মঙ্গলবার | অক্টোবর ২০, ২০২০ | ৫ কার্তিক ১৪২৭

সম্পাদকীয়

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ‘গিনিপিগ’ বাংলাদেশ

নাজমুল হক তপন

একটু পেছনে ফেরা যাক। ২০০৪ সালে বাংলাদেশ সফরে আসে নিউজিল্যান্ড। ওই সফরের দুই বছর আগে আন্তর্জাতিক ওয়ানডে অভিষেক হয়ে গেছে কিউই দলের উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন ম্যাককালামের। বাংলাদেশ সফরের আগে অনেকগুলোই টেস্ট সিরিজ খেলে ফেলেছেন কিউই হার্ডহিটার। কিন্তু কোনো ফরম্যাটেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেঞ্চুরির নাগাল পাচ্ছিলেন না ম্যাককালাম। বাংলাদেশ সফরে সেঞ্চুরি চানঢাকায় পা রেখেই বলেছিলেন ম্যাককালাম। আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়েছিল কিউই হার্ডহিটারের। প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসেই ১৪৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন ম্যাককালাম।

এটা ছিল টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের শুরুর দিকের ঘটনা। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে নিয়ে প্রতিপক্ষের এই যে ইচ্ছাপূরণের খেলা, এটা একদিন শেষ হবে বিশ্বাস ছিল আমাদের দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের। কিন্তু শুরুর দিকেগিনিপিগহিসেবে ব্যবহূত হয়েছে, তা থেকে আজও মুক্তি মেলেনি বাংলাদেশ ক্রিকেটের। নিত্যনতুন কৌশল করে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে ব্যবহার করার প্রবণতা বাড়ছে দিনকে দিন। সর্বশেষ ভারত সফরেগোলাপি বলেদিবারাত্রির টেস্ট ম্যাচ তারই এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত।

সবে শেষ হওয়া কলকাতার ইডেন টেস্টের আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তো অনেক দূরের ব্যাপার, ঘরোয়া ক্রিকেটেই গোলাপি বলে খেলার অভিজ্ঞতা ছিল না বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটারের। ঘরোয়া আসরে লম্বা দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটে সাকল্যে দিবারাত্রির একটি মাত্র ম্যাচ খেলার রেকর্ড আছে। সাত বছর আগে বিসিএল ফাইনাল ম্যাচটি ছিল দিবারাত্রির। একে তো ভারতের মতো মহাপরাক্রমশালী প্রতিপক্ষ, আবার খেলছে ঘরের মাঠে। এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কোনো রকম পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই গোলাপি বলে খেলতে রাজি হয়ে গেল বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট। কারণ প্রয়োজনটা ভারতের। দিবারাত্রির টেস্ট খেলে ফরম্যাটে নিজেদের প্রস্তুতি পর্ব সেরে নিয়েছে ভারত। সোজা কথায়, গোলাপি বলে বাংলাদেশ ভারতের এক সফলকেস স্টাডি

বাংলাদেশ যে ব্যবহূত হয়েছে, এটা অনুধাবন করার জন্য প্রয়োজন পড়ে না বিশেষজ্ঞ হওয়ার। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বাইরে গোলাপি বলে খেলার ব্যাপারে ভারতের ওজর আপত্তি সবারই জানা। মাত্র কিছুদিন আগেই দিবারাত্রির টেস্ট খেলার জন্য অস্ট্রেলিয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিল ভারত। বাংলাদেশের বিপক্ষে গোলাপি বলে টেস্ট খেলার আগে অস্ট্রেলিয়ার প্রস্তাবে তাদের আপত্তির বিষয়টি পরিষ্কার করেই বলেন কোহলি। তার ভাষায়, ‘ওই সময় গোলাপি বলে আমরা কোনো প্রথম শ্রেণীর ম্যাচও খেলিনি। আমরা অনুশীলনও করিনি। আসলে গোলাপি বলে আমরা আমাদের প্রথম অভিজ্ঞতা নিতে চেয়েছিলাম দেশের মাটিতেই।কোহলির কথা থেকেই এটা সুস্পষ্ট যে দেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হয়ে তারপর বিদেশের মাটিতে দিবারাত্রির টেস্ট খেলতে চেয়েছিলেন তারা। কোহলিদের ইচ্ছা পূরণ করতে অগ্র-পশ্চাৎ বিবেচনা না করেই অথৈ সমুদ্রে ঝাঁপ দেয়ার দুঃসাহসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমাদের ম্যানেজমেন্ট। টেস্ট পৌনে দুদিন নাকি সোয়া দুদিনে শেষ হবে, অত ভাবার দরকারটাই বা কী?

ক্রিকেট গবেষণাগারের এক আদর্শ উপাদেয় নাম বাংলাদেশ ক্রিকেট। উপমহাদেশের কন্ডিশন-আবহাওয়ার সঙ্গে অভ্যস্ত হওয়ার জন্য বাংলাদেশ সফর খুব কার্যকর মনে করছে অনেক দলই (বিশেষ করে উপমহাদেশের বাইরের প্রতিষ্ঠিত দলগুলো) উপমহাদেশ ক্রিকেটের দুই প্রতিষ্ঠিত শক্তি

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন