শনিবার| জানুয়ারি ১৮, ২০২০| ৪মাঘ১৪২৬

প্রথম পাতা

আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সভায় প্রধানমন্ত্রী

দুর্নীতিবাজরা আর যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক

অগ্নিসন্ত্রাসী দুর্নীতিবাজরা যেন আর কখনো ক্ষমতায় আসতে না পারে, সেদিকে সজাগ থাকার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল গণভবনে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সভায় সূচনা বক্তব্যে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আমরা সম্মান নিয়ে মাথা উঁচু করে বিশ্বে চলতে পারি। অর্জনটা ধরে রাখতে হবে। ঘুষখোর, সুদখোর, এতিমের অর্থ আত্মসাত্কারী, অর্থ পাচারকারী, গ্রেনেড-বোমা হামলাকারী অগ্নিসন্ত্রাসীরা যেন আর কোনোদিন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে না পারে, দেশকে ধ্বংসের দিকে নিতে না পারে জাতির কাছে আমার সেটাই আহ্বান।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে রাজার হালে আছেন বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া জেলে তো ভালো আছেন। রাজার হালেই আছেন। জেলখানা থেকে এখন হাসপাতালে। তার জন্য আবার মেইড সার্ভেন্ট দেয়া হয়েছে। মানুষ এমনিতে কাজের বুয়া পায় না। আর খালেদা জিয়ার জন্য স্বেচ্ছায় একজন কারাবরণ করছে, তার সেবা করার জন্য। পৃথিবীর কোনো দেশে দৃষ্টান্ত দেখাতে পারবেন না যে, জেলে সাজাপ্রাপ্ত আসামির সেবার জন্য কোনো কাজের বুয়া যায়। সেটাও কিন্তু তিনি (খালেদা জিয়া) পাচ্ছেন।

খালেদা জিয়াকে সন্ত্রাসের গডমাদার আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসের গডমাদার হচ্ছেন খালেদা জিয়া। তিনি বাংলাভাই সৃষ্টি থেকে শুরু করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ মেরেছেন। হরতাল-অবরোধ দিয়ে খালেদা জিয়া মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছেন। সেই অবরোধ-হরতাল এখনো তোলেননি। তার হুকুমে কত মায়ের কোল খালি হয়েছে, কত বোন বিধবা হয়েছে! জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারা এর চেয়ে বড় সন্ত্রাসী কাজ আর কী হতে পারে? তিনি তো জেলে আছেন, বেশ ভালো আছেন। তার জন্য আবার কারো কারো মায়াকান্নাও দেখি।

বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান জড়িত থাকতে পারেন বলে অভিযোগ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যখনই সুষ্ঠুভাবে চলতে শুরু করেছে, তখনই এল ১৫ আগস্ট। আর ১৫ আগস্টের সঙ্গে যে জিয়াউর রহমান জড়িত ছিলেন সেটা খুনি রশিদ ফারুকের বক্তব্যেই প্রমাণিত।

গত জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচন, যে নির্বাচন নিয়ে অনেক কথা বলতে চায় বিএনপি। এটা তারা ভুলে যায় যে একেকটা আসনের পেছনে তারা দু-তিনজনকে মনোনয়ন দিয়েছিল। যে যখন যার কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে তাকেই মনোনয়ন দিচ্ছে। একভাগ দিতে হচ্ছে লন্ডনে আর দুইভাগ বাংলাদেশে। গুলশানের অফিসকেও সন্তুষ্ট করতে হয়েছে, পুরানা পল্টনের অফিসকেও। একটা আসনের জন্য দু-তিনজনকে যারা মনোনয়ন দেয় তারা নির্বাচনে জেতার জন্য না, মনে হয় এটাকে একটা বাণিজ্য হিসেবে নিয়েছিল। আসলে আন্তর্জাতিকভাবে যে সার্ভেটা হয়েছিল তাতে সবাই দেখতে পেয়েছিল, বিএনপি আসন পাবে না। সেজন্য নির্বাচনটাকে তারা ব্যবসা-বাণিজ্য হিসেবে নিয়ে নেয়। সেখানে আসন না পেয়ে অন্যদের দোষারোপ করার কোনো মানে হয় না।

আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তথ্য তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরই দেশের উন্নতি হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকার যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখনই দেশের উন্নতি হয়েছে। আজকে আমরা দশমিক ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

দেশকে এগিয়ে নিতে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক পরিকল্পনা আমরা নিয়েছি। ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে কোথায় নিয়ে যাব। ২০৪১ সালের মধ্যে দেশ উন্নত সমৃদ্ধ হবে। ২১০০ সাল পর্যন্ত আমরা একটা ছক তৈরি করার পরিকল্পনা নিয়েছি। তারই ভিত্তিতে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আমরা বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলাম। সাক্ষরতার হার, বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়িয়েছিলাম, বিদেশী বিনিয়োগ এসেছিল। আমরা প্রতিটি সেক্টরকে বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত করে দিয়েছিলাম। এতে আমাদের অর্থনীতির চাকা আরো সচল হয়। দুর্ভাগ্য হলো, ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে পারিনি। আমাদের আসতে দেয়া হয়নি, সেটা একটা গভীর চক্রান্ত ছিল। ২০০১ সালে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর অমানবিক নির্যাতন শুরু করেছিল। নির্যাতনের শিকার শুধু আমাদের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী তা না, একদিনে ১৩ জন সচিবের চাকরি নাই হয়ে গেল। শত শত সেনা অফিসার, সিভিল প্রশাসকদের চাকরিচ্যুত করা হলো। আর যাদের চাকরিচ্যুত করা হয়নি, তাদের ওএসডি করা হয়েছিল, যতদিন খালেদা জিয়া ক্ষমতায় ছিলেন তারা ওএসডি ছিল। এভাবে তারা অত্যাচারের স্টিম রোলার চালাতে থাকে।

তিনি বলেন, এই যে এতগুলো টেলিভিশন সেটা কে দিয়েছে? এতে বেসরকারি খাত উন্মুক্ত করেছে সেটা কে করেছে? এগুলো আমাদের সরকার করেছে। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালীন তো করেনি। আমি যখনই প্রধানমন্ত্রী হয়েছি, তখনই বেসরকারি টেলিভিশন উন্মুক্ত করে দিয়েছি। এটা শুধু টেলিভিশন না, এর মাধ্যমে কত লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। আর টক শোতে গিয়ে টক-মিষ্টি কথা বলার কত মানুষ পাচ্ছে। টক টক কথা তো বলেই যাচ্ছে। দৃশ্য তো আপনারা দেখতে পাচ্ছেন। এই যে মানুষের কথা বলার সুযোগ, এত কথা বলতে সুযোগ দেয়ার পরও, অত কথা বলার পরও বলবে এই সরকারের আমলে আমাদের কথা বলার অধিকার নেই। বলে যাচ্ছে কিন্তু। তার পরও পরচর্চা করবে। আসলেই ধরনের পরচর্চা এক ধরনের অভ্যাস।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন