শনিবার| ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২০| ১৫ফাল্গুন১৪২৬

সম্পাদকীয়

কুমিল্লা-নোয়াখালী সড়ক

চার লেনে উন্নীতকরণে ভোগান্তির শেষ কবে?

আমিনুল ইসলাম মিলন

স্কুলজীবনে পাটিগণিতে অংক কষেছিলাম—‘একটি কাজ তিনজন শ্রমিক একদিনে করিতে পারিলে একজন শ্রমিক উক্ত কাজ কত দিনে করিতে পারিবে অথবা একজন শ্রমিকের একটি কাজ করিতে তিনদিন লাগিলে তিনজন শ্রমিকের উক্ত কাজ করিতে কতদিন লাগিবে।অংক কঠিন নয়, মোটামুটি সোজা। কিন্তু সোজা অংকই আবার জীবনের সব ক্ষেত্রে মেলে না। পদ্মা সেতুর মতো জটিল, ঝুঁকিপূর্ণ প্রকৃতির ওপর অনেকটা নির্ভরশীল নির্মাণকাজে অংক খাটে না। তাই পদ্মা সেতু নির্মাণের সময়সীমা কেবলই বাড়ছে। সর্বশেষ তারিখ ২০২১ সালের জুন। কিন্তু কুমিল্লা-নোয়াখালী চার লেন আঞ্চলিক মহাসড়কের ক্ষেত্রে অংক অনেকটাই প্রযোজ্য। এটি একটি সড়ক, সমতল ভূমিতে; কোনো পাহাড় কাটতে হবে না, দিতে হবে না কোনো নদীতে বাঁধ। কোনো বিরূপ পরিস্থিতির (যেমনটি একসময় পার্বত্য চট্টগ্রামের নির্মাণকাজে হতো) মধ্য দিয়ে যেতে হবে না। রাস্তা আছে, এটাকে শুধু চওড়া করতে হবে। পুল-কালভার্ট বড় করতে হবে, রাস্তার মাঝে আইল্যান্ড তৈরি করতে হবে। বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো বর্তমান অবস্থান থেকে সরিয়ে নতুন স্থানে স্থাপন করতে হবে ইত্যাদি। এটি কোনো হাই-টেক প্রজেক্ট নয়। বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের কাজ করার দক্ষতা অভিজ্ঞতা সবই আছে। তার পরও চার লেন নির্মাণ প্রকল্প কেন বিলম্বিত হচ্ছে, সেটাই প্রশ্ন। কেন জনগণের ভোগান্তির শেষ হচ্ছে না?

রাস্তা, যা বর্তমানে মহাসড়ক নামে অভিহিত হতে যাচ্ছে, তার জন্ম খুব বেশিদিন হয়নি। একসময় এটি মূলত একটি গ্রামীণ রাস্তা ছিল। কুমিল্লা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার (বিশ্ব রোড) থেকে সোজা পশ্চিমে কুমিল্লা-চাঁদপুর রাস্তার লালমাই থেকে দক্ষিণে বাঘমারা বাজার, লাকসাম, সোনাইমুড়ি হয়ে বেগমগঞ্জ চৌরাস্তা পর্যন্ত রাস্তাটি বিস্তৃত। পাকিস্তান আমলে এটি একটি গ্রাম্য রাস্তা হিসেবেই বিবেচিত হতো। রাস্তাটির ব্যবহারও ছিল একান্ত সীমিত। ইঞ্জিনচালিত যানবাহনও খুব একটা চলত না। তবে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুুদ্ধের সময় কুমিল্লা সেনানিবাস থেকে রাস্তা ধরেই পাকিস্তানি বাহিনী নোয়াখালীর পথে অগ্রসর হয়। কুমিল্লার নাথেরপেটুয়া বাজারের কাছে বিনয়ঘর গ্রামে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়। তারিখটি ছিল ১৯৭১ সালের ২১ এপ্রিল। সন্ধ্যা নাগাদ নোয়াখালী শহরে খবর আসে যে পাকিস্তানি বাহিনী সোনাইমুড়ি পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। ২২ তারিখ পাকিস্তানি বাহিনী নোয়াখালী শহরে প্রবেশ করে। মূলত সেই থেকেই রাস্তায় যানবাহন চলাচল শুরু হয়। প্রয়োজনে টুকটাক মেরামতও হয়। তবে যাত্রীবাহী বাস চলাচল শুরু হয় ২০০০ সালের পরে। প্রথম দিকে ঢাকা-লক্ষ্মীপুর, ঢাকা-রামগঞ্জ রুটের কিছু বাস রুটে চলাচল করত। দিন দিন সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে ঢাকা-মাইজদী-লক্ষ্মীপুর-রামগঞ্জ রুটের ৯০ শতাংশ বাস ব্যক্তিগত যানবাহন রুটেই চলাচল করে।

/১১-এর সরকারের সময় তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন রাস্তাটি প্রশস্তকরণের উদ্যোগ নেন। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার রাস্তাটির জনগুরুত্ব উপলব্ধি করে এটিকে চার লেনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১৭ সালের নভেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির (একনেক) এক সভায়কুমিল্লা (টমছম ব্রিজ) থেকে নোয়াখালী (বেগমগঞ্জ) আঞ্চলিক মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণশীর্ষক প্রকল্প অনুমোদিত হয়। অনুমোদিত ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল বা উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) অনুযায়ী প্রাক্কলিত ব্যয় হাজার ১৭০ দশমিক ৭৮ কোটি টাকা। তার মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য বরাদ্দ হাজার ১৪০ কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নকাল ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। কাজ শুরু হয় ২৩ এপ্রিল ২০১৮। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় দুই বছরেরও বেশি। যথার্থই যৌক্তিক। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আর মাত্র ছয় মাস বাকি আছে কিন্তু কাজের অগ্রগতি অত্যন্ত হতাশাজনক। মোট তিনটি ধাপে কাজটি হচ্ছে। প্রথম ধাপে কুমিল্লার টমছম ব্রিজ থেকে লালমাই পর্যন্ত। এর অগ্রগতি ৪৭ শতাংশ। দ্বিতীয় ধাপে লালমাই থেকে লাকসাম বাজার পর্যন্ত। মামলা অন্যান্য জটিলতায় এখানে এখনো কাজ শুরু হয়নি। দরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চলছে। তৃতীয় ধাপে লাকসাম  থেকে নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ চৌরাস্তা পর্যন্ত। এখানে কুমিল্লা জেলার অংশে কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক। প্রায় ৭৫ শতাংশ। তবে নোয়াখালী অংশে কাজের অগ্রগতি খুবই সামান্য, মাত্র ২০ শতাংশ।

সড়ক সেতুমন্ত্রীর নিজ জেলার রাস্তার নির্মাণকাজের যদি এই হাল হয়, তাহলে বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের সড়ক অবকাঠামো নির্মাণের পরিস্থিতি কেমন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। কিন্তু আমাদের সড়কমন্ত্রী তো খুবই পরিশ্রমী মন্ত্রী। শ্রম, মেধা দক্ষতার সমন্বয়ে বিগত দিনে তিনি সফল মন্ত্রী হিসেবে জনগণের কাছে প্রশংসিত। বিশেষ করে রেল সেতুমন্ত্রী থাকাকালে ঈদের সময়ে ট্রেনে ট্রেনে কিংবা বাস টার্মিনালে তার নিয়মিত মনিটরিং আজো লোকমুখে প্রশংসিত হচ্ছে। এতে জনগণের দুর্ভোগ কতটুকু কমেছে, সেটি বড় কথা নয়। কিন্তু জনগণ দেখেছে যে জনগণের নেতা দুর্ভোগ-কষ্টের সময় জনগণের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছেন। কত শতবার তিনি পদ্মাপাড়ে ছুটে যান কাজের অগ্রগতি দেখতে। সেজন্যই প্রকৃতির সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠে দিন দিন দৃশ্যমান হচ্ছেস্বপ্নের সেতু পদ্মা আমরা কুমিল্লা-নোয়াখালী চার লেন মহাসড়ক নির্মাণে সড়কমন্ত্রীর আরো নিবিড় মনিটরিং দাবি করছি।

উন্নয়নের প্রধান শর্তই হচ্ছে সঠিক পরিকল্পনা, নিবিড় মনিটরিং নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। কাজে বিলম্ব মানেই অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়। অপ্রীতিকর হলেও সত্য, বাংলাদেশের উন্নয়নকাজে সেটা সড়ক হোক, সেতু হোক বা অবকাঠামো, বাস্তবায়ন বিলম্বিত হয়। ব্যয়ভার বাড়ে, জনগণের টাকার অপচয় হয়; শুধু সততা, আন্তরিকতা, দক্ষতা এবং যথাযথ মনিটরিংয়ের অভাবে। বাংলাদেশে সব নির্মাণকাজে বিলম্বসময় বৃদ্ধি, বারবার সময় বৃদ্ধি একটি রুটিন সংস্কৃতি। কিন্তু কার্যাদেশ দেয়ার সময় সুস্পষ্টভাবে বলা থাকে, একমাত্র দৈব দুুর্বিপাক ছাড়া কাজের সময় বৃদ্ধি করা হবে না। বিলম্বে ঠিকাদারদের জরিমানা হবে ইত্যাদি। কিন্তু গত দু-তিন বছর তো দূরের কথা, মহান আল্লাহর রহমতে ২০০৯ সাল থেকে দেশে কোনো দৈব দুর্বিপাক সংঘটিত হয়নি বা দেখা যায়নি। তাহলে কাজে বিলম্ব কেন? কেন বারবার সময় বৃদ্ধি? কেন জনগণের এত ভোগান্তি?

আলোচ্য আঞ্চলিক মহাসড়ক বড় কোনো প্রকল্প নয়। কুমিল্লা (টমছম ব্রিজ) থেকে নোয়াখালী বেগমগঞ্জ চৌরাস্তা পর্যন্ত মাত্র ৫৯ কিলোমিটার। রাস্তার বর্তমান প্রস্থ হচ্ছে কুমিল্লার টমছম ব্রিজ থেকে লালমাই পর্যন্ত মিটার এবং লালমাই থেকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ চৌরাস্তা পর্যন্ত দশমিক ৩০ মিটার। চার লেনে নতুন রাস্তার প্রস্থ হবে ১৮ দশমিক ৫৫ মিটার। এতে সেতু আছে ১৫টি, কালভার্ট পুনর্নির্মাণ করতে হবে ১৬টি। প্রশস্তকরণ করতে হবে ১৬টি এবং ফুট ওভারব্রিজ হবে মাত্র তিনটি। কাজ বিলম্বের কারণ হিসেবে কর্তৃপক্ষ মামলা, নতুন হল বে-পাস নির্মাণ, বেশকিছু অংশে রিজিড পেভমেন্ট নির্মাণ, ইউটিলিটি শিফটিং, ইন্টারসেকশন উন্নয়নসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়েছে। বাংলাদেশের রাস্তাঘাট নির্মাণ-প্রশস্তকরণে মসজিদ-মন্দির-কবরস্থান-শ্মশান একটি বড় বাধা। রাজধানীর সোবহানবাগের মসজিদ গুলিস্তান গোলাপশাহ মাজার এর বড় প্রমাণ। সামরিক শাসন থাকায় এখানে জোড়াতালি দিয়ে একটি বিহিত করা গেছে। এছাড়া জমি অধিগ্রহণে মামলাও একটি বড় কারণ। সবকিছু মাথায় রেখেই উন্নয়ন কাজ হাতে নিতে হয় এবং বাস্তবায়ন করতে হয়।

যদি কর্তৃপক্ষ গোটা প্রকল্পটি প্রথম থেকেই একটি প্যাকেজ হিসেবে নিত, তাহলে এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান হতো। ফেসবুকে দেখলাম রাস্তার কুমিল্লা অংশে কার্পেটিং চলছে কিন্তু মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। সড়ক বিদ্যুৎ বিভাগ নিবিড় সমন্বয় করে কাজ করলে এসব সমস্যা হতো না।

নোয়াখালী অংশে কাজের অগ্রগতি এত কম কেন? বিলম্বের জন্য সরকারিভাবে উল্লিখিত কারণের বাইরে কোনো লুক্কায়িত কারণ আছে কি? যে দেশে ফুটপাতে পানের দোকান বসলে চাঁদা দিতে হয়, সে দেশে হাজার ১০০ কোটি টাকার নির্মাণকাজে চাঁদাবাজির কোনো গোপন রহস্য আছে কিনা, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তা তদন্ত করে দেখতে পারে। যদি না থাকে, তাহলে আলহামদুলিল্লাহ-শোকর আলহামদুলিল্লাহ। আর যদি থাকে তাহলে তার বিচার করবে কে? কেন আমাকে বাড়ি যেতে এত ধকল সইতে হয়? দুই বছর ধরে রাস্তায় চলাচল যে কী বেদনাদায়ক কষ্টকর, ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ কল্পনাও করতে পারবে না। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নের ফলে আঞ্চলিক মহাসড়ক দিন দিন গুরুত্বর্পূণ হয়ে উঠছে। অন্যদিকে ঢাকা থেকে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, রামগঞ্জ, রামগতি এলাকার এসি, নন-এসি বাস, ট্রাক, প্রাইভেট কারসহ বিপুল যানবাহন এখন রাস্তায় চলাচল করে। জনগণের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক জ্যামমুক্ত হওয়ায় মানুষের গমনাগমন বেড়েছে। সারা দেশে ডমেস্টিক ট্যুরিজম দিন দিন বাড়ছে। তাই নির্ধারিত সময়ে আঞ্চলিক মহাসড়কটির চার লেনের নির্মাণকাজ শেষ করা প্রয়োজন। এটি লক্ষ্মীপুর নোয়াখালীবাসীর প্রাণের দাবি।

কিন্তু এখন শোনা যাচ্ছে, বাঘমারা বাজার লাকসাম উপশহরের মাঝ দিয়ে যেহেতু চার লেন করতে গেলে ব্যাপক পুনর্বাসনের প্রয়োজন হবে, তাই দুই জায়গায় দুই লেন রাস্তা হবে। বাকি দুই লেনের জন্য জমি অধিগ্রহণপূর্বক বিকল্প বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা হবে। এজন্য জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এখানে প্রশ্ন, ২০১৭ সালের নভেম্বরে একনেকে প্রস্তাবটি ওঠার বহু আগে থেকেই বাঘমারা বাজার লাকসাম উপশহরের অস্তিত্ব ছিল। এর মাঝখান দিয়ে ১৮ দশমিক ৮৫ মিটার চওড়া রাস্তা করতে গেলে যে দুই জায়গায় ব্যাপক পুনর্বাসন করতে হবে, প্রকল্প রচয়িতাদের মাথায় কি তা ঢোকেনি? তখন দুটি স্থানে বহুতল ভবন/হাসপাতাল/স্কুল/মসজিদ/মাদ্রাসা অবস্থিত ছিল না? তখন কেন বিকল্প বাইপাস সড়ক নির্মাণের চিন্তা মাথায় আসেনি? এখন যখন প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষের দিকে, তখন কেন সিদ্ধান্ত? ব্যর্থতার দায় কে নেবে? অন্যদিকে এখন নতুন বাইপাস সড়ক করার জন্য জমি অধিগ্রহণ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। আর্থিক দিকটা তো আছেই। ভারত ভূখণ্ডে জমি অধিগ্রহণের কাহিনী খুব সুখকর নয়। অধিগ্রহণের সঙ্গে আর্থিক দুর্নীতির নানা কাহিনী শোনা যায়। ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ জানে না। এখন যদি বাঘমারা লাকসাম উপশহরকে এড়িয়ে দুই লেনের আলাদা বাইপাস সড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়, তাহলে যথাশিগগির ভূমি অধিগ্রহণ দ্রুততার সঙ্গে বাইপাস নির্মাণ সম্পন্ন করে টোটাল প্রজেক্টটির বাস্তবায়ন সম্পূর্ণ করাই সময়ের দাবি। এক্ষেত্রে যত দ্রুততার সঙ্গে কাজটি সম্পন্ন করা যায়, ততই জনকল্যাণ জনমঙ্গল। আর দ্রুততা দক্ষতার সঙ্গে কাজটি সম্পন্ন করতে হলে নিবন্ধের শুরুতে উল্লিখিত পাটিগণিতের অংকের বিকল্প নেই।

 

আমিনুল ইসলাম মিলন: সাবেক প্রধান তথ্য কর্মকর্তা

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন