রবিবার| জানুয়ারি ২৬, ২০২০| ১৩মাঘ১৪২৬

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

জেপি মরগানের বিশ্লেষণ

প্রবৃদ্ধি ও মুনাফা উভয়ই বাড়ছে ভিয়েতনামের ব্যাংকগুলোর

বণিক বার্তা ডেস্ক

ভিয়েতনামের ব্যাংকিং খাতকে একটি আকর্ষণীয় বিনিয়োগ সুযোগ বলে মনে করছেন মার্কিন বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগানের জ্যেষ্ঠ ব্যাংকার হর্ষ মোদি। খাতটি প্রচুর আয় ও দ্রুত প্রবৃদ্ধি করায় এমন মন্তব্য করেছেন তিনি। খবর সিএনবিসি।

বিনিয়োগ ব্যাংকটির জাপান বাদে এশিয়ার আর্থিক গবেষণা বিভাগের যুগ্ম প্রধান হর্ষ মোদি সিএনবিসিকে বলেন, এটি একটি বিরল সংমিশ্রণ, যেখানে ভিয়েতনামি ব্যাংকগুলো দ্রুত বর্ধনশীল হওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক লাভজনকও। দেখা গেছে, ব্যাংকগুলো দীর্ঘ সময়ের জন্য খুব বেশি মূলধন প্রয়োজনীয়তা ছাড়াই উচ্চপ্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম।

সম্প্রতি এক সাক্ষাত্কারে মোদি বলেন, তারা ইকুইটির উচ্চ রিটার্ন উত্পন্ন করছে। এমনকি ব্যাংকগুলোর রিটার্ন নিজেদের ব্যালান্সশিট প্রবৃদ্ধির চেয়েও বেশি। এর অর্থ হলো, তাত্ত্বিকভাবে ভিয়েতনামি ব্যাংকগুলোর বর্তমান প্রবৃদ্ধির জন্য মূলধন সংগ্রহের প্রয়োজন পড়ছে না। কিন্তু উচ্চ মূলধন অনুপাত ও রেগুলেটরি শর্ত পূরণের জন্য ব্যাংকগুলোকে মূলধন সংগ্রহ করতে হয়।

ফলে খুব বেশি অর্থ লগ্নি না করেও বিনিয়োগকারীরা এসব ব্যাংকে দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যালান্সশিটে প্রবৃদ্ধির দেখা পাবেন, একই সঙ্গে তাদের শেয়ারও তুলনামূলকভাবে ঊর্ধ্বমুখী থাকবে। আর এসব কারণেই খাতটি এত আকর্ষণীয় বলে উল্লেখ করেছেন মোদি।

নভেম্বরে মোদিসহ জেপি মরগানের বিশ্লেষকরা এক নোটে জানান, তাদের আমলে নেয়া ভিয়েতনামি ব্যাংকগুলো আগামী দুই বছরে ১৫ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত রিটার্ন সরবরাহ করবে বলে তারা আশা করছেন। ভিয়েনামের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ভিয়েতকমব্যাংক, টেককমব্যাংক ও এশিয়া কমার্শিয়াল ব্যাংক ভালো করবে বলে মনে করছে জেপি মরগান।

মোদি বলেন, তুলনামূলক সুবিধাজনক সামষ্টিক অর্থনৈতিক ফ্যাক্টরগুলোর কারণে ভিয়েতনামি ব্যাংকগুলো ঘিরে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। রফতানিমুখী খাতগুলোর উৎপাদনশীলতা উন্নয়ন প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) টেনে আনছে, যা আগামী কয়েক বছর রফতানি ও চলতি হিসাব উদ্বৃত্তের উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটাবে। পাশাপাশি দেশটিতে পর্যাপ্ত তারল্য নিশ্চিত করবে।

মোদি বলেন, যেহেতু আমাদের কাছে রফতানি, চলতি হিসাব উদ্বৃত্ত ও তারল্যে এ ধরনের ইতিবাচক তথ্য রয়েছে, সে কারণে আমরা নিশ্চিন্তে দেশটির ব্যাংকিং খাতের উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি ও মুনাফার পূর্বাভাস করতে পারছি।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল স্থানান্তরিত হওয়ায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটি লাভবান হচ্ছে বলে মনে করা হয়।

ভিয়েতনাম বাদেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাকি দেশগুলোতেও একাধিক সুযোগ রয়েছে। তবে প্রতিটি বাজারের ঝুঁকি ও রিটার্নের মাত্রায় ভিন্নতা রয়েছে বলে হর্ষ মোদি জানান।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ান ব্যাংকগুলোর ওপর আস্থা রয়েছে জেপি মরগানের। এর মধ্যে ব্যাংক মান্দিরি, ব্যাংক রাকায়েত ইন্দোনেশিয়া ও ব্যাংক সেন্ট্রাল এশিয়া বেশি ভালো করবে বলে মনে করছে জেপি মরগান। থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনের ক্ষেত্রে যথাক্রমে কাশিকর্নব্যাংক, ব্যাংকক ব্যাংক, মেট্রোপলিটান ব্যাংক ও ট্রাস্ট কোম্পানি এবং ইস্ট ওয়েস্ট ব্যাংকিং করপোরেশন বেশি ভালো করবে বলে মনে করছে মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংকটি।

তবে এশিয়ার অনেক অঞ্চলের বিনিয়োগ সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন মোদি। এক্ষেত্রে তিনি ভিয়েতনাম ও বাকিদের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলো তুলে ধরেন। মোদি বলছেন, ভিয়েতনামে তুলনামূলক সীমিত বাজার প্রবেশাধিকার বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ আগ্রহী করছে, অন্যদিকে বাকিদের উন্নত অবকাঠামো স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ সহজতর করেছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন