শনিবার| জানুয়ারি ১৮, ২০২০| ৫মাঘ১৪২৬

শেষ পাতা

অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাস

রফতানি কমেছে ৭.৫৯%

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ থেকে পণ্য রফতানি কমছেই। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) বিশ্ববাজারে হাজার ৫৭৭ কোটি ৭০ লাখ ৭০ হাজার ডলারের পণ্য রফতানি করেছে বাংলাদেশ। যদিও গত অর্থবছরের একই সময়ে হাজার ৭০৭ কোটি ৩৭ লাখ ৬০ হাজার ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছিল। সে হিসেবে এবার রফতানি কমেছে দশমিক ৫৯ শতাংশ। রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ রফতানি পরিসংখ্যানে তথ্য জানা গেছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি হালনাগাদ রফতানি পরিসংখ্যান গতকাল প্রকাশ করেছে ইপিবি। এতে দেখা যায়, প্রধান রফতানি পণ্য তৈরি পোশাকের রফতানি কমে যাওয়ার প্রভাবে সামগ্রিক রফতানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে পোশাক পণ্যের রফতানি কমেছে দশমিক ৭৪ শতাংশ। পোশাকের মতো চামড়া চামড়াজাত পণ্যের রফতানিও ১০ দশমিক শূন্য শতাংশ কমেছে সময়। তবে ১৫ দশমিক ১৬ শতাংশ বেড়েছে পাট পাটজাত পণ্যের রফতানি।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে দেশ থেকে পোশাক রফতানি হয় হাজার ৪১৮ কোটি ৬২ লাখ ডলারের। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা হাজার ৩০৮ কোটি ৮৬ লাখ ৯০ হাজার ডলারে নেমে এসেছে। অর্থাৎ রফতানি কম হয়েছে ১০৯ কোটি ৭৫ লাখ ১০ হাজার ডলারের পণ্য।

দেশের রফতানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক থেকে। পণ্যটির রফতানি কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক রফতানিতে। মূলত চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক থেকেই পোশাকসহ সামগ্রিক রফতানিতে পতন শুরু হয়। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে সামগ্রিক রফতানি কমেছিল দশমিক ৯৪ শতাংশ, আর পোশাক রফতানি কমেছিল দশমিক ৬৪ শতাংশ। এরপর জুলাই-অক্টোবর সময়ে সামগ্রিক রফতানিতে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি দশমিক ৮২ শতাংশে দাঁড়ায়, যা পোশাকের ক্ষেত্রে হয় দশমিক ৬৭ শতাংশ। সর্বশেষ পাঁচ মাসের হিসাবে সামগ্রিক রফতানি কমেছে দশমিক ৫৯ শতাংশ, আর পোশাক রফতানি কমেছে দশমিক ৭৪ শতাংশ।

পোশাক রফতানিকারকরা বলছেন, পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা যে বিপন্ন হচ্ছে, তারই প্রকাশ ধারাবাহিক রফতানি কমতে থাকা। গত ডিসেম্বরে নিম্নতম মজুরি বৃদ্ধির পর সাম্প্রতিক মাসগুলোয় কারখানা বন্ধের প্রভাব দেখা যাচ্ছে রফতানিতে। রফতানি প্রবৃদ্ধির বাঁক ঘোরাতে হলে এখনই যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিজিএমইএ সভাপতি . রুবানা হক বণিক বার্তাকে বলেন, শিল্পের নিরাপত্তা টেকসই রূপ নিশ্চিতে বাংলাদেশ দৃঢ় পদক্ষেপ নিচ্ছে। তার পরও বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর পণ্য সোর্সিংয়ের ধরন পরিবর্তন আমাদের টেকসই পদক্ষেপগুলোর জন্য প্রশ্ন রেখে যাচ্ছে। যা- হোক, বাংলাদেশ যেহেতু খুচরা বাজারের নিচু ধাপ নিয়েই বেশি কাজ করে, তাই ব্যবসায়িক কৌশল নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। মৌলিক পণ্য থেকে মধ্য বা উচ্চ মূল্যের পণ্যে যাওয়াসহ লেডিস গার্লস পোশাকের ক্ষেত্রে কটনভিত্তিক থেকে নন-কটনভিত্তিক বৈচিত্র্যের দিকে ঝুঁকতে হবে।

বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রফতানি প্রবৃদ্ধি ছিল দশমিক ৭০ শতাংশ। অন্যদিকে প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনাম, ভারত, কম্বোডিয়া পাকিস্তানের রফতানি প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ, দশমিক ৯৩, ১৫ দশমিক ৫৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ। একই চিত্র ইউরোপের ক্ষেত্রেও। জুলাই-সেপ্টেম্বরে ইউরোপে বাংলাদেশের রফতানি প্রবৃদ্ধি ছিল দশমিক শতাংশ। অথচ তুরস্ক, ভিয়েতনাম শ্রীলংকার রফতানি প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে দশমিক ৯৮ শতাংশ, দশমিক ৮৮ দশমিক ১৭ শতাংশ।

পোশাক চামড়ার মতো শীর্ষ রফতানি পণ্যে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সম্ভাবনাময় অনেক পণ্যের রফতানিও কমেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে প্রাথমিক পণ্যের মধ্যে হিমায়িত তাজা মাছ রফতানি কমেছে দশমিক ৬২ শতাংশ। কৃষিপণ্য রফতানি কমেছে দশমিক ৬৯ শতাংশ। সিরামিক পণ্যের রফতানি কমেছে ৬৭ দশমিক শূন্য শতাংশ। প্রকৌশল পণ্য ফার্নিচারের রফতানি কমেছে দশমিক দশমিক ১১ শতাংশ।

রফতানিকারকদের সংগঠন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী প্রসঙ্গে বলেন, একক শিল্প হিসেবে তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর অতিনির্ভরতা আমাদের আছে। তবে পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোসহ যেখানেই উন্নয়ন হয়েছে, সেখানে আমরা দেখতে পাই তাদের শুরুটাই হয়েছে টেক্সটাইল তৈরি পোশাক শিল্পের মাধ্যমে। এখনো তৈরি পোশাক শিল্পে প্রণোদনা কিছু সহযোগিতা আমাদের দরকার। কারণ এর মাধ্যমে বড় ধরনের কর্মসংস্থান হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন