শুক্রবার | জুলাই ০৩, ২০২০ | ১৮ আষাঢ় ১৪২৭

পণ্যবাজার

পেঁয়াজ সংকট : এশিয়ার বাজারে অন্যতম সরবরাহকারী হয়ে উঠছে চীন

বণিক বার্তা ডেস্ক

বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল শ্রীলংকাসহ এশিয়ার বাজারে পেঁয়াজ নিয়ে রীতিমতো কাড়াকাড়ি লেগে আছে। পেঁয়াজ সংকট এতটা তীব্র যে, রীতিমতো  ডাকাতি, চোরাচালান এটি নিয়ে হাতাহাতি এখন এশিয়ার বাজারে অহরহ ঘটছে। অবস্থায় অস্থির হয়ে ওঠা এশিয়ার বাজারে এখন পেঁয়াজের অন্যতম সরবরাহকারী হয়ে উঠেছে চীন।

গত সপ্তাহে ভারতের মধ্যপ্রদেশের উদ্দেশে গমনকারী একটি পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাক মাঝপথ থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। ট্রাকটি প্রায় ২০ লাখ রুপি মূল্যের পেঁয়াজ নিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছিল। এছাড়া ভারত থেকে অবৈধভাবে নেপালে যাওয়া প্রায় কোটি রুপির ১৪ ট্রাক পেঁয়াজ জব্দ করেছেন ভারতের কাস্টমস কর্মকর্তারা। অবৈধপথে পেঁয়াজ আসছে বাংলাদেশেও। এশিয়ার বাজারে পেঁয়াজ সংকট যখন প্রকট আকার ধারণ করছে, তখন অঞ্চলে সরবরাহ বাড়াচ্ছে চীন। এরই মধ্যে ভারতীয় পেঁয়াজের অন্যতম আমদানিকারক নেপালেও সরবরাহ বাড়িয়েছে চীন।

আন্তর্জাতিক বাজারে পেঁয়াজের শীর্ষ রফতানিকারক ভারত। কিন্তু অসময়ে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে দেশটির প্রধান প্রধান উৎপাদন অঞ্চলে আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে দেশটির বাজারে লাগামহীন হয়ে ওঠে মসলাজাতীয় পণ্যটির দাম। অবস্থায় সেপ্টেম্বর থেকে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয় ভারত। তবে ভারতীয় পেঁয়াজের ওপর নির্ভরশীল নেপালে সরবরাহ থেমে নেই। ভারত থেকে প্রচুর পরিমাণে পেঁয়াজ চোরাই পথে দেশটিতে প্রবেশ করছে বলে নেপালের কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এছাড়া চীন থেকেও আমদানি বাড়াচ্ছে দেশটি।

নেপালের কাস্টমস অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মধ্য জুলাই থেকে চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে কোটি ৪৪ লাখ নেপালি রুপির সমপরিমাণ সতেজ পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। এছাড়া ৫১ লাখ ৯০ হাজার রুপির শুষ্ক পেঁয়াজ আমদানি করেছে দেশটি। আর ভারত থেকে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করার পর চীন থেকে ২৪০ টনের মতো পেঁয়াজ আমদানি করেছে নেপাল। এছাড়া নেপাল-চীনের মধ্যকার অন্যান্য সীমান্ত দিয়েও দেশটির বাজারে চীনা পেঁয়াজের প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে।

চীনের একাডেমি অব সোস্যাল সায়েন্সের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান রুরাল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের রিসার্চ ফেলো লি গোশিয়াং মনে করেন, এশিয়ার বাজারে পেঁয়াজের সংকট মোকাবেলা করতে সক্ষম চীন। তিনি বলেন, চীনে পর্যাপ্ত পরিমাণ পেঁয়াজের মজুদ রয়েছে। এছাড়া দেশটিতে উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত জায়গাও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চীন আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যতম পেঁয়াজ সরবরাহকারী হিসেবেও জায়গা ধরে রেখেছিল। এসব কারণে পেঁয়াজ উৎপাদন বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ আন্তর্জাতিক বাজার মোকাবেলায় চীনের সক্ষমতা রয়েছে।

লি গোশিয়াং আরো মনে করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চীনের পেঁয়াজ প্রতিযোগিতায় সক্ষম। কারণ তুরস্ক, মিসরের চেয়ে কম খরচে পেঁয়াজ উৎপাদন করতে সক্ষম চীন। এছাড়া দেশটির পেঁয়াজ মানের দিক থেকেও উন্নত বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে শীর্ষ রফতানিকারক হওয়া সত্ত্বেও এরই মধ্যে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে মিসর তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আমদানি করেছে ভারত। অবস্থায় নেপাল, বাংলাদেশসহ এশিয়ার বাজারে সরবরাহের পাশাপাশি ভারতেও পেঁয়াজ রফতানি করতে চীন প্রস্তুত বলে জানান লি গোশিয়াং। তিনি বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পেঁয়াজ সরবরাহের অনুরোধ জানানো হলে আমার বিশ্বাস, চীনা সরকার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে। সব মিলিয়ে এশিয়ার বাজারে পেঁয়াজের বর্তমান সংকটাপূর্ণ অবস্থায় চীন আমদানিকারকদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকবে বলে মনে করেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: সিজিটিএন সিনহুয়া

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন