রবিবার | নভেম্বর ১৭, ২০১৯ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

প্রথম পাতা

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানো হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

উচ্ছৃঙ্খলতা প্রতিরোধে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলে নিয়মিত তল্লাশি (সার্চ) চালানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর ভারত যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে গতকাল গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ উঠলে কথা বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে বলব, যখন ঘটনা একটা জায়গায় ঘটেছে। তাহলে প্রত্যেকটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রতিটি হল সব জায়গায় সার্চ করা দরকার। কোথায় কী আছে না আছে খুঁজে দেখা দরকার।

তিনি বলেন, কারা ধরনের মাস্তানি করে বেড়ায়, কারা ধরনের ঘটনা ঘটায়, সেটা দেখা দরকার। সামান্য টাকায় একেকজন রুমে থাকবে, আর সেখানে বসে ধরনের মাস্তানি করবে। সমস্ত খরচ বহন করতে হবে জনগণের ট্যাক্সের পয়সা দিয়েএটা কখনো গ্রহণযোগ্য নয়। প্রত্যেকটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রতিটি হল, শুধু ঢাকা নয়, সারা বাংলাদেশে সব জায়গায় সার্চ করা হবে। সেই নির্দেশটা আমি দিয়ে দেব। আপনাদের (সাংবাদিকদের) সহযোগিতা চাই। আপনারা বের করে দিন, কোথায় ধরনের অনিয়ম বা উচ্ছৃঙ্খলতা কিংবা ধরনের কর্মকাণ্ড কারা করছে। কোনো দলটল আমি বুঝি না।

আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি কোনো অপরাধ করে, সে কোন দল, কী করে না করে, আমি কিন্তু সেটা দেখি না। আমার কাছে অপরাধী অপরাধীই। নৃশংসতা কেন? জঘন্য কাজ কেন? এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। যত রকমের উচ্চশাস্তি আছে, সেটা দেয়া হবে। কোনো সন্দেহ নেই। দলটল বুঝি না। অপরাধের বিচার হবেই।

তিনি বলেন, বুয়েটের ঘটনা সকালে জানার সঙ্গে সঙ্গে আমি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলাম আলামত সংগ্রহ করার জন্য। সঙ্গে এটাও বলেছিলাম যে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে। তারা সেখানে পৌঁছে যায়। আলামত সংগ্রহ করে এবং সিসিটিভি ফুটেজগুলো দীর্ঘ সময় ধরে সংগ্রহ করে। যখন পুলিশ সিসি ক্যামেরা থেকে ফুটেজ হার্ডডিস্কে নিয়ে আসছে, তখন তাদের ঘেরাও করা হলো। তাদের ফুটেজ নিয়ে আসতে দেয়া হবে না। আইজিপি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে বলল, আমাদের লোকদের আটকে রেখে দিয়েছে। আলামত নিয়ে আসতে দিচ্ছে না। ফুটেজগুলো আনতে দেবে না কেন? এখানে প্রশ্নটা আমার। পুলিশকে আসতে দেবে না, আলামত নিতে দেবে না। কেন?

ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছাত্র রাজনীতি ব্যান্ড করার কথা বলেন? আসলে দেশে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা কিন্তু ছাত্ররাই নিয়েছে। তারপরও অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তো সংগঠন করা নিষিদ্ধ আছে। বুয়েট যদি মনে করে, তারা সেটা নিষিদ্ধ করে দিতে পারে। এটা তাদের ওপর। এখানে আমরা কোনো হস্তক্ষেপ করব না।

শেখ হাসিনা এও বলেন, নেতৃত্ব উঠে এসেছে তো ওই স্টুুডেন্ট পলিটিকস থেকেই। আমি ছাত্র রাজনীতি করেই কিন্তু এখানে এসেছি। দেশের ভালোমন্দ চিন্তাটা আমার মাথায় ওই ছাত্রজীবন থেকে আছে বলেই আমরা দেশের জন্য কাজ করতে পারি। কিন্তু যারা উড়ে এসে বসে, তারা আসে ক্ষমতাটাকে উপভোগ করতে। তাদের কাছে তো দেশের ওই চিন্তাভাবনা থাকে না। এটা একটা শিক্ষার ব্যাপার, জানার ব্যাপার, ট্রেনিংয়ের ব্যাপার। এটা কিন্তু ওই ছাত্র রাজনীতি থেকেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। আর আমাদের দেশের সমস্যা হলো বারবার এই মিলিটারি রুলাররা আসছে আর মানুষের চরিত্র হরণ করে গেছে। তাদের লোভী করে গেছে। তাদের ভোগ-বিলাসের লোভ দেখিয়ে গেছে। একেবারে ছাত্র রাজনীতি ব্যান্ড করে দিতে হবে, এটা তো মিলিটারি ডিক্টেটরদের কথা। আসলে তারা এসেই সবসময় পলিটিকস ব্যান্ড, স্টুডেন্ট পলিটিকস ব্যান্ড, রাজনীতি ব্যান্ড, এটা তো তারাই করে গেছে।

ভারতে গ্যাস রফতানির চুক্তি প্রসঙ্গে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জানি প্রশ্নটা আসবে। ভারতে যে গ্যাস যাবে, সেটা এলপিজি, এটা প্রাকৃতিক গ্যাস নয়। ত্রিপুরায় যা দিচ্ছি, এটা আমদানি করা গ্যাস। দেশে সরবরাহ করে কিছু ত্রিপুরায় দিচ্ছি। যারা বলছেন গ্যাস দিয়ে দিচ্ছে, যারা এটা নিয়ে সোচ্চার, বিশেষ করে বিএনপি, তাদের ২০০১ সালের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। তখন আমেরিকা আমাদের প্রাকৃতিক গ্যাস চায়। আমি বলেছিলাম, দেশের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে থাকলে দেব। কারণে তখন ক্ষমতায় ফিরতে পারিনি। বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আজ যারা গ্যাস বিক্রি করে দিচ্ছে বলছে, তারা কিন্তু গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল।

ভারতকে ফেনী নদীর পানি দেয়ার যে চুক্তি হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের কোনো স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়নি জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, মানবিক বিষয় বিবেচনা করে পানি দেয়া হচ্ছে। ত্রিপুরার সাবরুম শহরে খাওয়ার জন্য পানি সরবরাহ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ যদি পানি পান করতে চায় আর আমরা যদি না দিই, সেটা কেমন দেখায়?

সব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ দরকার হয় কেনএক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি একটা জিনিস বুঝি না, প্রশ্নটা কেন বারবার আসে? আর প্রশ্নটা বারবার আসবে কেন? আমি সরকারপ্রধান। অবশ্যই দায়িত্ব তো আমার আছেই। আমি তো ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেশ চালাই না। আসলে আপনাদের বদভ্যাস হয়ে গেছে। কারণ এর আগে দেখছেন তো দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঘুম দিয়ে উঠে তারপর রাত ২টা পর্যন্ত জেগে দেশ চালাত, এটা দেখেছেন তো? এজন্য অভ্যাসটা খারাপ হয়ে গেছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন