শনিবার | নভেম্বর ২৮, ২০২০ | ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

প্রথম পাতা

ইংরেজি দক্ষতায় খুবই নিম্ন স্তরে বাংলাদেশ

সাইফ সুজন

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ আকতারুজ্জামান ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ভালাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান গত জুলাইয়ে। বিদ্যালয়টির চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ইংরেজি বইয়ের একটি অধ্যায় পড়তে দেন তিনি। একজন শিক্ষার্থীও সাবলীলভাবে তা পড়তে পারেনি।

শিক্ষার ভিত্তি পর্বের ইংরেজি দুর্বলতা থেকে যাচ্ছে পরবর্তী স্তরগুলোয়। মাধ্যমিক কিংবা কলেজ এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাও শেষ হচ্ছে ইংরেজিতে অদক্ষতা নিয়ে। আন্তর্জাতিক সমীক্ষাও বলছে, ইংরেজি দক্ষতায় বাংলাদেশের অবস্থান খুবই নিম্ন স্তরের। যদিও ব্যবসা, শিক্ষা, গবেষণা এমনকি বিদেশ ভ্রমণ সব ক্ষেত্রেই ভাষা হিসেবে ইংরেজির দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ।

পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে ভাষা সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এডুকেশন ফার্স্ট (ইএফ) ১১৬টি দেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানটি ২০১১ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জনগোষ্ঠীর ইংরেজি দক্ষতা বিষয়ে সূচক প্রকাশ করে আসছে। চলতি বছরের সূচকটি মাসেই প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রথম ভাষা ইংরেজি নয় এমন ১০০টি দেশের ২৩ লাখ মানুষের ওপর জরিপ চালিয়ে ইংরেজি দক্ষতা পরিমাপ করেছে তারা। প্রাপ্ত স্কোরের ভিত্তিতে দেশগুলোকে অতি উচ্চ, উচ্চ, মধ্যম, নিম্ন খুবই নিম্ন দক্ষ পাঁচ স্তরে ভাগ করা হয়েছে। ৪৮ দশমিক ১১ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশ রয়েছে তালিকার একাত্তরতম স্থানে, দক্ষতার শ্রেণী হিসেবে যা খুবই নিম্ন।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, প্রাথমিক স্তর থেকেই দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইংরেজিভীতি তৈরি হচ্ছে। মানসম্মত শিক্ষকের অভাব দুর্বল পাঠক্রমের কারণে পরবর্তী ধাপগুলোতে দুর্বলতা আর কাটিয়ে উঠতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। ইংরেজিতে দুর্বলতা নিয়েই শিক্ষাজীবন শেষ করছে তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ইমিরেটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, আমাদের দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যারা ইংরেজিতে পাঠদান করছেন, তাদের ইংরেজিতে দক্ষতা কোন পর্যায়ে রয়েছে, সেটি দেখতে হবে। শিক্ষকরাই যদি দুর্বল হন, তারা শিক্ষার্থীদের কী শেখাবেন? একদিকে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের অভাব, অন্যদিকে নিয়োগ পাওয়ার পরও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না করার ফলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে না।

কমিউনিকেটিভ পদ্ধতিতে ইংরেজি শিক্ষাদান পদ্ধতিকে ভুল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা ইংরেজি শিখেছি গল্প, কবিতা পড়ে। এখন পাঠ্যবইয়ে গল্প, কবিতা রাখা হয়েছে খুবই কম। ফলে ইংরেজি অনেক কঠিন একটা ভাষা ধরনের মনোভাব শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে, যা পরবর্তী সময়ে তাদের বিষয়ে দক্ষতা

--> এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন