শনিবার | জুলাই ১১, ২০২০ | ২৬ আষাঢ় ১৪২৭

ফিচার

যে দেশে চাকরি হারালে আরো ভালো চাকরির সুযোগ মিলে

বণিক বার্তা অনলাইন

হঠাৎ চাকরিচ্যুত হওয়ার অভিজ্ঞতাটা কারও জন্যই নিশ্চয়ই সুখকর না। এতে আয় ও ক্যারিয়ারে যেমন প্রভাব পড়ে তেমনি আবার কিছু কিছু দেশে স্বাস্থ্যসেবা নিয়েও দুশ্চিন্তায় ফেলে দেয়। আমাদের দেশেও এমন ঘটনা হরহামেশাই ঘটে। চাকরি হারানোর পর একটা পরিবার কী দুর্বিষহ জীবনযাপন করে তা ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ অনুধাবন করতে পারবেন না। তবে বিষয়টা যদি এমন হয় যে- চাকরি হারানোর পর আপনি আরো ভালো পদে চাকরি পাচ্ছেন খুব সহজে। তাহলে নিশ্চয়ই বিষয়টা অন্যরকম।

আর এমনটাই হচ্ছে সুইডেনে। দেশটিতে চালু হয়েছে ‘ট্রান্সজিশন সিস্টেম’। এতে কাজ করছে ১৬টি বেসরকারি কল্যাণ সংস্থা এ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে। সংস্থাগুলো চাকরি হারানো ব্যক্তিকে আরো ভালো চাকরি পাইয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। তবে অদক্ষতার জন্য চাকরিচ্যুতির পর আপনাকে সাথে সাথেই আলাদা একটা চাকরি পাইয়ে দেবে ব্যাপারটা এমন না।

আরেকটু বিস্তারিত বলা যাক- কাজে আপনার দক্ষতা আছে। কিন্তু বাজারে ওই কাজের চাহিদা কমে এসেছে। ফলে কোম্পানিতেও আপনার প্রয়োজন ফুরিয়ে এসেছে। কোম্পানি তার অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করে আপনাকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করে দিল। এমতাবস্থায় আপনার সহযোগিতায় এগিয়ে আসবে সুইডেনের এই বেসরকারি কল্যাণ সংস্থাগুলো। এরা আপনাকে সমসাময়িক বাজার বিশ্লেষণ করে সেই অনুযায়ী দক্ষ করে তুলবে।

ধরা যাক, আপনি আগে টাইপ রাইটারের কাজ করতেন। বর্তমান সময়ে এ কাজ আনেকটাই অচল। এই সংস্থা গুলো আপনার মেধা,দক্ষতা, সৃজনশীলতা বিচার বিবেচনা করে সময়ের চাহিদানুযায়ী আপনাকে প্রশিক্ষণ দেবে। হতে পারে তা কম্পিউটার ওপারেটিং বা অন্য কিছু।

এমনটাই হয়েছিল ২৪ বছর বয়সী ইভার সাথে। তিনি ২০১৬ সালে কলেজ শেষ করে গ্রাফিক ডিজাইনার হিসাবে স্টকহোমে একটি চাকরি নেন। ভালোই যাচ্ছিল সময়। বিপত্তি বাঁধে ২০১৯ এর শুরুর দিকে। কোম্পানি তাকে অপ্রয়োজনীয় ভাবতে শুরু করলো। জুন মাসেই ছাড়তে হবে এই চাকরি। কর্মস্থল তার কাছে তিক্ত হতে লাগলো। তার সহকর্মীরাও নিজেদের নয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেল। দুশ্চিন্তায় ইভার নাওয়া, খাওয়া, ঘুম চলে গিয়েছিল। কী করবেন কিছুই ভেবে পাচ্ছিলেন না। তার আচরণে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছিল ওই সময়টাতে।

এমন সময় একদিন সহকর্মীদের সাথে কথা বলতে বলতে ইভা প্রথমবারের মতো ‘জব সিকিউরিটি কাউন্সিলের’ কথা জানতে পারেন। তিনি সময়ক্ষেপণ না করে সংস্থাটির শরণাপন্ন হলেন। প্রশিক্ষক দেখলেন ইভা প্রযুক্তিগত দক্ষতায় বেশ পিছিয়ে আছে। কাউন্সিল তাকে বার্গস স্কুল অফ কমিউনিকেশনে মোশন গ্রাফিক্সে আট সপ্তাহের একটি কোর্স করার সুযোগ করে দিলো।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন