রবিবার| জানুয়ারি ২৬, ২০২০| ১৩মাঘ১৪২৬

শেষ পাতা

বাংলাদেশ-ভারত নৌ সচিব বৈঠক

জানুয়ারিতে পরীক্ষামূলক ট্রান্সশিপমেন্ট চালু

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম মোংলা বন্দর ব্যবহার চুক্তির আওতায় ২০২০ সালের জানুয়ারিতে পরীক্ষামূলকভাবে ভারতের পণ্য ট্রান্সশিপমেন্ট শুরু হবে। তবে এখনো ট্রান্সশিপমেন্টের সব ফি নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে পারেনি দুই দেশ। এদিকে ২০১৫ সালে দুই দেশের মধ্যে ট্রানজিট চুক্তি সই হলেও বাংলাদেশকে সুবিধা দিতে আরো সময় নিতে চায় ভারত।

ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্টসহ নৌ-পরিবহনের দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো নিয়ে গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ ভারতের নৌ সচিব পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুস সামাদ ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব গোপাল কৃষ্ণ।

বৈঠক সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম মোংলা বন্দর ব্যবহার করে নাকুগাঁও হয়ে ভারতে পণ্য পরিবহনে একমত হয়েছে দুই দেশ। আর এজন্য আগামী বছরের জানুয়ারিতে পরীক্ষামূলকভাবে পণ্য পরিবহন শুরু করা হবে। তবে ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্টসংক্রান্ত মাশুলগুলো নিয়ে মতানৈক্য রয়ে গেছে। চট্টগ্রাম মোংলা বন্দরের যে নির্ধারিত মাশুলগুলো রয়েছে, তা দিতে রাজি ভারত। তবে চট্টগ্রাম মোংলা বন্দর থেকে ভারতে যাওয়ার জন্য যে সড়ক ব্যবহার করা হবে, তার জন্য যে নির্ধারিত মাশুল রয়েছে, তা দিতে চাইছে না দেশটি। ফলে নিয়ে আরো পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত হয়েছে গতকালের বৈঠকে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, সড়কের মাশুল নির্ধারিত। ভারতের ক্ষেত্রে মাশুল নেবে নাকি নেবে না, সে বিষয়টি সড়ক কর্তৃপক্ষের ওপর ছেড়ে দেয়া হবে। এর বাইরে বন্দরের যে নির্ধারিত মাশুলগুলো রয়েছে, তা তারা পরিশোধ করবে। এক্ষেত্রে ট্রানজিট শুরু হোক, পণ্য পরিবহনে কত খরচ আসে, সেটি পরীক্ষা করে মাশুল নিয়ে আবারো আলোচনা করে ঠিক করবে দুই দেশ।

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, চট্টগ্রাম মোংলা বন্দর ব্যবহারসংক্রান্ত চুক্তির () ধারায় নাকুগাঁও ডামু স্থলবন্দরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে ভারতের আসাম ভুটান থেকে রুটে পণ্য আসতে পারবে।

চট্টগ্রাম মোংলা বন্দর ব্যবহার করে ভারতীয় পণ্য আনা-নেয়ার ওপর আন্তঃসরকার কমিটির বৈঠকের বিষয়ে সচিব বলেন, বাংলাদেশ ভারত গ্যাটের স্বাক্ষরকারী হিসেবে ট্রান্সশিপমেন্ট পণ্যের ওপর কাস্টমস প্রযোজ্য নয়। তবে অপারেশনাল সার্ভিস চার্জ প্রযোজ্য। মোংলা চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারে বিদ্যমান নিজ নিজ ট্যারিফ শিডিউল অনুযায়ী চার্জ আদায় করা হবে। সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী সড়ক চার্জ হবে। তবে সব চার্জই যৌক্তিক বাস্তবভিত্তিক হবে। চুক্তির আওতায় -লক ব্যবহার হবে। অর্থাৎ ভারত থেকে কোনো পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে আসার পর কাস্টমস সেটিকে -লক করবে। ওই পণ্য আখাউড়া দিয়ে গেলে সেই বন্দরে সেই লক কাস্টমস খুলে দেবে। এছাড়া এসব পণ্য আখাউড়া বা অন্য বন্দরে যেখানে যাক না কেন বাংলাদেশের ট্রাক-ট্রেইলার বা নৌযান ব্যবহার করবে।

ট্রান্সশিপমেন্টের পণ্য সড়কপথ ব্যবহারে প্রতি টনে কত টাকা চার্জ আরোপ করা হচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে সচিব বলেন, বন্দরের বিভিন্ন ধরনের ট্যারিফ শিডিউল রয়েছে। প্রতি টনে কত টাকা চার্জ আসবে, সেটা ক্যালকুলেশন (হিসাব) করিনি। বিদ্যমান ট্যারিফ শিডিউল অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দর তাদের ট্যারিফ সড়ক পরিবহন তাদের ট্যারিফ আদায় করবে। আমাদের বন্দরে আসা নৌযানের জন্য যে চার্জ দিতে হয়, ভারতের চার্জ এর চেয়ে কম হতো না।

আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, চার্জ নিয়ে সাধারণ আলোচনা করেছি। তবে ভারতীয় পণ্য যখন যাবে তখন কোন রুটে, কোন পয়েন্টে কত চার্জ পড়বে তা জানা যাবে। জানুয়ারিতে ভারত ট্রায়াল রান করে দেখবে, কোনো সমস্যা আছে কিনা। ভারত থেকে পণ্য চট্টগ্রামে এসে যেসব রুটে রয়েছে সেগুলোতে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে ভারতের সচিব গোপাল কৃষ্ণ বলেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা খুবই আন্তরিক ফলপ্রসূ হয়েছে। বিগত চার বছরে তিনটি চুক্তি হয়েছে। আমরা নৌ-যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে খুবই দ্রুত এগিয়েছি। নৌ-যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের পর্যায়ে রয়েছে। বৈঠকে যেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, তা দুই দেশই যৌক্তিকভাবে বিবেচনা করবে। আলোচনায় আমরা খুবই সন্তুষ্ট। আমরা আরো আলোচনা করব। চার্জ নিয়ম অনুযায়ী হবে। আমরা দুটি ট্রায়াল রান করব। প্রথমটি জানুয়ারিতে হবে। এরপর দ্বিতীয় ট্রায়াল রান। এর পরই দ্রুততার সঙ্গে চালু করতে চাই। এর সুবিধা জনগণ পাবে। সেজন্য দুই দেশই একসঙ্গে কাজ করবে। আমি খুবই হ্যাপি। ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক খুবই ভালো এবং আরো শক্তিশালী হবে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তি হয় ২০১৫ সালের জুনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের সময়ে। এরপর বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ভারত তাদের পণ্য ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্ট করলেও বাংলাদেশকে সুবিধা এখনো দেয়া হয়নি। চুক্তিতে তৃতীয় দেশে পণ্য পরিবহন করার বিষয়ে ঐকমত্য হলেও বাংলাদেশকে ট্রানজিট দেয়নি ভারত।

বিষয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, চুক্তিতে দুই দেশ একমত হয়েছে। তবে তা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরে (এসওপি) বা পিআইডব্লিউটিটিতে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে বাংলাদেশ পণ্য নিয়ে তৃতীয় দেশে যেতে চাইলেও কোন রুট দিয়ে যাবে তা নির্ধারিত নয়, যা বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ভারতের পণ্য নিয়ে যেতে চাইলে তা এসওপি বা পিআইডব্লিউটিটিতে নির্ধারিত। ফলে বাংলাদেশ চাইলেও পণ্য তৃতীয় দেশে পরিবহন করতে পারে না। এটি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। তবে চূড়ান্ত না হওয়ায় শিগগিরই ভারতের কাছ থেকে ট্রানজিট পাচ্ছে না বাংলাদেশ।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন