রবিবার | জুলাই ১২, ২০২০ | ২৮ আষাঢ় ১৪২৭

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

অর্থনীতি রক্ষায় সম্ভাব্য সব কিছুর জন্য প্রস্তুত চীন

বণিক বার্তা ডেস্ক

২০২০ সালে অর্থনীতি রক্ষায় যেকোনো কিছুর জন্য প্রস্তুত চীনা সরকার। তবে সরকারের সামনে অনেক বড় কিছু চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। বেইজিং এটা স্পষ্ট করেছে যে তারা আর মন্দা ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই হজম করার মতো জায়গায় নেই। ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণ, অভ্যন্তরীণ চাহিদায় শ্লথগতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধে গভীর সংকটে রয়েছে চীনের অর্থনীতি।

সরকার তাদের ১৩তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় দারিদ্র্য বিমোচন মোটামুটি সমৃদ্ধ একটি সমাজ গঠনের অঙ্গীকার করেছে। চীনের সবচেয়ে ক্ষমতাবান সাত ব্যক্তি (কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য) গত সপ্তাহে জানান, ওই অঙ্গীকার পূরণে ২০২০ সালেই প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

শুল্ক হ্রাস থেকে শুরু করে সুদহার কর্তনসহ গত কয়েক সপ্তাহে সরকার একের পর এক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করছে। চলমান পরিস্থিতি বর্ণনায় কর্তৃপক্ষের ভাষার মধ্যেও উদ্বেগের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। চীনের স্টেট কাউন্সিল গত মাসে স্থানীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়, চলতি বছরে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই ঠেকাতে যেন প্রয়োজনীয় সব চেষ্টা চালায় তারা। সরকারের শীর্ষ নীতিগত অগ্রাধিকার কোনটি কেন্দ্র সরকারের নির্দেশনায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

প্রধান প্রশাসনিক কার্যালয় এমনকি সতর্ক করে বলছে, যদি বেকারত্ব রকম বাড়তেই থাকে, তাহলে দেশে বড় ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটবে। সামাজিক অস্থিরতা দাঙ্গা-হাঙ্গামা বোঝাতে ধরনের ভাষা ব্যবহার করে চীনের শাসকগোষ্ঠী। কর্মসংস্থানের চাকা সচল রাখতে কয়েক বছর ধরে বার্ষিক কোটি ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে বলে দাবি সরকারের।

কয়েক বছর ধরে যদিও চীনের বেকারত্ব হার থেকে শতাংশের মধ্যে রয়েছে, তবে শ্লথগতির অর্থনীতি এবং সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায় চিন্তিত সরকার।

হংকং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির প্রফেসর ইমেরিটাস ডেভিড জুয়েগ বলেন, অভ্যন্তরীণ ঋণ ফুলেফেঁপে ওঠার চেয়েও সামাজিক অস্থিরতা নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন বেইজিং। একটা পর্যায়ে এটা সরকারের একটি অগ্রাধিকারে জায়গা করে নিয়েছে।

ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা হংকং বিক্ষোভে অর্থনীতিতে ধস নেমেছে। গত নভেম্বরে স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, এক দশকের মধ্যে প্রথম মন্দায় পড়তে যাচ্ছে বাণিজ্য নগরীটি। যদিও বিক্ষোভে বৃহত্তর গণতন্ত্র নিশ্চিতের দাবি প্রধান দাবিতে পরিণত হয়েছে, তবে উচ্চ আবাসন ব্যয়, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ শ্রমবাজারের মতো অর্থনৈতিক কারণগুলো বিক্ষোভে জ্বালানির জোগান দিচ্ছে। শহরটির বড় একটা অংশ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক হতাশা বিরাজ করছে এবং মূলত তারাই বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিচ্ছে।

চীনবিষয়ক রাজনৈতিক ভাষ্যকার হংকং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির সহযোগী অধ্যাপক ফ্রাংক চিং বলেন, (চীনের জন্য) ২০২০ সাল খুব কঠিন হতে যাচ্ছে এবং ব্যাপক বেকারত্ব সবচেয়ে ভয়ের কারণ হতে যাচ্ছে। এটা শুধু অর্থনৈতিক ইস্যুই নয় বরং তা রাজনৈতিক ইস্যুতেও পরিণত হতে পারে।

অর্থনীতিতে মারাত্মক শ্লথগতি চীনে ব্যবসায় ব্যর্থতায় বড় আকারের বেকারত্ব দেখা দিতে পারে। এতে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে, যা চীনের ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীকে নাড়িয়ে দিতে পারে।

প্রধান রাজনৈতিক ব্যবসায়িক ব্যক্তিত্বরাও অর্থনীতি নিয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গত মাসের শেষ দিকে চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ঝং শ্যান দেশের জনগণকে সতর্ক করেন, তারা যেন তাদের বেল্ট ভালো করে আটকায় এবং সামনে কঠিন একটি বছরের জন্য প্রস্তুত থাকে।

আগামী শুক্রবার দেশটি গত বছরের প্রবৃদ্ধির উপাত্ত প্রকাশ করতে যাচ্ছে। তবে সর্বশেষ প্রাপ্ত উপাত্ত অনুসারে তৃতীয় প্রান্তিকে দেশটির প্রবৃদ্ধি ছিল ১৯৯২-পরবর্তী সর্বনিম্ন।

সূত্র: সিএনএন বিজনেস

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন