বুধবার | জুলাই ১৫, ২০২০ | ৩১ আষাঢ় ১৪২৭

পণ্যবাজার

দাম বৃদ্ধিতে ভারতের বাজারে বাড়ছে স্বর্ণের চোরাচালান

বণিক বার্তা ডেস্ক

 বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ স্বর্ণ ব্যবহারকারী দেশ ভারতের বাজারে মূল্যবান ধাতুটির দাম এখন অনেক বেশি আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে দেয়ার ফলে দেশটিতে আগের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে স্বর্ণ ব্যবসায়ী ব্যবহারকারীদের যে কারণে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অভ্যন্তরীণ বাজারে চোরাচালানকৃত স্বর্ণের সরবরাহ বাড়ছে খবর ব্লুমবার্গ

গত জুলাইয়ে স্বর্ণ আমদানিতে শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ১২ শতাংশ করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এরপর থেকে দেশটির বাজারে মূল্যবান ধাতুটির দাম বাড়তে শুরু করে গত সেপ্টেম্বরে দেশটিতে স্বর্ণের দাম রেকর্ড ছাড়িয়ে যায় চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশটির বাজারে স্বর্ণের দাম ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এমনকি দাম বৃদ্ধির ফলে স্বর্ণ বিক্রির ভরা মৌসুমেও ক্রেতা সংকটে পড়তে হয় ব্যবসায়ীদের

এদিকে দাম বৃদ্ধির ফলে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে দেশটির বাজারে চোরাচালানের মাধ্যমে আসা স্বর্ণের সরবরাহ বাড়ছে এমনকি অবৈধপথে স্বর্ণের প্রবেশ এতটাই বাড়ছে যে, দেশটির রেলস্টেশন, বিমানবন্দর স্থলবন্দরগুলোতে নজরদারি বাড়াতে হচ্ছে কাস্টমস কর্মকর্তাদের সম্প্রতি চেন্নাইয়ের একটি ফ্লাইট থেকেই ৩০ জনকে সাড়ে সাত কেজি স্বর্ণ চোরাচালানের দায়ে আটক করা হয়েছে

অল ইন্ডিয়া জেম অ্যান্ড জুয়েলারি ডমেস্টিক কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এন অনন্ত পদ্মানাবান জানান, চলতি বছরে ভারতে স্বর্ণের চোরাচালান ৩০ থেকে বেড়ে ৪০ শতাংশ হতে পারে বছর শেষে ১৪০ টনের মতো স্বর্ণ চোরাচালানের মাধ্যমে ভারতের বাজারে প্রবেশ করতে পারে আর ২০২০ সালে স্বর্ণের চোরাচালানের পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পাবে

অন্যদিকে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের (ডব্লিউজিসি) তথ্য বলছে, আনুষ্ঠানিক আমদানি কমে যাওয়ায় চোরাচালানকৃত স্বর্ণের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ ১২ থেকে বেড়ে ১৪ শতাংশ হতে পারে

বাণিজ্য ঘাটতি মোকাবেলায় ২০১৩ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত স্বর্ণ আমদানিতে শুল্ক তিন গুণ বাড়ানো হয়েছে তখন থেকে দেশটিতে স্বর্ণের চোরাচালান বৃদ্ধি পেতে শুরু করে ২০১৪ সালে দেশটিতে অবৈধভাবে স্বর্ণের সরবরাহ ছিল ২২৫ টনের মতো আর চলতি বছরে আমদানি শুল্ক আরো বাড়ানোর পর থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে স্বর্ণের সরবরাহ আগের তুলনায় বাড়তে থাকে

ডব্লিউজিসির ভারতীয় ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি আর সোমসুন্দরম বলেন, অবৈধপথে স্বর্ণ আনার প্রবণতা ক্রমে বাড়ছে বারবার আমদানি শুল্ক বাড়ানোর ফলে চোরাকারবারিদের সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে সরকার খাতসংশ্লিষ্টরা জরুরি পদক্ষেপ না নিলে অবস্থা আরো আশঙ্কাজনক হারে বাড়বে বলেও মনে করেন তিনি

ভারতের ডিরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্সের (ডিআরআই) তথ্য বলছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর অক্টোবরে দেশের বিমানবন্দর, স্থলবন্দর রেলস্টেশন থেকে স্বর্ণের চোরাচালান জব্দের পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে

ডিআরআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে চীন, হংকং তাইওয়ান থেকে ভারতের বাজারে স্বর্ণের চোরাচালানের পরিমাণ বাড়ছে এছাড়া বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান মিয়ানমারের স্থলবন্দর দিয়েও ভারতে স্বর্ণ চোরাচালান হচ্ছে চোরাচালানি চক্র এখন -কমার্স প্লাটফর্ম, কুরিয়ার, বাসাবাড়ির মালপত্র ইলেকট্রনিকস পণ্যের মাধ্যমে লুকিয়ে এসব স্বর্ণ ভারতে নিয়ে আসছে

পদ্মানাবান মনে করেন, উচ্চ আমদানি শুল্ক বসিয়ে কেবল পেশাদার চোরাচালানি চক্রকেই উৎসাহিত করা হয়নি, বরং অপেশাদার অনেকে দেশের বাইরে যাচ্ছে এবং বাড়তি আয়ের জন্য অথবা ব্যবহারের জন্য স্বর্ণ আনছে অবস্থা মোকাবেলায় করণীয় হিসেবে শুল্ক কমিয়ে আনা এবং অলস পড়ে থাকা স্বর্ণ গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিমের মাধ্যমে লগ্নি করার সুযোগ তৈরি করে আমদানি কমিয়ে সরবরাহ বাড়ানো উচিত বলেও মনে করেন তিনি

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন