শুক্রবার | ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

খেলা

বড় লোকসানে আরো বিপর্যস্ত এসি মিলান

মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে দুঃসময় পার করা এসি মিলান এবার আর্থিক খাতেও পেল বড় দুঃসংবাদ ইতালির ঐতিহ্যবহুল ক্লাবটি রেকর্ড লোকসানের মুখে পড়েছে এতে সাতবারের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনও পড়ল কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে

ইতালির সংবাদমাধ্যম গাজেত্তা দেলো স্পোর্ত দাবি করছে, ২০১৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ১২ মাসে এসি মিলান ১৪ কোটি ৬০ লাখ ইউরো (প্রায় হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা) লোকসান করেছে, যা আগের মৌসুমের চেয়ে ১৬ শতাংশ বেশি আগের মৌসুমে তাদের লোকসান ছিল ১২ কোটি ৬০ লাখ ইউরো

গাজেত্তা জানায়, এসি মিলান কোটি ইউরো লোকসানের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল, তবে তাদের অনুমানের চেয়েও এটি অনেক বেশি হয়েছে

২০১৮ সালের জুলাইয়ে চীনা ব্যবসায়ী লি ইংহংয়ের কাছ থেকে এসি মিলানের মালিকানা বুঝে নেয় আমেরিকান বিনিয়োগ ফান্ড ইলিয়ট তবে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে চলা ক্লাবটিকে টেনে তুলতে তারাও হিমশিম খাচ্ছে

রাজস্বও ১৪ দশমিক শতাংশ কমেছে এসি মিলানের গত মৌসুমে তারা ২৪ কোটি ১০ লাখ ইউরো (প্রায় হাজার ২৬৭ কোটি টাকা) রাজস্ব আহরণ করেছে, যা ইউরোপিয়ান জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, প্যারিস সেন্ট জার্মেই কিংবা বায়ার্ন মিউনিখের তুলনায় অনেক অনেক কম আবার সামগ্রিকভাবে খরচ ১৯ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৩৭ কোটি ৩০ লাখ ইউরো (প্রায় হাজার ৫০৯ কোটি টাকা)

মূলত ইউরোপিয়ান ফুটবলে অনুপস্থিতির কারণে আয় কমেছে এসি মিলানের আগের মৌসুমে তারা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কিংবা ইউরোপা লিগে অংশ নিতে পারেনি ফলে মার্চেন্ডাইজিং স্পন্সর খাত থেকে তাদের আয় দশমিক শতাংশ কমে গেছে সেই সঙ্গে টিকিট খাত থেকেও আয় কমেছে দশমিক শতাংশ যদিও টিভিস্বত্ব থেকে তাদের রাজস্ব বেড়েছে খাতের আয় ১০ কোটি লাখ ইউরো থেকে বেড়ে ১১ কোটি ৩৮ লাখ ইউরো হয়েছে

গত মৌসুমে ইতালিয়ান সিরি- লিগে পঞ্চম হওয়ার পরও ইউরোপা লিগে খেলা হয়নি এসি মিলানের, কারণ উয়েফার ফিন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লে নিয়ম ভাঙার কারণে তারা প্রতিযোগিতায় নিষিদ্ধ হয় খেলোয়াড় বিক্রির খাতেও আয় করেছে মিলান আগের মৌসুমে খাতে কোটি ২০ লাখ ইউরো এলে সর্বশেষ ১২ মাসে এসেছে কোটি ৫৫ লাখ ইউরো

স্কাই ইতালিয়ার ভাষ্যমতে, এসি মিলানকে বাঁচিয়ে রাখতে লড়াই করার মতো দল গড়তে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩২ কোটি ৫০ লাখ ইউরো বিনিয়োগ করেছে ইলিয়ট ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন তবে তাদের বিনিয়োগ হয়তো বিফলেই যেতে বসেছে

আর্থিক খাতের মতো মাঠেও বিপর্যস্ত এসি মিলান দলের ধারাবাহিক ব্যর্থতায় ১৮ বারের লিগ চ্যাম্পিয়নরা গত মাসে বরখাস্ত করে মাত্র সাত ম্যাচ দায়িত্ব পালন করা কোচ মার্কো জিয়ামপাওলোকে তার জায়গায় নিয়োগ দেয়া হয় স্তেফানো পাইওলিকে, যিনি পাঁচ বছরে এসি মিলানের অষ্টম কোচ

২০১১ সালে সর্বশেষ লিগ শিরোপা জয় করে এসি মিলান বিস্ময়কর তথ্য হলো, সাতবারের সাবেক চ্যাম্পিয়নরা ২০১৩-১৪ মৌসুমের পর আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলতেই পারেনি! চলতি লিগে যে অবস্থান তাতে আগামী মৌসুমেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কিংবা ইউরোপা লিগে খেলা তাদের ঘোর অনিশ্চিত সাত ম্যাচের মধ্যে চারটিতেই হেরে যাওয়া দলটি রয়েছে পয়েন্ট টেবিলের ১৩তম স্থানে

ইতালির মিডিয়া মুঘল সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বার্লুসকোনির সময়ই সবচেয়ে বেশি সফলতা পেয়েছে এসি মিলান তার ৩১ বছরের অধ্যায়ে আটটি সিরি- লিগ শিরোপা পাঁচটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জয় করে এসি মিলান এবং সময় বিশ্ব ফুটবলের একটি শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয় স্যান সিরোর দলটি

তবে বার্লুসকোনির বিদায়ের পর গৌরব হারাতে থাকে এসি মিলান ২০১৭ সালে তিনি ক্লাবটি বিক্রি করে দেন লির কাছে, যিনি লোন নিয়েছিলেন ইলিয়টের কাছ থেকে তবে লোনের কিস্তি ঠিকমতো পরিশোধ করতে না পারায় ২০১৮ সালের জুলাই মাসে তাকে হটিয়ে ক্লাবটির কর্তৃত্ব নিয়ে নেয় ইলিয়ট

নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ইন্টার মিলানের সঙ্গে স্যান সিরো স্টেডিয়াম ভাগাভাগি করে এসি মিলান স্টেডিয়ামটি সংস্কারের জন্য ব্যয় হবে ১২০ কোটি ইউরো, যা নিয়ে দুই ক্লাব কাজ করে যাচ্ছে স্টেডিয়াম সংস্কারের জন্যও এসি মিলানকে বিরাট অংকের লোন নিতে হবে তাতে হয়তো ক্লাবটির আর্থিক সংকট ভবিষ্যতে আরো বাড়বে

একদিকে পড়ে যাচ্ছে রাজস্ব, অন্যদিকে বাড়ছে খরচ দুয়ের কারণেই গভীর সংকটে পড়েছে ইউরোপের ঘুমন্ত দৈত্য এসি মিলান প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর সঙ্গে মাঠে মাঠের বাইরের লড়াইয়ে এখন আর তারা পেরে উঠছে না গত কয়েক বছর ধরেই তারা সিরি- লিগে টেবিলের মাঝামাঝি অবস্থানেই থাকছে যদিও ভবিষ্যতে বিক্রির লক্ষ্য নিয়ে ক্লাবটিকে সংকট থেকে বের করে আনার চেষ্টা করে যাচ্ছে ইলিয়ট

লোকসানের কারণে এসি মিলানের ওপর মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে আসতে পারে উয়েফার শাস্তি পর্যবেক্ষণ চলাকালে আবারো ফিন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লে নিয়ম ভাঙলে শাস্তি পেতে হবে ক্লাবটিকে এসি মিলান অবশ্য জানিয়েছে, শাস্তি এড়াতে তারা কিছু তহবিল আলাদা করে রাখছে এএফপি সিএনএ

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন