শনিবার| ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২০| ১৫ফাল্গুন১৪২৬

শিল্প বাণিজ্য

জাল ই-মেইলে পোশাক রফতানির অর্থ লোপাটের চেষ্টা

বদরুল আলম

গত মে-জুন মাসে জাসটেক্স লিমিটেড থেকে নেদারল্যান্ডসে পোশাক পণ্য রফতানি করা হয়। রফতানির পর নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণের ধারাবাহিকতায় ক্রেতাকে পণ্য রফতানি ব্যাংকে নথি জমার বিষয়টি -মেইলে নিশ্চিত করতে হয়। প্রক্রিয়ার একপর্যায়ে ক্রেতা জাসটেক্স থেকে নতুন একটি -মেইল পান। সেখানে জাসটেক্সের ভিন্ন ব্যাংক হিসাব নম্বর দেয়া হয়। ক্রেতা অর্থ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে -মেইল করে। ক্রেতার পক্ষ থেকে আসা -মেইলটি যাচাই করতে গিয়ে জালিয়াতি করে অর্থ লোপাটের চেষ্টা ধরতে পারে জাসটেক্স কর্তৃপক্ষ।

শুধু জাসটেক্স নয়, সাম্প্রতিক সময় ধরনের আরো দুটি ঘটনা ঘটেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ সতর্কতা নোটিস জারি করেছে বিজিএমইএ।

জালিয়াতির অপচেষ্টার শিকার কারখানাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হলো -মেইল। পণ্যের নকশা থেকে শুরু করে অর্থ পরিশোধ-সংক্রান্তসহ সব বিষয়ে ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় -মেইলে। রফতানির পর অর্থ পরিশোধসংক্রান্ত আলোচনা শুরু হয়। সে সময় রফতানি নথি ব্যাংকে জমা দেয়া হয়েছে জানিয়ে অর্থ পরিশোধের আহ্বান জানানো হয় ক্রেতাকে। আর ওই সময়েই জাল -মেইল থেকে যোগাযোগ করা হয় ক্রেতার সঙ্গে।

গত মে-জুন মাসে জাসটেক্স লিমিটেড থেকে অর্থ পরিশোধসংক্রান্ত  আলোচনার একটা পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের নামে একটি জাল -মেইল আইডি থেকে ক্রেতাকে নতুন ব্যাংক হিসাব নম্বরে অর্থ পরিশোধ করতে বলা হয়। -মেইলের উত্তরে ক্রেতা জাসটেক্সকে একদিনের মধ্যেই ওই ব্যাংক হিসাবে অর্থ পরিশোধের কথা বলে। ক্রেতা ফিরতি -মেইলটি পাঠায় জাসটেক্সের প্রকৃত -মেইল ঠিকানায়। ক্রেতার উত্তরের -মেইলে যারা নিয়মিত সিসি বা অনুলিপি পান মেইলটি তাদের কাছে যায়নি। বিষয়টি জাসটেক্স মালিকপক্ষের নজরে এলে প্রেরক -মেইল ঠিকানাটি যাচাই করা হয়। তখনই জাল -মেইলের বিষয়টি ধরা পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাকে তা জানানো হয়।

এখন পর্যন্ত ধরনের তিনটি অভিযোগ এসেছে বিজিএমইএতে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ নেই, কারণ জাল -মেইলের আইপি অ্যাড্রেস বিদেশের। অর্থ লেনদেনের ব্যাপারে রফতানিকারকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংগঠনটি।

পোশাক রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান সূত্র জানিয়েছে, এলসি/টিটি/সেলস কন্ট্রাক্টসবগুলো মাধ্যমেই জালিয়াতির শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ক্রেতা সচেতন না হলে জাল অ্যাকাউন্ট থেকে আসা নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংকও অর্থ পরিশোধ করে ফেলতে পারে। কারণ ক্রেতা সরবরাহকারীর ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত তথ্য যাচাই অনেক আগেই সেরে ফেলা হয়। শুধু ব্যাংক হিসাব নম্বর পরিবর্তন হলে ক্রেতার নির্দেশ পেলে ব্যাংক আর সন্দেহ করে না।

গত ১৯ নভেম্বর সদস্যদের প্রতি বিশেষ সতর্কীকরণ নোটিস জারি করে বিজিএমইএ।

জানতে চাইলে জাসটেক্স লিমিটেডের কর্ণধার বিজিএমইএ পরিচালক ইকবাল হামিদ কোরেশী বণিক বার্তাকে বলেন, ভুয়া -মেইল ঠিকানা যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, আইপি অ্যাড্রেসটি যুক্তরাষ্ট্রের। ফলে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ মুহূর্তে আমাদের হাতে নেই। তাই সব সদস্যকে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সদস্য কারখানাগুলোর সবাই সংগঠনের নোটিসটি পেয়েছে। তারা ব্যাপারে সতর্ক আছে, এটি জানিয়েছে কিনা, সেটিও নিশ্চিত করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন