শনিবার| জানুয়ারি ২৫, ২০২০| ১২মাঘ১৪২৬

শেষ পাতা

সিস্টেম লস বেড়েছে

কমানোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা বিদ্যুৎ বিভাগের

নিজস্ব প্রতিবেদক

সর্বশেষ অর্থবছরে বিদ্যুৎ বিতরণ সঞ্চালন মিলিয়ে সার্বিক সিস্টেম লস দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৯৬ শতাংশ। এটিকে এক অংকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের। এজন্য প্রতি বছরই বেঁধে দেয়া লক্ষ্য অনুযায়ী সিস্টেম লস কমিয়ে আনছে বিতরণ প্রতিষ্ঠানগুলো। তার পরও চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে সিস্টেম লস আগের চেয়ে বেড়েছে। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সিস্টেম লস কমানোর নির্দেশনা দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

জানা গেছে, সম্প্রতি বিদ্যুৎ খাতের নিয়মিত সমন্বয় সভায় প্রতিষ্ঠানগুলোর সিস্টেম লস পর্যালোচনা করে বিদ্যুৎ বিভাগ। এতে সিস্টেম লস কাঙ্ক্ষিত মাত্রার চেয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সামগ্রিক সিস্টেম লসের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এরই মধ্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

পাওয়ার সেল সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি সিস্টেম লস ছিল বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি), ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ। আর নর্দান পাওয়ার সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) সিস্টেম লস ছিল ১০ দশমিক ৫২ শতাংশ। দুই প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যগুলোর সিস্টেম লস এক অংকেই ছিল। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সিস্টেম লস দশমিক ১২ শতাংশ, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) দশমিক ৩৭, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকোর) দশমিক ১১ এবং ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) দশমিক ৮৩ শতাংশ। সামগ্রিকভাবে অর্থবছরটিতে বিতরণ সিস্টেম লস ছিল দশমিক ৩৫ শতাংশ। আর সঞ্চালন সিস্টেম লস ছিল দশমিক ১০ শতাংশ।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎ পরিবহনে স্বাভাবিকভাবে কিছু অপচয় হয়। নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি হলে এটির আর্থিক ক্ষতিও বাড়তে থাকে। এজন্য সিস্টেম লস এই মাত্রার মধ্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। আবার সিস্টেম লস কমাতে গিয়ে গ্রাহকদের ওভার বিলিংয়ের অভিযোগ পাওয়া যায়। বিষয়ে সতর্ক থাকতে এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

জানা গেছে, ২০১০-১১ অর্থবছরে বিদ্যুতের সার্বিক সিস্টেম লস হয় ১৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। পরের অর্থবছর তা কমে দাঁড়ায় ১৪ দশমিক ৬১ শতাংশে। ২০১২-১৩ অর্থবছর বিদ্যুৎ খাতের সার্বিক সিস্টেম লস ছিল ১৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এরপর ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সিস্টেম লস ১১ দশমিক শতাংশে নামলেও ২০১৮-১৯ অর্থবছর কিছুটা বেড়ে ১১ দশমিক ৯৬ শতাংশ হয়।

ব্যাপারে বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব . আহমদ কায়কাউস বলেন, প্রতি বছরই সিস্টেম লস কমিয়ে আনা হচ্ছে। সিস্টেম লস কমাতে পারলে কোম্পানিগুলোও ইনসেনটিভ বোনাস পায়।

তিনি বলেন, টেকনিক্যাল সিস্টেম লস কমিয়ে আনার জন্য প্রি-পেইড মিটার ভূমিকা রাখবে। প্রি-পেইড মিটার ব্যবহারের মাধ্যমে সিস্টেম লস শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।

বিদ্যুতের সামগ্রিক সিস্টেম লস এক অংকে নামিয়ে আনতে ২০১৫ সালেই লক্ষ্য, তবে বিতরণ সিস্টেম লসের কারণে লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উৎপাদন কেন্দ্রের নিজস্ব ব্যবহারসহ যন্ত্রপাতির অপচয়, পরিবহন তারের রোধজনিত অপচয় এবং অন্যান্য কারিগরি-অকারিগরি অপচয়ের কারণে সামগ্রিকভাবে বিদ্যুতের সিস্টেম লস বলা হয়। অকারিগরি অপচয়ের অন্যতম কারণ অবৈধ সংযোগ এবং বিদ্যুৎ ব্যবহার বিলের মধ্যকার অসামঞ্জস্য।

জানা গেছে, বিতরণ সিস্টেম লস এক অংকে নামিয়ে আনতে প্রি-পেইড মিটার স্থাপন পাইকারি গ্রাহকদের প্রি-পেইড মিটারের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। . আহমেদ কায়কাউস বলেন, এরই মধ্যে বিতরণ সিস্টেম লস এক অংকে নামিয়ে আনতে বিতরণ কোম্পানিগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এতে প্রকৃত ব্যবহার অনুযায়ী বিল দেবেন গ্রাহক। বিদ্যুতের অপচয়ও কমবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন