মঙ্গলবার | আগস্ট ০৪, ২০২০ | ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭

টেলিকম ও প্রযুক্তি

২০১৯ সাল

ফাইভজি স্মার্টফোন সরবরাহ সাড়ে ১৩ মিলিয়ন ইউনিটে পৌঁছবে

বণিক বার্তা ডেস্ক

বৈশ্বিক টেলিযোগাযোগ খাতে পঞ্চম প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি ফাইভজি চালু হলে স্মার্টফোন বাজার চাঙ্গা হবে। বিভিন্ন বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমনটাই পূর্বাভাস দিয়েছিল। এবার বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইএইচএস মার্কিটের পক্ষ থেকে চলতি বছর ফাইভজি সমর্থিত স্মার্টফোন সরবরাহ ১ কোটি ৩৫ লাখ ইউনিটে (১৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন) এবং ২০২০ সালে তা কয়েক গুণ বেড়ে ২৫ কোটি ৩০ লাখ ইউনিটে (২৫৩ মিলিয়ন) পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। খবর টেলিকম লিড।

বিশ্বের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগাযোগ বাজারে ফাইভজির বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যবহারের দিক থেকে ফোরজির চেয়ে ফাইভজির বিস্তার দ্রুত হচ্ছে। উন্নত ও দ্রুতগতির এ নেটওয়ার্ক সেবা ব্যবহারে ফাইভজি সমর্থিত স্মার্টফোন প্রয়োজন। যে কারণে ফাইভজি সমর্থিত স্মার্টফোনের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে ফাইভজি ফোনের চাহিদা বৃদ্ধি সামগ্রিক স্মার্টফোন বাজারের মন্দা ভাব কাটিয়ে উঠতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বিশ্বজুড়ে ফাইভজির পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরুর লক্ষ্যে কার্যক্রম জোরদার করেছে সেলফোন অপারেটরগুলো। এ মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকেও ফোরজির চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এছাড়া ফাইভজি নেটওয়ার্ক প্রযুক্তির ফলে সেলফোন অপারেটরগুলোর আয়ের নতুন পথ উন্মোচন হবে। ফলে টেলিযোগাযোগ সেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের আশা করা হচ্ছে।

আইএইচএস মার্কিটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বৈশ্বিক বাজারে যতসংখ্যক ইউনিট ফাইভজি ফোন বিক্রি হয়েছে, তার তিন-চতুর্থাংশই স্যামসাং ব্র্যান্ডের। অর্থাৎ বৈশ্বিক ফাইভজি স্মার্টফোন বাজারেও আধিপত্য ধরে রেখেছে স্যামসাং। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির ফাইভজি স্মার্টফোন সরবরাহ ৩২ লাখ ইউনিটে পৌঁছেছে, যা প্রান্তিকটিতে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ হওয়া মোট ৪৩ লাখ ফাইভজি স্মার্টফোনের ৭৪ শতাংশ।

চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) স্যামসাংয়ের ফাইভজি স্মার্টফোন সরবরাহ ১৫ লাখ ইউনিটে পৌঁছেছিল, যা তৃতীয় প্রান্তিকে দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে বৈশ্বিক ফাইভজি স্মার্টফোন বাজারের ৮৩ শতাংশই ছিল স্যামসাংয়ের দখলে।

বৈশ্বিক ফাইভজি স্মার্টফোন বাজারের ১০ শতাংশ দখলে নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক আরেক হ্যান্ডসেট নির্মাতা এলজি ইলেকট্রনিকস। ক্রমবর্ধমান বাজারটির ৯ শতাংশ দখলে নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে চীনভিত্তিক ভিভো। এছাড়া হুয়াওয়ে ও অপো যথাক্রমে বাজারটির ৩ শতাংশ করে দখলে নিয়ে চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।

বৈশ্বিক ফাইভজি স্মার্টফোন বাজারে স্যামসাং ও এলজির এগিয়ে থাকার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে স্থানীয় বাজারে আগ্রাসী প্রমোশন নীতি। দক্ষিণ কোরিয়া অন্য টেলিযোগাযোগ বাজারগুলোর চেয়ে কিছুটা আগেই ফাইভজি চালু করেছিল।

বৈশ্বিক বাজারে এখন পাঁচটি মডেলের ফাইভজি ফোন সরবরাহ করছে স্যামসাং। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে এরগ্যালাক্সি নোট ১০ প্লাস ফাইভজি ডিভাইসটি সর্বাধিক বিক্রি হওয়া মডেলের তকমা দখলে নিয়েছে। গত প্রান্তিকে স্যামসাং মোট যতসংখ্যক ইউনিট ফাইভজি ফোন বিক্রিতে সক্ষম হয়েছে, তার মধ্যে গ্যালাক্সি নোট ১০ প্লাস ফাইভজি ছিল ১৬ লাখ ইউনিট।

আইএইচএস মার্কিটের স্মার্টফোন গবেষণা বিভাগের পরিচালক জুসি হোং বলেন, স্যামসাং তাদের নতুন একগুচ্ছ স্মার্টফোনে ফাইভজি প্রযুক্তি যুক্ত করতে কাজ করছে। এসব ডিভাইসের মধ্যে রয়েছে গ্যালাক্সি এ৯০ এবং গ্যালাক্সি ফোল্ড ফাইভজি। ডিভাইসগুলো উন্মোচন করা হলে ফাইভজি স্মার্টফোন বাজারে স্যামসাংয়ের আধিপত্য আরো বাড়বে।

বিশ্লেষকদের দাবি, ফাইভজি স্মার্টফোন ব্যবহার করে মোবাইল নেটওয়ার্কে থেকে ব্রডব্যান্ড কিংবা ওয়াই-ফাই সংযোগের চেয়ে আরো উন্নত ভিডিও দেখা ও গেম খেলার সুবিধা মিলবে। এ নেটওয়ার্কে ফাইল আদান-প্রদান অন্য যেকোনো নেটওয়ার্ক প্রযুক্তির চেয়ে শতগুণ দ্রুতগতির হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন