রবিবার| জানুয়ারি ১৯, ২০২০| ৬মাঘ১৪২৬

পণ্যবাজার

নভেম্বরে বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের দাম দুই বছরের সর্বোচ্চে

বণিক বার্তা ডেস্ক

 টানা কয়েক মাস ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের দাম ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের নভেম্বরেও খাদ্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল, যা দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ জাতিসংঘের খাদ্য কৃষি (এফএও) সংস্থার প্রতিবেদনে তথ্য উঠে এসেছে

প্রতি মাসে বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের বাজার নিয়ে মূল্যসূচক প্রতিবেদন প্রকাশ করে এফএও গত নভেম্বরে বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের বাজার নিয়ে ডিসেম্বর এবার মূল্যসূচক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংস্থাটি গড় ১৭৭ দশমিক পয়েন্টের ওপর ভিত্তি করে এবারের প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে প্রতিবেদন অনুযায়ী, নভেম্বরে বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের দাম আগের মাসের তুলনায় বেড়েছে দশমিক শতাংশ আর গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে দশমিক শতাংশ মূলত সময়ে ভোজ্যতেল মাংসের দাম বাড়ার ফলে খাদ্যপণ্যের গড় মূল্য বেড়েছে

এফএওর মূল্যসূচক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নভেম্বরে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ভোজ্যতেলের দাম সময়ে ভোজ্যতেলের মূল্যসূচক বেড়েছে ১০ দশমিক শতাংশ আগামী বছর থেকে বায়োডিজেল খাতে পাম অয়েলের ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে ভোজ্যতেলটির সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে অবস্থায় ভোজ্যতেলটির আমদানি বাড়িয়েছে ভোক্তা দেশগুলো আর এতেই চাঙ্গা হয়েছে পাম অয়েলের বাজার পাশাপাশি বেড়েছে সয়াবিন সরিষা তেলের দামও

অন্যদিকে সময় মাংসের মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় বেড়েছে দশমিক শতাংশ, যা এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ আর সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম ছিল ঊর্ধ্বমুখী নভেম্বরে চিনির মূল্যসূচক বেড়েছে দশমিক শতাংশ আগামী বছর আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির ব্যবহার উৎপাদনকে ছাড়িয়ে যাবেএমন পূর্বাভাসে পণ্যটির দাম বেড়েছে মূলত অন্যতম শীর্ষ চিনি উৎপাদক দেশ থাইল্যান্ড, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্সে আগামী মৌসুমে চিনির উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে

ভোজ্যতেল, চিনি মাংসের মতো মূল্যসূচক বেড়েছে দুগ্ধপণ্যেরও টানা দুই মাস নিম্নমুখী থাকার পর নভেম্বরে দুগ্ধপণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে মূলত দুগ্ধপণ্যের শীর্ষ উৎপাদন অঞ্চল ইউরোপে সময়ে উৎপাদন কমতির দিকে ছিল এর বিপরীতে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় দুগ্ধপণ্যের বাজার সময়ে চাঙ্গা হয়ে ওঠে সময়ে ননীযুক্ত ননীমুক্ত গুঁড়া দুধের দাম বৃদ্ধি পায় পাশাপাশি বৃদ্ধি পায় মাখনের দামও ফলে নভেম্বরে দুগ্ধপণ্যের মোট মূল্যসূচকে পরিবর্তন ঘটে

তবে এসব খাদ্যপণ্যের দাম বাড়লেও বিপরীত অবস্থা হয়েছে খাদ্যশস্যের দামে নভেম্বরে বৈশ্বিক খাদ্যশস্যের মূল্যসূচক দশমিক কমেছে মূলত শীর্ষ গম রফতানিকারক দেশগুলো থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি করায় খাদ্যশস্যটির বাজার নিম্নমুখী হয় একই অবস্থা চাল ভুট্টার ক্ষেত্রেও আর্জেন্টিনা ব্রাজিলের ভুট্টার দাম তুলনামূলক ভালো অবস্থায় থাকলেও অন্যতম শীর্ষ উৎপাদক যুক্তরাষ্ট্রে ভুট্টার বাজার নিম্নমুখী ছিল

খাদ্যপণ্যের মূল্যসূচকের পাশাপাশি বৈশ্বিক খাদ্যশস্যের উৎপাদন প্রাক্কলন তথ্যও প্রকাশ করেছে এফএও প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর বৈশ্বিক খাদ্যশস্যের উৎপাদন গত বছরের তুলনায় দশমিক শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াতে পারে ২৭১ কোটি ৪০ লাখ টনে, যা -যাবত্কালের সর্বোচ্চ উৎপাদন মূলত চীন, রাশিয়া ইউক্রেনের মতো দেশগুলোয় চলতি বছরে দানাদার খাদ্যশস্যের উৎপাদন আগের প্রাক্কলনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছে এফএও

এর মধ্যে চলতি বছরে বিশ্বব্যাপী ভুট্টার উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াতে পারে ১৪৩ কোটি ৩০ লাখ টনে অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোর উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে চলতি বছর গমের উৎপাদন হতে পারে ৭৬ কোটি ৬৪ লাখ টন, যা গত বছরের তুলনায় দশমিক শতাংশ বেশি তবে গত বছর চাল উৎপাদন রেকর্ড করলেও চলতি বছরে বিশ্বব্যাপী চালের উৎপাদন দশমিক শতাংশ কমতে পারে সময় খাদ্যপণ্যটির উৎপাদন দাঁড়াতে পারে ৫১ কোটি ৫০ লাখ টনের কাছাকাছি

উৎপাদনের পাশাপাশি চলতি বছরে খাদ্যশস্যের ব্যবহারও বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছেন এফএও প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯-২০ মৌসুমে খাদ্যশস্যের ব্যবহার গত মৌসুমের তুলনায় কোটি ১০ লাখ টন বেড়ে ২৭০ কোটি ৯০ লাখ টনে দাঁড়াতে পারে

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন