শনিবার| ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২০| ১৫ফাল্গুন১৪২৬

সম্পাদকীয়

বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচার

সংশ্লিষ্ট নীতিমালার যথাযথ পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে

গত এক দশকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে চমকপ্রদ সাফল্য দেখা গেলেও রাজস্ব আহরণের দিক থেকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে পেছনের সারিতে রয়ে গেছে বাংলাদেশ। রাজস্ব আহরণে পিছিয়ে থাকার একটি বড় কারণ অর্থ পাচার। দেশ থেকে আশঙ্কাজনক হারে অর্থ পাচার বাড়ছে। আর এর ৮০ শতাংশই হচ্ছে বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে। গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ওভার ইনভয়েসিং আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচার হওয়া দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। থেকে অনুমান করা কঠিন নয়, অর্থ পাচারের ক্রমবর্ধিত মাত্রা দেশের অর্থনীতির জন্য কতটা ঝুঁকি তৈরি করছে। বেড়ে চলা প্রবৃদ্ধির ওপর ভিত্তি করে আমরা নিম্ন আয় থেকে মধ্যম আয়ের দেশে অগ্রগমনের পথে এগিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু যাত্রায় আমাদের অর্থনীতির জন্য বর্তমানে অন্যতম অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থ পাচার।  অর্থ পাচারের ফলে দেশ আর্থিকভাবে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনই তৈরি হচ্ছে নানা সামাজিক সমস্যা। কাজেই অর্থ পাচার প্রতিরোধে আর ন্যূনতম শৈথিল্যও কাম্য নয়।

এদিকে অর্থ পাচার রোধে ব্যাংকে কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত, গ্রাহকের কেওয়াইসি নিবিড়ভাবে যাচাইকরণ, বিনিয়োগের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি, সামাজিক সম্মানহানিমূলক ব্যবস্থা, দক্ষতা উন্নয়নপূর্বক সঠিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, আন্তঃসরকারি পর্যায়ে নজরদারি বৃদ্ধি, গ্রাহকের লেনদেন প্রোফাইল (টিপি) অনলাইন ব্যবস্থার সঙ্গে অঙ্গীভূতকরণ, দেশের অভ্যন্তরে অর্থ ব্যবহারের পথ তৈরি করা, ডিজিটাল চ্যানেল নিয়ন্ত্রণ, অর্থের গতি ঠিক রাখা এবং সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন বিশেষজ্ঞরা। বিভিন্ন সেমিনার-সিম্পোজিয়াম আলোচনা সভায় এসব বিষয় নিয়মিত বিরতিতে উঠে এসেছে। অথচ দুর্ভাগ্যজনকভাবে এসব ক্ষেত্রে খুব একটা অগ্রগতি লক্ষ করা যায়নি। এভাবে আর চলতে দেয়া যায় না। সময় এসেছে উল্লিখিত বিষয় আমলে নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার এবং পাচারবিরোধী প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর।

সন্দেহ নেই, অর্থ পাচার একটি গুরুতর অপরাধ। এজন্য কঠোর শাস্তির বিধান রেখে আইনও প্রণয়ন করা হয়েছে। তবু কমছে না অর্থ পাচারের ঘটনা। অর্থ পাচার না কমার একটি কারণ অবশ্য আইন প্রয়োগে শিথিলতা সীমাবদ্ধতা। শুধু আইন থাকলে হবে না। এর যথাযথ প্রয়োগও নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় অর্থ পাচার ঠেকানো কঠিন। আইনগতভাবে দেশের বাইরে বিপুল অর্থ নিয়ে যাওয়ার সুযোগ না থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বাংলাদেশীরা মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি দেশে বাড়ি-ফ্ল্যাট ক্রয়সহ বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। বহুল আলোচিত পানামা প্যারাডাইস পেপার্সেও বাংলাদেশীদের নাম থাকার সংবাদ বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে এসেছে। পুঁজি পাচারের ঘটনা ঘটে মূলত সঞ্চয় বিনিয়োগের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হলে। বাস্তবতা হলো দেশে সঞ্চয় বাড়লেও বিনিয়োগ আশানুরূপ বাড়ছে না। এখন সরকার বিনিয়োগ পরিবেশ সহজ করার চেষ্টা করছে। কাজটিকে আরো বেগবান করতে হবে। অর্থ পাচারের আরেকটি বড় কারণ হলো দুর্নীতি। দুর্নীতি বাড়ায় অর্থ পাচারের হারও দিন দিন বাড়ছে। পরিস্থিতি থেকে মুক্তির উপায় খোঁজা জরুরি। অর্থ পাচারকারীরা যাতে কোনোভাবে পার না পায়, সরকারের উচিত তা নিশ্চিত করা। তা না হলে নানা প্রক্রিয়ায় অর্থ পাচারের

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন