মঙ্গলবার | জুলাই ০৭, ২০২০ | ২২ আষাঢ় ১৪২৭

শেষ পাতা

পাঁচদিনে ২০০ কোটি টাকা বাড়তি মুনাফা পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের

সাইদ শাহীন

হঠাৎ করেই আকাশচুম্বী হয়ে উঠলেও বাজারে পেঁয়াজের বেচাকেনার পরিমাণে খুব একটা হেরফের দেখা যায়নি এখনো। অস্বাভাবিক মূল্যেই বাজার থেকে নিত্যদিনের রান্নার অত্যাবশ্যকীয় অনুষঙ্গটি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ভোক্তারা। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, পরিস্থিতির সুযোগে বাজার থেকে শুধু গত পাঁচদিনেই প্রায় ২০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত মুনাফা তুলে নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা ২৪০ কোটি কেজি। সে হিসেবে দৈনিক চাহিদার পরিমাণ দাঁড়ায় ৬৫ লাখ ৭৫ হাজার কেজির কিছু বেশি। অন্যদিকে বাজার থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, গত পাঁচদিনে পেঁয়াজ ক্রয়ে কেজিপ্রতি গড়ে ৬০ টাকা করে অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধে বাধ্য হয়েছেন ভোক্তারা। যদিও পণ্যটির কেনাবেচায় তেমন কোনো হেরফের ঘটেনি। সে হিসেবে পেঁয়াজের বাজার থেকে পাঁচদিনেই প্রায় ২০০ কোটি টাকা মুনাফা তুলে নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, পেঁয়াজ আমদানি বা স্থানীয় উৎপাদনের ভিত্তিতে গড়ে তোলা মজুদ পণ্য দিয়ে আরো কয়েকদিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব ছিল। সব পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের কাছে এমনিতেই ১২-১৫ দিনের পেঁয়াজ মজুদ থাকে। গত এক মাসের মধ্যে যেসব খুচরা পাইকারি ব্যবসায়ী, আমদানিকারক আড়তদার পেঁয়াজের মজুদ বাড়িয়েছিলেন, তাদের মুনাফা এখন সবচেয়ে বেশি। কেজিপ্রতি ৩৫-৪৫ টাকায় কেনা এসব পেঁয়াজ গত কয়েক দিনে বিক্রি হয়েছে ৯০-১১৫ টাকায়। তিন সপ্তাহ আগেও আমদানি করা পেঁয়াজের মূল্য ছিল প্রতি কেজি ৪৫ টাকার নিচে। অন্যদিকে দেশী পেঁয়াজের ক্রয়মূল্য মজুদ ব্যয় মিলিয়ে সার্বিক খরচ ছিল ৫০ টাকার মধ্যেই।

বাজার থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, প্রতিবেশী ভারত পেঁয়াজের রফতানি বন্ধের ঘোষণা দেয়ার আগেই দেশে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছিল পণ্যটির বাজার। সে সময় ভোক্তাদের পণ্যটির অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ করতে হয়েছে কেজিতে ৩৫-৪৫ টাকা। ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত রফতানি বন্ধের ঘোষণা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতি কেজি পেঁয়াজের মূল্য এক ধাক্কায় বেড়ে দাঁড়ায় ১১৫ টাকায়। ওই সময়ে ভোক্তাদের অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ করতে হয়েছে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কেজিতে প্রায় ৭৫ টাকারও বেশি। গত দুই দিনে ভোক্তাদের কাছ থেকে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কেজিপ্রতি মূল্য প্রায় ৫৫-৬০ টাকা বেশি নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সে হিসেবে গত পাঁচদিনে ভোক্তাদের পণ্যটি ক্রয়ে কেজিপ্রতি গড় অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ করতে হয়েছে প্রায় ৬০ টাকা।

ধরনের মুনাফা

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন