিছু নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পাল্টে যাবে মিয়ানমারের পুরো অবকাঠামো। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, চুক্তি সম্পাদনের পাশাপাশি শি জিনপিং এ সফরের মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুতে চাপে থাকা সু চির প্রতি কৌশলগত সমর্থনও জ্ঞাপন করছেন।

এদিকে মিয়ানমারের কাচিন প্রদেশ সফর করেছেন অং সান সু চি। প্রদেশটি চীনের সীমান্তবর্তী। এ প্রদেশে চীনের অর্থায়নে ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ড্যাম প্রকল্প তীব্র সমালোচনার মুখে পড়লে সেটি ২০১১ সালে বন্ধ করে দেয়া হয়। ধারণা করা হচ্ছে, প্রকল্পটি চালুর জন্য নতুন উদ্যোগের বিরুদ্ধে আজ (শনিবার) ইয়াংগুনে চীনা দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভও হতে পারে। তবে সব দিক বিবেচনায় চীন এখন পর্যন্ত মিয়ানমারের অর্থনীতির জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশ দুটির মধ্যে রয়েছে শত কোটি ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য।

এদিকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এক উপসম্পাদকীয়তে শি জিনপিং বলেন, জাতীয় মর্যাদা, স্বার্থ ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণে চীন সবসময়ই মিয়ানমারের পাশে থাকবে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতন ও তাদের বিতাড়নের কারণে ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমালোচনা ও নিন্দার মুখে পড়ে মিয়ানমার। এ সময় যে সামান্য কয়েকটি বড় শক্তি মিয়ানমারের পাশে ছিল, তার মধ্যে অন্যতম চীন। রাখাইন রাজ্যে বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণে ১৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে চীন। মনে করা হচ্ছে, এ বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্যই রোহিঙ্গা ইস্যুতে বারবার মিয়ানমারকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে শি জিনপিংয়ের সরকার।             সূত্র: এএফপি

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন