শনিবার| ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২০| ১৫ফাল্গুন১৪২৬

টকিজ

বার্লিনালে রীতির ইতিহাস

ফিচার প্রতিবেদক

প্রথম বাংলাদেশী চলচ্চিত্র সমালোচক হিসেবে বার্লিনালে ট্যালেন্ট ক্যাম্পাসে নির্বাচিত সাদিয়া খালিদ রীতি

সেই খবরের রেশ এখনো কাটেনি, অথচ এর মধ্যেই চলচ্চিত্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শাখায় ইতিহাস রচনা করে ফেললেন বাংলাদেশী চলচ্চিত্র সমালোচক চিত্রনাট্যকর সাদিয়া খালিদ রীতি। গত বছর কান চলচ্চিত্র উৎসবের ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ফিল্ম ক্রিটিকসের (ফিপরেস্কি) বিচারক হিসেবে আমন্ত্রিত হওয়ার পর এবার বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফর্ম বার্লিনালে ট্যালেন্ট ক্যাম্পাসে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। রীতিই প্রথম বাংলাদেশী, যিনি চলচ্চিত্র সমালোচক হিসেবে প্রথমবারের মতো বার্লিনালে ট্যালেন্ট ক্যাম্পাসেরফিল্ম ক্রিটিসিজমবিভাগে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছেন। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে খবর জানার পর রুবেল পারভেজের মুখোমুখি হয়ে সাদিয়া খালিদ রীতি অনুভূতি ব্যক্ত করলেন— 

চলচ্চিত্র সমালোচক হিসেবে বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো আপনি বার্লিনালে ট্যালেন্ট ক্যাম্পাসে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। নিয়ে শুরুতেই আপনার অনুভূতি জানতে চাই?

আমি খুবই আনন্দিত গর্বিত বোধ করছি। কারণ চলচ্চিত্রের এত তাত্পর্যপূর্ণ একটি উৎসবের আন্তর্জাতিক একটি বোর্ড, যারা খুবই নিরপেক্ষভাবে তাদের মতামত দেন এবং সে ধারাবাহিকতায় আমাকে তাদের অভিজ্ঞতা থেকে মূল্যায়ন করেছেন। সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে কারণে, আমার কাজের ওপর মূল্যায়নের ভিত্তিতেই তারা আমাকে মনোনীত করেছেন। বিষয়টি সত্যিই আমার কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি বলে মনে হয়।

বার্লিনালে ট্যালেন্ট ক্যাম্পাসের ১৮তম আয়োজনেরফিল্ম ক্রিটিকসবিভাগে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। দেশীয় চলচ্চিত্রের জন্য এর গুরুত্ব কতখানি বলে মনে করেন আপনি?

দেশের তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতারা একটু একটু করে বিশ্ব চলচ্চিত্র আঙিনায় এগিয়ে চলছেন এবং নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখছেন। প্রতিভাবান এসব নির্মাতার কাজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতি পেলে তা দেশীয় চলচ্চিত্রের জন্য বিরাট অর্জন হবে। কিন্তু স্বীকৃতি অর্জনের পথে একটা দুর্বলতা হলো, বার্লিন, কান ভেনিসের মতো বিশ্বের সবচেয়ে বড় উৎসবগুলোর জুরি বোর্ডে আমাদের দেশের প্রতিনিধিত্ব নেই। অথচ জুরি বোর্ডই নির্ধারণ করে কোনটি সেরা ছবি হিসেবে নির্বাচিত হবে। এক্ষেত্রে আমরা যদি আমাদের কণ্ঠস্বরকে না তুলে ধরতে পারি তাহলে আমাদের চলচ্চিত্র সেই অর্থে মূল্যায়িত হবে না। কারণ বাইরের দেশের বিচারকরা তাদের দৃষ্টিকোণ থেকেই আমাদের ছবির বিচার করেন। আমাদের প্রেক্ষাপট তারা কখনো অনুধাবন করেন না। কারণে আন্তর্জাতিক এমন আয়োজনে আমাদের ধরনের উপস্থিতি বেশ গুরুত্ব বহন করে।


পৃথিবীর অন্য অনেক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রোগ্রামেফিল্ম ক্রিটিকসবিভাগটি আছে। সেগুলো থেকে বার্লিনালে ট্যালেন্ট ক্যাম্পাসের আওতাধীন বিভাগের পার্থক্য কোথায়?

প্রথমত, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় তিনটি চলচ্চিত্র উৎসবের একটি ধরা হয় বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালকে। ফেস্টিভ্যালের গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফর্ম বার্লিনালে ট্যালেন্ট ক্যাম্পাসে রয়েছে চলচ্চিত্র সমালোচকদের জন্য আলাদা একটি বিভাগ। তাছাড়া অন্য যাদের ধরনের বিভাগ রয়েছে, তা খুব বেশি জোরালো নয়। কারণে বার্লিনালে ট্যালেন্ট ক্যাম্পাসের দিকেই সবচেয়ে বেশি নজর থাকে সবার।

ফিল্ম ক্রিটিক হিসেবে আপনি যে জায়গাটা তৈরি করেছেন এবং যার বদৌলতে আপনার এই অর্জন দুইয়ের সংমিশ্রণ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত আগামী প্রজন্মের জন্য কেমন ভূমিকা রাখতে পারে?

একটি দেশের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে চলচ্চিত্র সমালোচকদের প্রয়োজন বাড়ে। যেহেতু আমাদের ছবির পরিসর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়ছে, সেহেতু চলচ্চিত্র সমালোচনার জায়গাটাও উন্মুক্ত হয়ে গেছে। আমরা যারা চলচ্চিত্র সাংবাদিক, চলচ্চিত্র সমালোচক চিত্রনাট্যকার হিসেবে কাজ শুরু করেছিলাম, তখন কিন্তু রকম উদাহরণ আমাদের সামনে আসেনি। কারণে এত বড় কিছুতে অবদান রাখার কথা স্বপ্নেও ভাবিনি। কিন্তু এখন আমাদের অর্জনের ঝুলিতে যা যুক্ত হচ্ছে, তাতে অনুপ্রাণিত হয়ে আগামী প্রজন্ম অবশ্যই বড় বড় চলচ্চিত্র উৎসবে সিদ্ধান্ত দেয়ার মতো জায়গাগুলোয় পৌঁছতে সক্ষম হবে।

পথ চলায় আর কোন অপূর্ণতাকে জয় করতে চান?

একটু আগে বলেছি, সবচেয়ে বড় উৎসবগুলোর বিচারকদের আসনে বাংলাদেশের অবস্থান প্রায় শূন্য। আমি এখন পর্যন্ত যেসব বড় উৎসবে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছি, সেগুলো ছিল ক্রিটিক জুরি হিসেবে। কিন্তু একদিন যদি খ্যাতনামা এসব উৎসবের মেইন কম্পিটিশনে জুরি হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাই তাহলে আমার অনেকদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ হবে। আমি সে লক্ষ্যেই নিজেকে তৈরির চেষ্টা করছি। অন্যদিকে আমি চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ করছি এবং অন্য অনেকের স্ক্রিপ্ট নিয়ে কনসালট্যান্সি করছি। নিয়ে কাজ করতে গিয়ে মনে হয়েছে, অনেকেই পরামর্শক হিসেবে আমার পরামর্শ নিতে অনীহা বোধ করেন। আমার মনে হয়, নিয়ে অনেকের জড়তা আছে। অথচ এগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ তৈরি হলে ছবির গল্প শক্তিশালী হবে। কারণে আমার আরেকটা ইচ্ছা হলো, স্ক্রিপ্ট নিয়ে একটা পেশাদারিত্বের পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং ভালো স্ক্রিপ্ট নিয়ে কাজ করা।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন