মঙ্গলবার| ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০| ৫ফাল্গুন১৪২৬

পণ্যবাজার

আবারো অস্থিতিশীল পেঁয়াজের বাজার, কেজিতে দাম বেড়েছে ৩০-৫০ টাকা

বণিক বার্তা ডেস্ক

টানা কয়েক দিন স্থিতিশীল থাকার পর হঠাৎ করে আবার দাম বেড়েছে পেঁয়াজের। একদিনের ব্যবধানে পাইকারি ও খুচরা বাজারে মসলাপণ্যটির দাম কেজিতে ৩০-৫০ টাকা বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় হঠাৎ করে আবার পেঁয়াজের দাম বেড়েছে।

দেশীয় নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ শুরু হওয়ায় কয়েক দিন ধরে দেশের বাজারে মসলাপণ্যটির দাম কমতে শুরু করে। তবে গতকাল হঠাৎ করে রাজধানীসহ বাজারসহ  দেশের খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে পেঁয়াজের দাম একযোগে বৃদ্ধি পায়। এর মধ্যে কারওয়ান বাজারে প্রতি কেজি দেশী পেঁয়াজ পাইকারি পর্যায়ে ১৬০ টাকা থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হয়, যা একদিন আগেও ১৪০ টাকায় বিক্রি করেছেন ব্যবসায়ীরা। আর চীন থেকে আমদানীকৃত পেঁয়াজ পাইকারিতে ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়, যা একদিন আগে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বেচাকেনা হয়েছে।

হঠাৎ করে দাম বৃদ্ধির বিষয়ে কারওয়ান বাজারে পেঁয়াজের পাইকারি ব্যবসায়ী রাব্বি বণিক বার্তাকে বলেন, কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা মূলত শ্যামবাজারের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পেঁয়াজ কিনে থাকেন। গতকাল (বৃহস্পতিবার) যে পেঁয়াজ ৪৫ টাকায় পাইকারি ব্যবসায়ীরা কিনেছেন। আজ (গতকাল) সেই একই পেঁয়াজ কিনতে হয়েছে ৫২ টাকায়। বাজারে চাহিদার তুলনায় পেঁয়াজের সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে বলে শ্যামবাজারের ব্যবসায়ীরা আমাদের জানিয়েছেন।

পাইকারির পাশাপাশি কারওয়ান বাজারে খুচরা পর্যায়ে গতকাল দাম বেড়ে প্রতি কেজি দেশী পেঁয়াজ ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়, যা একদিন আগেও ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

এদিকে গতকাল ঢাকার বাইরেও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে গতকাল পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি মিয়ানমারের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৩০ টাকায়। মাত্র দুদিন আগে অর্থাৎ গত বুধবারে বাজারে একই মানের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ৯০-১০০ টাকায়। সেই হিসাবে দুদিনের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ৪০ টাকা পর্যন্ত।

একইভাবে কেজিতে ২০-২৫ টাকা বেড়েছে পাকিস্তানি পেঁয়াজের দাম। গতকাল খাতুনগঞ্জে কেজি পাকিস্তানি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ১১০-১১৫ টাকা দরে, যা গত বুধবার পর্যন্ত ৮৫-৯০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে।

এছাড়া প্রথমবারের মতো হল্যান্ড থেকে আমদানীকৃত পেঁয়াজ গতকাল পাইকারিতে ১১৫ টাকা দরে বিক্রি হয়, যা একদিন আগে ছিল ৯০ টাকার নিচে। আর চীনা পেঁয়াজ দুদিন আগে বিক্রি হয় ৩০-৩৫ টাকার মধ্যে। কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেড়ে একই মানের পেঁয়াজ ৪৫-৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, ভারত সরকার পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়ার পর গত ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৩৭ হাজার টন এবং টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে ৫৭ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পেঁয়াজের বাড়তি সরবরাহে বেশি দামে পেঁয়াজ কিনে কম দামে বিক্রি করে লোকসান গুনতে হয়েছে অনেকের। যার কারণে আমদানি কমিয়ে দেন ব্যবসায়ীরা। ফলে আবারো সরবরাহ সংকটে দাম বেড়েছে।

খাতুনগঞ্জের কাঁচাপণ্য ব্যবসায়ী ও মেসার্স আলী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী জসিম উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, অস্থির বাজারে মুনাফার উদ্দেশ্যে ভারতের বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করেছেন ব্যবসায়ীরা। এই সময় সরবরাহ চাপে বাড়তি দামে আমদানি করা পেঁয়াজে লোকসান দিয়েছেন বহু ব্যবসায়ী। ফলে গত দু-তিন সপ্তাহ পেঁয়াজ আমদানি কমিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এতে বাজারে পণ্যটির আবার সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে মাত্র দুদিনের ব্যবধানে পণ্যটির দাম কেজিতে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

হিলি প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, গতকাল হিলিতে দেশীয় নতুন পেঁয়াজ পাইকারিতে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়, যা একদিন আগে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া চীন থেকে আমদানীকৃত বড় আকারের পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৭০ টাকা কেজি দরে, যা কিছুদিন আগে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

এছাড়া নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, গতকাল নগরীর দ্বিগুবাবুর বাজারে পাইকারিতে প্রতি কেজি দেশী পেঁয়াজ বেচাকেনা হয় ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি দরে। যা একদিন আগে ১১০ টাকা থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। সে হিসাবে দেশী পেঁয়াজ কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকা। আর চীনা পেঁয়াজ বেচাকেনা হয় ৮০ টাকা কেজি দরে। যা একদিন আগেও ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন