শনিবার| জানুয়ারি ১৮, ২০২০| ৫মাঘ১৪২৬

প্রথম পাতা

প্রতিবন্ধীদের প্রতি নেতিবাচক মানসিকতা পরিহার করুন —প্রধানমন্ত্রী

বণিক বার্তা ডেস্ক

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি নেতিবাচক মানসিকতা পরিহারে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে ২৮তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস ২১তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আহ্বান জানান তিনি। খবর বাসস।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কানাকে কানা আর খোঁড়াকে খোঁড়া না বলার শিক্ষা শৈশব থেকে আমরা পেয়েছি। শিশুদের শৈশব থেকে শিক্ষা দিতে হবে, যাতে তারা মানবিক হয় এবং আমাদের সঙ্গে একত্রে চলতে পারে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ব্যাপারে আমাদের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে।

সবার জন্য সব মৌলিক চাহিদা পূরণের মাধ্যমে তার সরকার বৈষম্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চায় জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের জন্য স্বাধীনতা নিয়ে এসেছেন। আমাদের লক্ষ্য হলো স্বাধীন দেশের সব জনগণ সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করবে। লক্ষ্য অর্জনে আমরা কাজ করছি।

অটিজম অথবা প্রতিবন্ধিতা কোনো রোগ অথবা অসুস্থতা নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে, যাতে অটিজম অথবা প্রতিবন্ধিতায় যারা ভুগছেন তারা সমাজের মূলধারার সঙ্গে বসবাস করতে পারেন। আমরা জানি, ধরনের প্রতিবন্ধিতায় যেসব শিশু ভুগছে, তাদের বাবা-মায়ের জন্য এটি খুবই বেদনাদায়ক। আমরা তাদের দুর্দশা নিরসনে বিভিন্ন পদক্ষেপ কর্মসূচি গ্রহণ করেছি।

দেশের ব্যাপক আর্থসামাজিক উন্নয়নের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার উন্নয়নে প্রতিবন্ধীদের ওপর জোর গুরুত্ব দিয়েছে। আমরা চাই দেশের উন্নয়ন। আর প্রতিবন্ধীদের গুরুত্ব দিচ্ছি, যাতে তারা উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে না থাকে।

প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে তার সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের বিবরণ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর ১৯৯৯ সালে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করে। পরে আমরা তাদের অধিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার সুরক্ষা আইন, ২০১৩; নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন, ২০১৩ এবং পুনর্বাসন কাউন্সিল আইন, ২০১৮ প্রণয়ন করেছি।

প্রধানমন্ত্রী জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের আরো প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন, যাতে অন্যদের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার প্রয়োজন না হয়। তিনি বলেন, কেবল আর্থিক সহায়তা প্রদান নয়, বরং ফাউন্ডেশন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাহায্য করতে পারে।

জেলা উপজেলা পর্যায়ে প্রতিবন্ধীদের জন্য প্রশিক্ষণ, খেলাধুলা এমনকি কর্মসংস্থানের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তার সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তার সরকার সামাজিক নিরাপত্তাবলয় কর্মসূচির অধীনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ভাতা প্রদান করছে। আমরা প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের স্টাইপেন্ড বৃত্তি প্রদান করছি। ৮০ কোটি টাকা খরচ করে আমরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রশিক্ষণ, খেলাধুলা, পুনর্বাসন, গৃহায়ন বিনোদনসহ বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে সুবর্ণ ভবন নির্মাণ করেছি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জুয়েনা আজিয়া জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের সভাপতি সায়েদুল হক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পক্ষে বক্তৃতা করেন ন্যাশনাল স্পেশালাইজড এডুকেশন সেন্টারের পঞ্চম গ্রেডের শিক্ষার্থী ফেরদৌসী আখতার।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন