শনিবার| ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২০| ১৫ফাল্গুন১৪২৬

শিল্প বাণিজ্য

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রভাব

পোশাক খাতে প্রতি পাঁচটির দুটি চাকরি ঝুঁকির মুখে

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশ থেকে মোট রফতানির ৮৪ শতাংশই হয় পোশাক পণ্যের। শ্রমঘন এ খাতের উৎপাদন ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয় হতে শুরু করেছে। এতে চাকরিচ্যুত হবে লাখ শ্রমিক। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, পোশাক খাতের স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন ব্যবস্থায় এ খাতে প্রতি পাঁচটি চাকরির দুটিই ঝুঁকির মুখে রয়েছে। গতকাল এক সেমিনারে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়।

গতকাল রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ‘ফিউচার স্কিল রিকয়ার্ড বাংলাদেশ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান। গেস্ট অব অনার ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি কামরান টি রহমান। ডিসিসিআই সভাপতি ওসামা তাসিরের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য মোহাম্মদ রেজাউল করিম। সেমিনারে ডিবিআই ও এআইইউবির মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শিল্প বিপ্লবের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে সেমিনারে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে এর প্রভাব উল্লেখ করা হয় উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে। এ সময় অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত পাঁচটি খাতে প্রয়োজনীয় ভবিষ্যৎ দক্ষতা নিয়ে করা সমীক্ষার ফলাফল উল্লেখ করা হয়।

বস্ত্র-পোশাক খাতে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রভাব সম্পর্কে বলা হয়, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা শুধু এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশের লাখো জনগোষ্ঠীকে চাকরিচ্যুত করবে তা নয়, উন্নত অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলবে। এশিয়ায় শিল্প রোবট বিক্রি ২০১১ থেকে ২০১৬ সালে গড়ে ১২ শতাংশ বেড়েছে। ২০৪১ সালের মধ্যে পোশাক খাতের ৬০ শতাংশ কাজই হবে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায়। এর প্রভাবে প্রতি পাঁচটি চাকরির দুটি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। স্বল্প শিক্ষিত নারী শ্রমিকদের চাকরি হারানোর এ ঝুঁকির মাত্রা বেশি।

সেমিনারে বলা হয়, পোশাক কারখানায় ঝুঁকির মধ্যে থাকা পদগুলোর মধ্যে আছে সিঙ্গেল নিডল লকস্টিচ-ডাবল নিডল লকস্টিচ সুইং মেশিন অপারেটর, ফ্লোর সুপারভাইজর, প্যাটার্ন মেকার, কোয়ালিটি কন্ট্রোলার, প্রডাকশন প্ল্যানার ও মার্চেন্ডাইজার। এছাড়া আছে ফ্যাশন ডিজাইনার, ক্যাড-ক্যাম অপারেটর, পোর্টফোলিও ডেভেলপার, প্রডাকশন প্ল্যানার ও কন্ট্রোলার। 

সেমিনারে প্রধান অতিথি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ঝুঁকি মোকাবেলায় চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রকৃত শিক্ষা ও ডিগ্রির জন্য শিক্ষার মধ্যে ব্যবধান কমাতে হবে। আমাদের একাডেমিক কারিকুলাম চাকরিপ্রত্যাশীদেরকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারে না। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কারণে শ্রমনির্ভর চাকরির বাজার সংকুচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতের কাজের বিষয়টি মাথায় রেখে সরকার শ্রমিকের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। এজন্য জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কাউন্সিল এনএসডিসিকে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে নেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশকে বিশ্বের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দেশ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে সবার জন্য শোভন কর্মপরিবেশ এবং পরিপূর্ণ উৎপাদনশীল কর্মের নিশ্চয়তার জন্য কাজ করছে। প্রতি বছর ১৮ থেকে ২০ লাখ চাকরিপ্রত্যাশী বাজারে আসছে। এ বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রত্যাশীর মধ্যে ১৪ লাখ লোককে সরকারের বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয় কল-কারখানা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য কর্মযোগ্য করতে প্রশিক্ষণ দিতে বেসরকারি সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন