রবিবার| জানুয়ারি ১৯, ২০২০| ৬মাঘ১৪২৬

পণ্যবাজার

প্রাকৃতিক রাবার

থাইল্যান্ডের রফতানি বৃদ্ধিতে চাপে কম্বোডিয়া

বণিক বার্তা ডেস্ক

 প্রাকৃতিক রাবার রফতানি কয়েক মাস ধরে কমিয়ে আনছিল শীর্ষ উৎপাদক দেশ থাইল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমুখী থাকা বাজার চাঙ্গা করতে অন্যতম শীর্ষ দুই উৎপাদক ইন্দোনেশিয়া মালয়েশিয়াকে নিয়ে গঠিত জোটের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী রফতানি কমিয়ে আনে দেশটি তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দেশটি এখন নতুন করে রফতানি বাড়াতে যাচ্ছে আর এতেই উদ্বেগ বাড়ছে কম্বোডিয়ার উৎপাদক রফতানিকারকদের মধ্যে কারণ এতদিন সরবরাহ সংকটে থাকা বাজারে ভালো দামে রাবার রফতানি করতে সক্ষম হয়েছিল দেশটি, যা এখন কার্যত ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে খবর নমপেন পোস্ট

বৈশ্বিক রাবাবের ৭০ শতাংশ উৎপাদন হয় থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া মালয়েশিয়ায় দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশ তিনটি নিয়ে গঠিত জোটের নাম ইন্টারন্যাশনাল থ্রিপাট্রিট রাবার কাউন্সিল বা আইটিআরসি সরবরাহ কমিয়ে বাজার চাঙ্গা করতে গত মার্চে চার মাসের জন্য রফতানি কমিয়ে দিতে সিদ্ধান্ত নেয় জোটটি, যা মে মাসের শেষ দিক থেকে শুরু হয়ে চলে সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে চার মাসে দেশ তিনটি লাখ ৪০ হাজার টন রাবার রফতানি কমাতে সিদ্ধান্ত নিলেও শেষ পর্যন্ত লাখ ৪১ হাজার ৬৪৮ টন রফতানি কমিয়ে আনে আইটিআরসি

রফতানি কমিয়ে আনার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর শীর্ষ উৎপাদক থাইল্যান্ড এখন রফতানি বাড়াতে জোরেশোরে কাজ করছে বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী জুরিন লক্ষ্যনাউইত এরই মধ্যে আড়াই লাখ টনের বেশি রাবার সরবরাহ করতে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিও করেছে দেশটি আর এতেই উদ্বেগ দেখা দিয়েছে আইটিআরসির বাইরে অন্যতম রাবার উৎপাদক দেশ কম্বোডিয়ায় কারণ দেশটি প্রাকৃতিক রাবার উৎপাদন করলেও শিল্প খাতে এটির ব্যবহার কম ফলে অধিকাংশ রাবারই রফতানি করে দেশটি

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশটি থেকে লাখ ১০ হাজার টন রাবার রফতানি হয়েছে, যা থেকে দেশটির আয় এসেছে ৩০ কোটি ডলার আর চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে রফতানি হয়েছে লাখ ৭৩ হাজার ৭২ টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি সময় দেশটি রফতানি থেকে আয় করেছে ২৩ কোটি ১০ লাখ ডলার

এতদিন সরবরাহ সংকটে বাজার কিছুটা চাঙ্গা হয়েছে এছাড়া শীর্ষ রফতানিকারক দেশগুলোর সরবরাহ কম থাকায় বাজার ধরতে সুবিধা হয়েছে কম্বোডিয়ার কিন্তু থাইল্যান্ডের রফতানি বৃদ্ধিতে উদ্বৃত্ত সরবরাহের ফলে দাম বাজার হারানোর শঙ্কা দেখছেন কম্বোডিয়ার উৎপাদক ব্যবসায়ীরা

কম্বোডিয়ার অন্যতম শীর্ষ রাবার উৎপাদক রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান সপহেক নিকা ইনভেস্টমেন্ট অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্লান্টসের কর্ণধার পরিচালক মেন সপহেক মনে করেন, থাইল্যান্ড আইটিআরসি রফতানি বৃদ্ধি করলে সেটি কম্বোডিয়ার আয় উৎপাদন ব্যাহত করবে কারণ প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বাজার প্রতিযোগিতায় কম্বোডিয়ার সক্ষমতা খুবই সীমিত

উদ্বেগ প্রকাশ করে ব্যবসায়ী বলেন, শীর্ষ উৎপাদক দেশগুলোর রাবার বিক্রি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আমাদের উদ্বেগে ফেলেছে কারণ এতে আন্তর্জাতিক বাজারে রাবারের দাম আরো কমে আসবে আর তিনটি দেশের তুলনায় কম্বোডিয়ার উৎপাদন খরচ অনেক বেশি ফলে বাকি  উৎপাদক রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো চাপে পড়ে যাবে বলেও জানান তিনি

অন্যদিকে রফতানি বৃদ্ধি পেলে আন্তর্জাতিক বাজারে রাবারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বাড়বে মেন সপহেকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাকৃতিক রাবারের চাহিদা কমে যাচ্ছে এরই মধ্যে চাহিদা কমে ১৫ লাখ টন থেকে নেমে ১০ লাখ টনের নিচে চলে এসেছে

আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে প্রতি টন রাবার হাজার ৪০০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে কম্বোডিয়ার ডিপার্টমেন্ট অব ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিং অ্যান্ড কো-অপারেশনের উপপরিচালক হর্ন সাপহান মনে করেন, থাইল্যান্ডের রাবার রফতানি বৃদ্ধির ফলে বৈশ্বিক বাজারে চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত সরবরাহ তৈরি হবে তা সত্ত্বেও আগামী কয়েক বছর রাবারের দাম অপরিবর্তিত থাকবে তবে সময় কম্বোডিয়ার রফতানি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন