মঙ্গলবার | জুন ০২, ২০২০ | ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

প্রথম পাতা

পণ্য হ্যান্ডলিং

পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি চট্টগ্রাম বন্দরে

রাশেদ এইচ চৌধুরী চট্টগ্রাম ব্যুরো

সদ্য বিদায়ী বছরে পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে। তবে প্রবৃদ্ধির হার বিচারে এটি পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এ চিত্রকে উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন বন্দরসংশ্লিষ্টরা। 

কনটেইনারবাহী জাহাজ ও খোলা পণ্যবাহী বাল্ক কার্গোদুই ধরনের জাহাজে আসা পণ্য ওঠানামার ভিত্তিতে বন্দরের প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের ক্ষেত্রে পণ্য হ্যান্ডলিং গড়ে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধিকে আদর্শ হিসেবে ধরা হয়।

চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার ও খোলা পণ্য ওঠানামার চিত্র আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করেছে বণিক বার্তা। এতে দেখা যায়, চট্টগ্রাম বন্দরে ২০১৫ সালে খোলা পণ্য হ্যান্ডলিং হয়েছে ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৬৪ হাজার ৯২৯ টন। ২০১৬ সালে তা ৭ কোটি ৭২ লাখ ৫৫ হাজার ৭৩১ টন, ২০১৭ সালে ৮ কোটি ৫২ লাখ ৪৬ হাজার ৯৪৮, ২০১৮ সালে ৯ কোটি ৬৩ লাখ ১১ হাজার ২২৪ ও ২০১৯ সালে ১০ কোটি ৩০ লাখ ৭৭ হাজার টন খোলা পণ্য হ্যান্ডলিং হয়েছে।

সে হিসেবে ২০১৫ সালে ১৪ দশমিক ৬১ শতাংশ, ২০১৭ সালে ৯ দশমিক ৩৭, ২০১৮ সালে ১১ দশমিক ৪৯ ও ২০১৯ সালে ৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

অন্যদিকে ২০১৫ সালে ২০ লাখ ২৪ হাজার ২০৭ একক (প্রতিটি ২০ ফুট দীর্ঘ হিসেবে) কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। এরপর ২০১৬ সালে ২৩ লাখ ৪৬ হাজার ৯০৯ একক, ২০১৭ সালে ২৫ লাখ ৬৭ হাজার, ২০১৮ সালে ২৯ লাখ ৩ হাজার ৯৯৬ ও সর্বশেষ ২০১৯ সালে ৩০ লাখ ৮৮ হাজার ১৯৭ একক কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে বন্দরটি দিয়ে।

সে হিসেবে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে ২০১৬ সালে ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ২০১৭ সালে ৮ দশমিক ৫৭, ২০১৮ সালে ১১ দশমিক ৬০ ও সর্বশেষ ২০১৯ সালে ৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে চট্টগ্রাম বন্দর।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ও মুখপাত্র মো. ওমর ফারুক এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যের ওঠানামা বেড়েছে। কিন্তু বছরভিত্তিক প্রবৃদ্ধির হার বিবেচনায় আনলে সেটা কমেছে। বন্দরের পরিচালন কার্যক্রম গতিশীল করতে এরই মধ্যে বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় গ্যান্ট্রি ক্রেন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি এনে যুক্ত করা হয়েছে। এর সুফলও মিলেছে

চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্যমতে, ২০১৯ সালে মোট ৩ হাজার ৮০৭টি আন্তর্জাতিক জাহাজে করে পণ্য এসেছে চট্টগ্রাম বন্দরে। গত বছর ২০১৭ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৭৪৭। জাহাজ আগমনের হার সাধারণত ১১ শতাংশ হলেও ২০১৯ সালে তা ১ শতাংশে নেমে এসেছে। দেশে সরকারি ও বেসরকারি দুভাবেই পণ্য আমদানি হচ্ছে। সরকারিভাবে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্প ছাড়াও ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণ প্রকল্প রয়েছে পাইপলাইনে। এছাড়া অবকাঠামো খাতে পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্প, কর্ণফুলী টানেল, মেট্রোরেল, বিদ্যুৎ খাতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং জ্বালানি খাতের এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি খালাস হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরকে ব্যবহার করে।

প্যাসিফিক গ্রুপের পরিচালক সৈয়দ এম তানভীর এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বন্দরে পণ্য ওঠানামার চিত্র পাল্টেছে। রফতানি কমার নেতিবাচক প্রভাব চট্টগ্রাম বন্দরে পড়েছে। পোশাক খাতের রফতানি যে হারে কমছে তা অ্যালার্মিং। এ রকম আগে কখনো হয়নি। রফতানির এ শ্লথ গতি পুরো অর্থনীতিতে আঘাত হানতে যাচ্ছে। রফতানিতে সম্পৃক্ত অনেক বড় কারখানাও বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। এতে বেকারত্ব বেড়ে যাবে। এটা একটা চেইন রি-অ্যাকশন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন