রবিবার| জানুয়ারি ২৬, ২০২০| ১৩মাঘ১৪২৬

দেশের খবর

জয়পুরহাটে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াবে সবজি আবাদ

বণিক বার্তা প্রতিনিধি জয়পুরহাট

 তুলনামূলক কম খরচ সময়ে ভালো লাভের কারণে জয়পুরহাটে বাড়ছে সবজির আবাদ চলতি রবি মৌসুমেও শীতকালীন আগামসহ জেলায় বিভিন্ন ধরনের সবজি আবাদ করছেন কৃষকরা জেলা কৃষি বিভাগের সূত্র অনুযায়ী, এবার জয়পুরহাটে সবজি আবাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় সাড়ে হাজার হেক্টর জমিতে এরই মধ্যে লক্ষ্যমাত্রার ৯০ শতাংশ আবাদ সম্পন্ন হয়েছে আগামী এক মাসে আরো যে আবাদ হবে, তাতে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার রবি মৌসুমে জয়পুরহাটে সব মিলিয়ে হাজার ৩২২ হেক্টরে সবজি আবাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় এর বিপরীতে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন জাতের সবজি আবাদ হয়েছে হাজার ৬৩৮ হেক্টর জমিতে আবাদ কার্যক্রম চলবে আরো প্রায় এক মাস এবার জেলায় আগাম জাতের সবজির সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে শিম সবজিটি আবাদ হয়েছে ৫০০ হেক্টরে এছাড়া ৪৫০ হেক্টরে মূলা ৪০০ হেক্টরে আবাদ করা হয়েছে বেগুন একই সঙ্গে ৩০০ হেক্টরে শসা, ২০০ হেক্টরে লাল পালংশাক, ২০০ হেক্টরে লাউ, ১২৫ হেক্টরে ফুলকপি, ১০০ হেক্টরে বাঁধাকপি পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে ১১০ হেক্টর জমিতে

সদর উপজেলার ভানাইকুশলিয়া গ্রামের কৃষক নুর আলম বলেন, গত বছর তিনি ৩০ শতাংশ জমিতে আগাম জাতের বেগুন চাষ করেন এতে তার লাভ হয় ৭০ হাজার টাকা ফলে এবার তিনি গত বছরের থেকে বেশি জমিতে সবজিটির আবাদ করেছেন

পারুলিয়া গ্রামের এরশাদ ইউনুস আলী বলেন, গত বছর ফুলকপিতে বেশ ভালো লাভ হয়েছিল তাই এবারো তারা সাড়ে তিন বিঘা জমিতে আগাম ফুলকপি আবাদ করেছেন

কড়ই উত্তরপাড়া গ্রামের মোফাজ্জল বলেন, আগে তিনি বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত জমিতে শিম চাষ করতেন বাজারে শিম বিক্রি করে তার ভালো লাভ হয় যে কারণে এবার তিনি আলাদাভাবে জমি উঁচু করে শিম চাষ করছেন দাম বেশি হওয়ায় একইভাবে সদরের দুর্গাদহ, ভাদসা আক্কেলপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় শিম আবাদে ঝুঁকছেন কৃষকরা

এদিকে জয়পুরহাটের হাট বাজারগুলোয় কয়েকদিন আগেও প্রতি কেজি শিমের খুচরা দাম ছিল ৮০-১০০ টাকা এছাড়া প্রতি কেজি বেগুন ৫০-৬০, মুলা ৩০-৪০ ফুলকপি ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে আকারভেদে লাউ বিক্রি হয়েছে ৩০-৫০ টাকা দরে তবে বর্তমান বাজারে প্রচুর সবজি ওঠায় দাম কিছুটা কমে গেছে তার পরও কৃষকদের ভালো লাভ হচ্ছে

জেলা কৃষি সম্প্রসারণের উপপরিচালক মেফতাহুল বারী বলেন, বিশেষ করে আগাম জাতের সবজি আবাদে কৃষকদের বেশি লাভ হচ্ছে ফলে এলাকার কৃষকরা দিন দিন বিভিন্ন ধরনের সবজি আবাদে ঝুঁকছেন বিষয়ে তাদের কৃষি অফিস থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে মাঠ পর্যায়ে তাদের পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষি কর্মকর্তারা

তিনি আরো বলেন, অঞ্চলে কৃষকদের বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে উৎসাহিত করা হচ্ছে চলতি রবি মৌসুমের সবজি আবাদ এখনো শেষ হয়নি আবাদ আরো অন্তত এক মাস চলবে ফলে এবার জেলায় সবজি আবাদের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন