শুক্রবার | জুলাই ০৩, ২০২০ | ১৮ আষাঢ় ১৪২৭

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

সম্ভাবনা সত্ত্বেও হোঁচট খাচ্ছে কম্বোডিয়ার বাইসাইকেল খাত

বণিক বার্তা ডেস্ক

অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনতে নিজেদের বৈশ্বিক বাণিজ্য কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের রদবদল ঘটাচ্ছে কম্বোডিয়া। দীর্ঘদিন ধরে বাইসাইকেল রফতানি করে আসছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটি। বৈশ্বিক বাজারে সাইকেল রফতানির দিক থেকে চীন, তাইওয়ান, নেদারল্যান্ডস ও জার্মানির পরই কম্বোডিয়ার স্থান। কাঁচামাল ও আনুষঙ্গিক উপকরণ আমদানি করে এতদিন সাইকেল অ্যাসেম্বলিংয়ের কাজ করলেও এখন নিজেরাই স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে তা প্রস্তুত করতে চায় দেশটি। খবর বিবিসি।

সাইকেল প্রস্তুত দেশটির বড় খাত বা সম্পূর্ণ শিল্প হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতার কারণে তা মাঝপথে হোঁচট খেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভিয়েতনামের সঙ্গে সীমান্তবর্তী শহর ব্যাভেটে দেশটির বিশেষ অর্থনৈতিক জোন অবস্থিত। বর্ধমান বৈশ্বিক চাহিদা মেটাতে হো চি মিন শহর থেকে ৫০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শহরটিতে কর্মযজ্ঞ ক্রমেই বাড়ছে। এখানে তাইওয়ান নাগরিকের মালিকানাধীনস্পিডটেক নামের একটি সাইকেল কারখানা রয়েছে।

এখানে সাইকেল কারখানার কর্মীদের মাসিক বেতন ৩৫০ ডলার (২৬৮ পাউন্ড) থেকে শুরু হয়, যা পোশাক শিল্পের তুলনায় ভালো। তবে এসব কারখানার কর্মপরিবেশ বেশ স্যাঁতসেঁতে ও ক্লান্তিকর।

সাইকেল প্রস্তুত কম্বোডিয়ায় শিল্প আকারে আবির্ভূত হওয়া শুরু হলেও তা সম্পূর্ণ শিল্প হিসেবে দাঁড়াতে অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। উদাহরণস্বরূপ স্পিডটেকের কথা বলা যায়। কোম্পানিটি শুধু সাইকেলের ফ্রেম ছাড়া বাকি সবকিছু মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, জাপান বা চীন থেকে আমদানি করে বলে জানান টং। এমনকি ইস্পাত দিয়ে তারা যে ফ্রেম তৈরি করেন, তা-ও চীন থেকে আমদানি করা হয়। অন্যদিকে সাইকেলের সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলো সম্প্রতি কম্বোডিয়ার তুলনায় ভিয়েতনামের দিকে ঝুঁকছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে রফতানি শুল্ক বেড়ে যাওয়া অনেক কোম্পানি নিজেদের কার্যক্রম চীন থেকে কম্বোডিয়া, ভিয়েতনামসহ এ অঞ্চলের অন্য দেশে সরিয়ে নিচ্ছে। অন্যদিকে অস্ত্র ছাড়া বাকি সবকিছু (ইবিএ) চুক্তির অধীনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশ করতে পারে কম্বোডিয়ার পণ্য। কিন্তু দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে একনায়কতন্ত্র জারি থাকায় আগামী ফেব্রুয়ারিতে এ সুবিধা বাতিল করতে পারে ইইউ। এ সুবিধা বাতিল হলে দেশটির বিকাশমান সাইকেল শিল্প অকালে মুখ থুবড়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন