রবিবার| মার্চ ২৯, ২০২০| ১৪চৈত্র১৪২৬

সম্পাদকীয়

ব্যাংক খাতের ‘নয়-ছয়’ তাত্ত্বিক ও বাস্তব বিশ্লেষণ

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম

ব্যাংক খাতেরনয়-ছয়নিয়ে জোর আলোচনা হচ্ছে বহুদিন থেকে। আমানতের সুদের হারছয়আর ঋণের সুদনয়শতাংশ নির্ধারণ করে দেয়ার জন্য বহুদিন থেকে সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটিনরমতাগাদা ছিল। আর তাগাদা থেকেই বহুল আলোচিতনয়-ছয়’-এর যাত্রা। এখন প্রশ্ন হলো, নয়-ছয় কারা চায়? কেন চায়? আর মুক্ত বাজার অর্থনীতির এই চরম প্রতিযোগিতায় চাওয়া কতটুকু বাস্তবসম্মত বাস্তবায়নযোগ্য। আলোচনা শুরু করার আগে একটা চিত্রকল্প অঙ্কন করে পাঠকের একটু কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করি। ধরুন আজ একটা প্রজ্ঞাপন জারি হলো, চালের দাম সর্বোচ্চ টাকা দরে বিক্রি হবে খোলাবাজারে এবং বিক্রেতারা চাল সংগ্রহ করবেন টাকা দরে। কিন্তু সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ঘোষণা দিয়ে খোলাবাজারে চাল কিনবে ১২ টাকা দরে। তাহলে বাজারের কোনো চাল বিক্রেতা টাকা দরে কেনার জন্য এবং খোলাবাজারে বিক্রির জন্য চাল পাবেন না। কারণ সব চাল টিসিবির কাছে বিক্রি হয়ে যাবে ১২ টাকা দরে। তাহলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে? বাজারে সরবরাহ কমে যাবে, বেসরকারি খাতে চাল ব্যবসায় ধস নামবে, ব্যাংকের ঋণপ্রবাহ কমবে, উদ্যোক্তারা নিরুৎসাহিত হবেন।

এবার আসি চালবাজার থেকে অর্থবাজারে। অর্থবাজারে প্রায় ৬০টি ব্যাংক ৩০টি অব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা কম দামে অর্থ কিনে বেশি দামে বিক্রি করে। ব্যাংকের ভাষায়, অর্থ ক্রয়কেআমানত সংগ্রহ অর্থ বিক্রিকেঋণ প্রদানবলে। তাহলে ব্যাংক যদি প্রজ্ঞাপিত হয় টাকা দরে আমানত নিতে হবে এবং টাকা দরে ঋণ প্রদান করতে হবে, তাহলে পরিস্থিতি কেমন হবে একটু চিন্তা করা যাক। ধরুন সব ব্যাংক আমানত সংগ্রহ করার ঘোষণা দিল শতাংশ সুদে। বাজার পরিস্থিতি কেমন হতে পারে? কেউ আর ব্যাংকে টাকা রাখার চিন্তা করবে না। বেশি মুনাফা বা সুদের আশায় আমানতকারী বা খুচরা অর্থ বিক্রেতারা বিকল্প উৎস খুঁজতে শুরু করবেন। আমাদের দেশে ব্যাংকের বাইরে বেশি মুনাফার বিকল্প বিনিয়োগ উৎস কী? বিকল্প উৎস হলো সঞ্চয়পত্র ক্রয় (লভ্যাংশ গড়ে ১১.৫০%), শেয়ারবাজার, সমবায় ব্যাংক নিয়ন্ত্রণাধীন মাল্টিপারপাস প্রতিষ্ঠান, দাদন ব্যবসা। তাহলে দেখা যাচ্ছে, ব্যাংক তার প্রধানতম কাঁচামালঅর্থ বা আমানত’-শূন্য হয়ে যাবে। বহুপক্ষীয় প্রভাব পড়বে অর্থনীতি সামাজিক কাঠামোয়। ব্যাংক খাত যদি আমানত সংকটে ভোগে, তখন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ে, বেকারত্ব বেড়ে যায়, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়, উৎপাদন কমতে শুরু করে, মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়, সর্বোপরি রাষ্ট্র এক চরম অর্থনৈতিক সামাজিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়। তাহলে শতাংশ সুদ বেঁধে দিয়ে ব্যাংক ব্যবস্থার বিকল্প বেশি মুনাফার যে ক্ষেত্রগুলো আছে, তাদের ভূমিকা কী হবে নতুন সৃষ্ট অর্থনৈতিক সামাজিক অনিশ্চয়তা থেকে রাষ্ট্রকে উদ্ধার করতে? সঞ্চয়পত্রে যদি অধিকাংশ আমানত চলে যায়, তবে অর্থনৈতিক কী কী উপকার হতে পারে? প্রথমে আলোচনা করি সরকার সঞ্চয়পত্র দিয়ে বাজার থেকে বেশি মুনাফায় টাকা নেয় কেন? সরকার বাজার থেকে টাকা নেয় খরচ করার জন্য। খরচগুলো হলো

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন