মঙ্গলবার| জানুয়ারি ২১, ২০২০| ৮মাঘ১৪২৬

শেষ পাতা

প্রধানমন্ত্রীর তিনদিনের আবুধাবি সফর সমাপ্ত

বণিক বার্তা ডেস্ক

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) তিনদিনের সরকারি সফর শেষে গতকাল বিকালে দেশের উদ্দেশে আবুধাবি ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে আবুধাবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান। গতকাল রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটির অবতরণের কথা। খবর বাসস।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবুধাবি সফরকালে স্থানীয় শাংগ্রি-লা হোটেলে অবস্থান করেন। সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার সকালে আবুধাবি ন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারের আইসিসি হলে (এডিএনইসি) আবুধাবি সাসটেইনেবিলিটি উইক ২০২০ এবং জায়েদ সাসটেইনেবিলিটি প্রাইজ সেরিমনিতে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন বিকালে ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েম, এমিরেটস ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (ইএনওসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ হুমাইদ আল ফালাসি এবং দুবাইয়ের শাসক পরিবারের সদস্য শেখ আহমেদ দালমুক আল মকতুম এমএকে পৃথকভাবে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিশিষ্ট ব্যবসায়ীদের একটি দলও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। একই দিনে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে (আগের সমঝোতা স্মারকের সঙ্গে সংযুক্তি) ইএনওসি এবং বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি খনিজ সম্পদ বিভাগের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় কর্মরত নয় বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূতকে নিয়ে এক দূত সম্মেলনে অংশ নেন।

এরপর গতকাল বিকালে দাহরানভিত্তিক সৌদি আরবের জাতীয় তেল প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি সৌদি অ্যারামকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সৌদি আরবের ইউটিলিটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান এসিডব্লিউএ পাওয়ারের চেয়ারম্যান হোটেল   শাংগ্রি-লার সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী দ্য ক্রিটিক্যাল রোল অব উইমেন ইন ডেলিভারিং ক্লাইমেট অ্যাকশন শীর্ষক একটি সাক্ষাত্কার সেশনে অংশ নেন।

রাষ্ট্রদূতদের প্রতি মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের নির্দেশ: মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূতদের নিয়ে সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার, দেশীয় পণ্যের নতুন বাজার সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে সাংবাদিকদের জানান, সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার, বাংলাদেশী পণ্যের নতুন বাজার সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে।

শেখ হাসিনা একই সঙ্গে রাষ্ট্রদূতদের প্রতি তাদের কূটনৈতিক দক্ষতা কাজে লাগিয়ে প্রতিবেশী অন্যান্য বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর মধ্যে যেকোনো ভুল বোঝাবুঝি মীমাংসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সে ধরনের পরিস্থিতিতে বৈদেশিক সম্পর্ক জোরদার হবে, তবে তা হতে হবে সংলাপের মাধ্যমে।

শাংগ্রি-লা হোটেলে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাজ করার সময় মনে রাখতে হবে, বিশ্বটাকে এখন বৈশ্বিক পল্লী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখানে একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। তাই প্রত্যেককে একে অন্যের সহযোগিতা বাড়ানোর মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী প্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা সংরক্ষণ, সেই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সর্বাধিক রেমিট্যান্স প্রেরণের কথা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশী শ্রমিকরা প্রায়ই প্রতারণার শিকার হন। তাদের প্রত্যেকেরই নিরাপত্তার জন্য সম্মিলিত সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে। সময় বিদেশে চাকরিপ্রার্থী কোনো ব্যক্তি যাতে প্রতারণার শিকার না হন, সেজন্য ব্যাপক প্রচারণার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের জন্য যে পররাষ্ট্রনীতি রেখে গেছেন, তার মূল কথা হলো, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে শত্রুতা নয়।

তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিকে একসময় বিদেশী দাতাদের ঋণের ওপর নির্ভর করতে হতো। অবস্থা থেকে অর্থনীতিকে নতুন মর্যাদায় উন্নীত করতে দেশের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকার এখন ব্লু ইকোনমি নিয়ে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি এখন বদলে গেছে। বাংলাদেশ আগের অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসেছে। এখন আমরা কোনো দাতাকে ডাকি না। বরং আমরা উন্নয়ন অংশীদার চাই।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী . কে আব্দুল মোমেন, প্রবাসী কল্যাণ বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এবং পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যের নয়টি দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূত সম্মেলনে অংশ নেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন