সোমবার | আগস্ট ০৩, ২০২০ | ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭

খবর

গভর্নরের সঙ্গে ডিসিসিআই নেতাদের সাক্ষাৎ

প্রকৃত ঋণখেলাপি চিহ্নিতকরণে সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি প্রণয়নের তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

খেলাপি ঋণ কমাতে ইচ্ছাকৃত অনিচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি চিহ্নিতকরণে একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি প্রণয়নের তাগিদ দিয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) নেতারা। ব্যবসায়ীদের পরামর্শকে সাধুবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, ঋণখেলাপি চিহ্নিতকরণে আইনে সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা রয়েছে। তবে সত্যিকারের ঋণখেলাপি চিহ্নিতকরণে ব্যাংকগুলোর যত্নবান হওয়া প্রয়োজন।

গতকাল ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদের নেতৃত্বে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন। সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের মুক্ত আলোচনায় ডিসিসিআই পরিচালক আন্দালিব হাসান, আরমান হক, নূহের লতিফ খান এবং ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী অংশ নেন। ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি এনকেএ মবিন, পরিচালক দীন মোহাম্মদ, এনামুল হক পাটোয়ারী, ইঞ্জিনিয়ার মো. আল আমিন, মনোয়ার হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার শামসুজ্জোহা চৌধুরী এবং এসএম জিল্লুর রহমান সময় উপস্থিত ছিলেন।

শামস মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ শতাংশ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে না। পাশাপাশি বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের হারে নিম্নমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে, যেটি ২০১৯ সালের নভেম্বরে ছিল দশমিক ৮৭ শতাংশ। যা সুদের উচ্চহারের একটি অন্যতম কারণ।

ডিসিসিআই সভাপতি বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ স্থবিরতা কাটানোর জন্য ব্যবসা-সহায়ক পরিবেশ উন্নয়নের পাশাপাশি ব্যাংকঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নিয়ে আসার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানান এবং সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, অন্যান্য তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যস্থতায় চলতি বছরের এপ্রিল থেকে এটি কার্যকর করার জন্য সবার সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ কমাতে ইচ্ছাকৃত অনিচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি চিহ্নিতকরণে একটি সুনিদিষ্ট পদ্ধতি বের করা প্রয়োজন।

শামস মাহমুদ বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে সংশ্লিষ্ট নীতিমালার প্রয়োজনীয় সংস্কার, বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার ১৯৭২-এর ৪২(সি) এবং ৪৬()-এর ধারা সংশোধনের আহ্বান জানান। এসএমই খাতকে দেশীয় শিল্পের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খাতের উদ্যোক্তাদের রফতানি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ঋণপ্রাপ্তির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।

ডিসিসিআই সভাপতি ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর সরকারের ঋণ গ্রহণের নির্ভরতা কমিয়ে আনতে অবকাঠামো উন্নয়ন শিল্প খাতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নিশ্চিতকল্পে বিকল্প উৎস হিসেবে পুঁজিবাজারে বন্ড প্রবর্তনের প্রস্তাব করেন। তিনি আরো বলেন, মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এক্ষেত্রে টাকার অবমূল্যায়নের চেয়ে সম্ভাবনাময় রফতানিমুখী খাতগুলোর টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে নগদ প্রণোদনা প্রদানের প্রস্তাব করেন তিনি।

ঢাকা চেম্বারের প্রতিনিধি দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বেশির ভাগ ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। অর্থনীতি, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়, জনগণের অবস্থার উন্নয়নে সরকার সিঙ্গেল ডিজিট হারে ঋণ সুবিধা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আশা করি, সংশ্লিষ্ট সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আগামী এপ্রিল থেকে সিঙ্গেল ডিজিটে ঋণ সুবিধা প্রদান করা সম্ভব হবে।

তিনি আরো বলেন, সরকার এরই মধ্যে বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং দেশের ব্যবসায়ী সমাজ সুযোগ গ্রহণ করে বিনিয়োগে এগিয়ে আসবে। যার মাধ্যমে বাংলাদেশ ২০৪১ সালে উন্নত দেশে পরিণত হতে পারবে।

খেলাপি ঋণের বিষয়ে ফজলে কবির বলেন, ইচ্ছা অনিচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি চিহ্নিতকরণে আইনে সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা রয়েছে। তবে কোনো উদ্যোক্তা যদি বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গ্যাস সংযোগ অথবা ব্যাংকঋণ প্রভৃতি সেবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে না পেয়ে থাকেন কিংবা কোনো উদ্যোক্তা ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হন, সেটি বিশেষ বিবেচনায় নেয়া যেতে পারে। কিন্তু সত্যিকারের ঋণখেলাপি চিহ্নিতকরণে ব্যাংকগুলোর যত্নবান হওয়া আবশ্যক। বন্ড মার্কেট নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর বলেন, সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) স্ট্যাম্প ডিউটি প্রত্যাহার করেছে, যা বাংলাদেশের বন্ড মার্কেট সম্প্রসারণে বিশেষ ভূমিকা রাখবে এবং দেশে একটি সেকেন্ডারি বন্ড মার্কেট চালু একান্ত জরুরি। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবর্তিত রফতানি উন্নয়ন ফান্ড (ইডিএফ)-এর যথাযথ ব্যবহারের জন্য ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রিফর্ম অ্যাডভাইজর এস কে সুর চৌধুরী বলেন, ব্যাংকিং ইকোসিস্টেম, সুষ্ঠু আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং প্রাক্কলিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিনিয়ত নীতি সহায়তা প্রদান করছে এবং সামনের দিনগুলোতে ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন