বুধবার| এপ্রিল ০১, ২০২০| ১৭চৈত্র১৪২৬

সম্পাদকীয়

প্রতি তিন শিশুর একজন খর্বকায়

জাতীয় পুষ্টি পরিষদকে কার্যকর ও শক্তিশালী করা হোক

পাঁচ বছর বয়সী তিন শিশুর একজন খর্বাকৃতির। আইসিডিডিআর,বির এক গবেষণার বরাত দিয়ে গতকাল বণিক বার্তায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ধীরে হলেও পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। ২০০৭ সালে পাঁচ বছরের নিচে খর্বকায় শিশু ছিল ৪৩ শতাংশ। ২০১৭-১৮ সালে তা নেমে আসে ৩১ শতাংশে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরো অগ্রগতি প্রয়োজন। প্রতিবেদন থেকে স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে, সার্বিকভাবে অপুষ্টির ঝুঁকি থেকে এখনো বের হতে পারেনি বাংলাদেশ। আর দেশের সবচেয়ে বেশি খর্বকায় শিশু রয়েছে হাওড়াঞ্চলে, একই সঙ্গে সেখানে অপুষ্টিজনিত কারণে শিশুমৃত্যু মাতৃমৃত্যুর হারও অন্যসব এলাকার চেয়ে বেশি। অবশ্য এর কারণটিও প্রায় নির্দিষ্ট। আর সেটি হলো অঞ্চলে ছয় মাস বন্যা থাকে। তবে একথা সত্যি, হাওড়াঞ্চলে শিশুদের পুষ্টি সমস্যা দীর্ঘদিনের। সেটি কেন? কেউ কেউ মনে করেন, এখানকার সাধারণ মানুষের উপার্জন কম, তাই পুষ্টিযুক্ত খাদ্যের প্রাপ্যতা কম হওয়া স্বাভাবিক। আবার শিক্ষা ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকার দরুন অনেকেরই পুষ্টিজ্ঞান সম্পর্কে সঠিক ধারণা নেই। তাই পুষ্টিস্বল্পতায় ভোগে এখানকার শিশু নারীরা। দারিদ্র্যপ্রবণ অঞ্চল, বিশেষত উত্তরবঙ্গ সিলেটের চা বাগান এলাকাগুলোয় খর্বকায় শিশুর হার বেশি।

আমাদের অঞ্চলে পুষ্টিকর অন্যসব খাদ্যের চেয়ে ভাতের ওপর মানুষ বেশি নির্ভরশীল। এছাড়া শিক্ষা, সচেতনতার অভাব এবং অনুন্নত যোগাযোগের কারণে গর্ভবতী মায়েরা সবসময় স্বাস্থ্যসেবা পান না। সেখানে থাকেন না প্রয়োজনীয়সংখ্যক ডাক্তার। সব মিলিয়ে অবস্থাটি আশার আলো কবে নাগাদ পেতে পারে, আন্দাজ করা কঠিন। মাতৃগর্ভে শিশুর অবস্থানকালে মায়ের পুষ্টিই শিশুর পুষ্টিলাভের উৎস। গর্ভবতী মায়ের পুষ্টিলাভ ব্যাহত হলে তার গর্ভস্থ শিশুটিও এর প্রভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়। তাই গর্ভবতী মায়ের অপুষ্টি গর্ভস্থ শিশুর অপুষ্টির মূল কারণ। আয়োডিনের অভাব, কম ক্যালরিযুক্ত খাদ্যগ্রহণ গর্ভবতী মায়ের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করে। আর পুষ্টিহীন প্রসূতি কম ওজনের শিশুর জন্ম দিতে পারে। তারপর পুষ্টিহীনতার ধারাবাহিক পর্ব শুরু হয়ে প্রজন্ম পরম্পরায় অব্যাহত থাকে ব্যাপারটি। সবচেয়ে ভয়াবহ হলো, পুষ্টিহীনতা নিয়ে জন্মগ্রহণকারী শিশুটি যখন জীবনের যাত্রা করে, তখন একটি ধারাবাহিক রুগ্ণ অভিযাত্রার সূচনা হয়। তাই শিশুর অপুষ্টি যে সামগ্রিক উন্নয়নের পথে একটি বড় বাধা তা বোঝাই যাচ্ছে। আইসিডিডিআর,বি ব্র্যাকেরস্কেলিং আপ নিউট্রিশন: অ্যান আর্জেন্ট কল ফর কমিটমেন্ট অ্যান্ড মাল্টি-সেক্টরাল অ্যাকশনশীর্ষক একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, উচ্চমাত্রার অপুষ্টির ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের ৩৬টি দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। দেশের ৫১ শতাংশ শিশু অ্যানিমিয়ায় (রক্তস্বল্পতা) ভুগছে। মায়েদের ক্ষেত্রে হার ৪২ শতাংশ। ব্যাপারটি নিয়ে আরো ভাবার সময় এখনই। কেননা বড় সংখ্যাটিকে বাদ দিয়ে দেশের সব ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন সম্ভব নয়।

বিশ শতকে যদি হয়ে থাকে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির গবেষণা, একুশ শতকে হতে যাচ্ছে পুষ্টি বৃদ্ধির গবেষণা। একসময় ভাবা হতো, অপুষ্টি যেন গ্রামগঞ্জের ব্যাপার-স্যাপার আর শহর মানে ভালো খাওয়া, ভালো থাকা এবং সেই সূত্রে সজীব সতেজ। কিন্তু ওই যে অভিবাসন ঘটিয়ে শহরে আসা মানুষগুলো ঘিঞ্জি বস্তিতে বাস করছে, ময়লাযুক্ত খাবার খাচ্ছে, অপুষ্টি তাদের অপমৃত্যুর কারণ। শিশুর

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন