রবিবার | অক্টোবর ২৫, ২০২০ | ৯ কার্তিক ১৪২৭

প্রথম পাতা

বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিনের রাজনীতি

দ্য ডিপ্লোম্যাট অবলম্বনে

চলতি বছরের শেষেই মিয়ানমারের কাছে নিজস্ব একটি কিলো-ক্লাস সাবমেরিন হস্তান্তরের কথা রয়েছে ভারতের। মিয়ানমারের সঙ্গে কৌশলগত সামরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় সাবমেরিন হস্তান্তর করা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ভারত-মিয়ানমারের কৌশলগত নিরাপত্তা জোট নতুন উচ্চতায় পৌঁছার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী দেশগুলোয় নৌবাহিনীর অস্ত্রসম্ভার রফতানি নিয়ে ভারত চীনের মধ্যকার রশি টানাটানির বিষয়টিও ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পাচ্ছে।

শীতল যুদ্ধের যুগে কিলো-ক্লাস সাবমেরিনকে বিবেচনা করা হতো ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিনের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক সাগরপৃষ্ঠের আতঙ্ক হিসেবে। চোরাগোপ্তা আক্রমণের সক্ষমতাকে যদি সমুদ্রপৃষ্ঠে সাবমেরিন কার্যক্রমের মূলমন্ত্র হিসেবে ধরা হয়, তাহলে এর জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত হলো কিলো-ক্লাস সাবমেরিন। প্রকৃতপক্ষেই, যে কয় ধরনের ডিজেল ইলেকট্রিক সাবমেরিন সারফেস টু এয়ার মিসাইল ছোড়ার উপযুক্ত; কিলো-ক্লাস তার অন্যতম। যা- হোক, এয়ার ইনডিপেনডেন্ট প্রপালশন (এআইপি) সিস্টেম, যা সাবমেরিনের দীর্ঘ সময় নিমজ্জিত থাকা আরো গোপনে কার্যক্রম চালানোর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ; তা ধরনের সাবমেরিনে অনুপস্থিত। বিষয়টিকে এর দুর্বলতা ধরে নিয়ে বলা যায়, বঙ্গোপসাগরে গোপনে চলাচল আঘাত হানার ক্ষেত্রে মিং ক্লাস টাইপ ০৩৫জি সাবমেরিন, যা ২০১৬ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে দেয়া হয়েছেনিশ্চিতভাবেই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে।

ভারতের মিয়ানমারকে কিলো-ক্লাস সাবমেরিন প্রদানের ঘোষণাটি লক্ষণীয় হওয়ার পেছনে কারণ রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে কৌশলগত সামরিক প্রভাববলয়ে এর কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হতে পারে, সে বিষয়েও রয়েছে নানা হিসাবকিতাব।

ভারতের চোখে মিয়ানমার হলো পুবে চলো নীতি বাস্তবায়নের সিঁড়ি। বঙ্গোপসাগরে চীনের প্রভাব মোকাবেলায় দেশটির গৃহীত আঞ্চলিক নিরাপত্তা নীতির ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মিলান এক্সারসাইজ (২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত এক নৌমহড়া) ইন্ডিয়ান ওশেন নেভাল সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টিতে নিরাপত্তা ইস্যুকেও জুড়ে দিয়েছে ভারত। বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় দেশগুলোয় চীনের সামরিক প্রভাব বৃদ্ধিকে ঠেকাতে মিয়ানমারের কাছে সাবসারফেস নেভাল আর্মামেন্ট বিক্রি করছে ভারত, যার লক্ষ্য হলো উপকূলীয় এসব দেশে চীনের অস্ত্র রফতানিকে ক্ষতিগ্রস্ত করা। বঙ্গোপসাগরের নীল বলয়ে ভারতের প্রভাব তৈরিতে উদ্যোগ প্রকৃতপক্ষেই সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এছাড়া ভারতের কাছে বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব কতটুকু, সেটিও প্রকাশ পায় এর মধ্য দিয়ে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন