শনিবার| জানুয়ারি ১৮, ২০২০| ৫মাঘ১৪২৬

শেয়ারবাজার

চার কার্যদিবস

গ্রামীণফোনের বাজার মূলধন কমেছে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক

নতুন বছরের প্রথম দুই কার্যদিবস দেশের পুঁজিবাজারে সামান্য উত্থান হলেও তৃতীয় কার্যদিবস থেকেই টানা পতনের মুখে পড়েছে বাজার। মাত্র চার কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন কমেছে ১৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। আর এ সময়ে টেলিকম খাতের বহুজাতিক কোম্পানি গ্রামীণফোনের বাজার মূলধন কমেছে ৩ হাজার ১৩২ কোটি টাকা। মূলত টেলিকম খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির সঙ্গে রাজস্ব নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে গ্রামীণফোনের শেয়ারদরে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে গ্রামীণফোনের বাজার মূলধন ছিল ৩৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা, যা সর্বশেষ গতকাল পর্যন্ত ৩৫ হাজার ৬৭ কোটি টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে। গতকাল একদিনেই শেয়ারটির দর কমেছে ৬ দশমিক ১০ শতাংশ। গ্রামীণফোনের পাশাপাশি গতকাল ফ্রি ফ্লোট বাজার মূলধনের দিক দিয়ে শীর্ষ আরো পাঁচ কোম্পানির শেয়ারদর উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এর মধ্যে স্কয়ার ফার্মার ৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ, বিএটিবিসির ১ দশমিক ৪০ শতাংশ, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ৩ দশমিক ১৬ শতাংশ, পূবালী ব্যাংকের ২ দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের ৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ শেয়ারদর কমেছে। আর বড় মূলধনি এসব কোম্পানির শেয়ারের দরপতনের প্রভাবে গতকাল ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৫৩ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ২৪ শতাংশ কমে ৪ হাজার ২২৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

ডিএসইর প্রধান সূচকের পাশাপাশি শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস দিনের ব্যবধানে ১৯ পয়েন্ট কমে গতকাল ৯৫৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ব্লুচিপ সূচক ডিএস-৩০ এদিন প্রায় ১৫ পয়েন্ট কমে দিন শেষে শেষে ১ হাজার ৪২১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএসইর চীনা সূচক সিডিএসইটি প্রায় ১০ পয়েন্ট কমে গতকাল দিন শেষে ৪৫১ পয়েন্টে এসে দাঁড়িয়েছে।

গতকাল ডিএসইতে সূচক কমার পাশাপাশি দৈনিক গড় লেনদেনও কমেছে। গতকাল এক্সচেঞ্জটিতে ২৮০ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৩২৭ কোটি টাকায়। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৫১টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দিন শেষে দর বেড়েছে ৫১টির, কমেছে ২৪৯টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৫১টি সিকিউরিটিজের বাজারদর।

খাতভিত্তিক লেনদেন চিত্রে দেখা যায়, ডিএসইর লেনদেনের মোট ১২ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে প্রকৌশল ও ব্যাংক খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১ শতাংশ দখলে নিয়েছে ওষুধ খাত। ডিএসইর লেনদেনের ৯ শতাংশ করে দখলে নিয়ে তৃতীয় স্থানে ছিল বস্ত্র ও সাধারণ বীমা খাত। আর ৮ শতাংশ দখলে নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাত।

স্টক এক্সচেঞ্জটিতে গতকাল লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ সিকিউরিটিজ ছিল লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, এডিএন টেলিকম, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকস, ব্র্যাক ব্যাংক, কেপিসিএল, নর্দান জুট, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ও বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস।

ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকার কোম্পানিগুলো হলো এডিএন টেলিকম, দুলামিয়া কটন, ন্যাশনাল ফিড, এমারেল্ড অয়েল, ফার্স্ট ফিন্যান্স, জিল বাংলা, অলিম্পিক ও ব্র্যাক ব্যাংক।

অন্যদিকে গতকাল দর কমার দিক দিয়ে শীর্ষ কোম্পানিগুলো হচ্ছে মেঘনা পিইটি, আনলিমা ইয়ার্ন, বিচ হ্যাচারি, নর্দার্ন জুট, প্রাইম টেক্সটাইল, সিএপিএমআইবিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড, মিথুন নিটিং ও এসএস স্টিল।

দেশের আরেক শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক সিএসসিএক্স দিনের ব্যবধানে প্রায় ৭৫ পয়েন্ট কমে ৭ হাজার ৮০৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৭ হাজার ৮২১ পয়েন্টে। সিএসইতে গতকাল লেনদেন হওয়া ২১৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৪৭টির দর বৃদ্ধির বিপরীতে দর হারিয়েছে ১৪৬টি আর অপরিবর্তিত ছিল ২৬টির বাজারদর।

পুঁজিবাজারের উন্নয়নে প্রস্তাব বাস্তবায়নের কাজ সমন্বয় ও তদারকির জন্য কমিটি গঠন: গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর পুঁজিবাজারের উন্নয়নে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে অংশীজনদের মতবিনিময় সভায় যেসব প্রস্তাব এসেছে সেগুলোর বাস্তবায়নের কাজ সমন্বয় ও তদারকির জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠা বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। কমিটির সমন্বয়কের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাকসুরা নূরকে। কমিটিতে সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) একজন করে নির্বাহী পরিচালক এবং ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক দায়িত্ব পালন করবেন। আর এ কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব ড. নাহিদ হোসেনকে।

কমিটির কার্যপরিধির বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কমিটি প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট কর্মপন্থা প্রণয়নসহ সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করবে। বাস্তবায়ন সংক্রান্ত অগ্রগতির বিষয়ে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে মনিটরিং করবে এবং সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবে। প্রয়োজনবোধে কমিটিতে যেকোনো সংস্থার প্রতিনিধি কিংবা যেকোনো ব্যক্তিকে কো-অপ্ট করা যাবে। এ কমিটি পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরামর্শ ও আলোচনা করতে পারবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন