শনিবার| জানুয়ারি ১৮, ২০২০| ৪মাঘ১৪২৬

প্রথম পাতা

শহরাঞ্চলে নাগরিকদের আয়ু বাড়ায় সবুজ এলাকার উপস্থিতি

বণিক বার্তা ডেস্ক

নানামুখী দূষণে বিপর্যস্ত নগর জীবনে নাগরিকদের মানসিক দৈহিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার বিষয়টি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্টদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমস্যার সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হিসেবে বলা হচ্ছে নগরে গাছপালায় পূর্ণ তথা সবুজায়িত এলাকা বৃদ্ধির কথা। নানামুখী গবেষণায়ও এর সপক্ষে পাওয়া গেছে নানা তথ্যপ্রমাণ। এমনই এক সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে, শহরাঞ্চলে সবুজ এলাকার উপস্থিতি হতে পারে নাগরিকদের আয়ু বৃদ্ধির সহায়ক। যৌথ গবেষণায় পাওয়া শক্ত প্রমাণাদির ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন স্পেনের বার্সেলোনা ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল হেলথ (আইএসগ্লোবাল) এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্ট কলিন্সভিত্তিক কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞরা। গবেষণার বিষয়বস্তু নিবন্ধ আকারে প্রকাশ হয়েছে ল্যানসেট প্ল্যানেটারি হেলথ জার্নালে। খবর মেডিকেল নিউজ টুডে।

বিশ্বব্যাপী নগরমুখী জনসংখ্যার চাপ বাড়ছে। বাংলাদেশেও রাজধানী ঢাকা অন্যান্য বড় শহরমুখী মানুষের ঢল থেকেই কথার সত্যতা পাওয়া যায়। ব্যাপক শিল্পায়ন, আবাসন সংকট, পরিবহন ব্যবস্থার ওপর চাপ এবং আরো নানাবিধ কারণে নগর জীবন থেকে সবুজের মাত্রা যেন দিনে দিনে কমে আসছে। অথচ নানামুখী সংকটে বিপর্যস্ত নগর জীবনে নাগরিকদের মানসিক দৈহিক সুস্থতা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য সবুজ গাছপালাপূর্ণ এলাকা, পার্ক ইত্যাদির গুরুত্ব অপরিসীম। একই সঙ্গে বায়ু শব্দদূষণ হ্রাস, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও মুখ্য ভূমিকা পালন করে নগরের সবুজায়িত এলাকাগুলো। শহরাঞ্চলের নাগরিকদের মানসিক কল্যাণ এবং জনস্বাস্থ্যে সবুজ এলাকার অপরিহার্যতায় গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (ডব্লিউএইচও)

গবেষকরা বলছেন, নগরে পার্ক, খেলার মাঠ, লেকসাইড বাগানের মতো বৃক্ষরাজি শোভিত এলাকাগুলো নাগরিকদের ব্যায়াম, খেলাধুলাসহ নানাবিধ দৈহিক শ্রমের সুযোগ করে দেয়। একই সঙ্গে তাদের মানসিক প্রশান্তি আনা এবং চাপ অবসাদ দূর করার পাশাপাশি পরিবেশের উত্তাপ থেকেও রেহাই পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে এসব এলাকা। ফলে নাগরিকদের মানসিক দৈহিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত হয়। এছাড়া তা নাগরিক নানামুখী দূষণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা রাখে।

শহরাঞ্চলের বাসিন্দাদের ওপর সবুজ এলাকার উপস্থিতির প্রভাব খতিয়ে দেখতে আইএসগ্লোবাল এবং কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা একযোগে সাতটি দেশের ৮০ লাখ মানুষের ওপর গবেষণা চালান। গবেষণা পরিচালিত হয়েছে কয়েক বছর ধরে।

আইএসগ্লোবালের আরবান প্ল্যানিং, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হেলথ ইনিশিয়েটিভ বিভাগের পরিচালক . মার্ক নিউওয়েনহুইসেন বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, শহরাঞ্চলে সবুজ এলাকার উপস্থিতি অকালমৃত্যু কমায়।

তিনি বলেন, শহরগুলোয় সাধারণত খুব বেশি সবুজ এলাকার উপস্থিতি দেখা যায় না। অথচ এসব সবুজায়িত এলাকা শহরাঞ্চলে হিট আইল্যান্ড ইফেক্ট (কোনো একটি নির্দিষ্ট এলাকায় আশপাশের তুলনায় তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া) কমানোর পাশাপাশি বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখে। এছাড়া সবুজ এলাকাগুলো কার্বন শোষণের ক্ষেত্রেও ভালো ভূমিকা রাখে। অর্থাৎ, নানামুখী ভূমিকা রাখার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য হারে অকালমৃত্যু রোধে ভূমিকা রাখে শহরাঞ্চলে সবুজের উপস্থিতি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন