শনিবার | ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

শেষ পাতা

যশোরে রাষ্ট্রপতি

সেনাবাহিনীকে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে

বণিক বার্তা প্রতিনিধি যশোর

জনগণের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার জন্য সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। গতকাল যশোর সেনানিবাসে সিগন্যাল কোরের ষষ্ঠ কোর পুনর্মিলনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আহ্বান জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় জনগণই সব ক্ষমতার মালিক। রাষ্ট্র সরকারের সব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয় জনগণের কল্যাণে। তাই আপনাদের দায়িত্ব পালনকালে জনস্বার্থ জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, জনগণের কষ্টার্জিত টাকায়ই দেশের উন্নয়ন রাষ্ট্রের যাবতীয় ব্যয় মেটানো হয়। তাই জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি জনগণের সুখ-দুঃখে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। আমি আশা করি, দায়িত্ব পালনকালে আপনারা শুদ্ধাচার কৌশল যথাযথভাবে প্রতিপালন করবেন। নিজের দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করবেন।

সিগন্যাল কোর সেনাবাহিনীর গৌরবময় ঐতিহ্যের অংশীদার উল্লেখ করে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, স্বাধীনতার পর দেশ গঠন দেশমাতৃকার সেবায় কোরের সদস্যরা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে যেকোনো দুর্যোগময় মুহূর্তে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে জাতীয় পরিচয়পত্র ভোটার তালিকা প্রণয়ন এবং সেবামূলক কর্মকাণ্ডে সিগন্যাল কোরের সদস্যদের অবদান প্রশংসনীয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কুয়েত পুনর্বাসন মিশনে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে সিগন্যাল কোর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও প্রশংসা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। দেশ জাতির প্রয়োজনে ভবিষতেও একইভাবে জনকল্যাণমূলক কাজে সশস্ত্র বাহিনীকে অবদান রাখতে হবে।

তিনি বলেন, যুদ্ধের ময়দানে যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি গুরুত্বপূর্ণ অপরিহার্য অংশ হিসেবে কোর অব সিগন্যালস গুরুদায়িত্ব পালন করে আসছে। আধুনিক যুদ্ধে রণকৌশলগত বিষয়ে উপযুক্ত সিগন্যাল যোগাযোগ কম্পিউটার প্রযুক্তির প্রয়োগ যুদ্ধক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি উন্নত যোগাযোগ সরঞ্জামাদির সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে নিরাপদ নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সরকার প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্যপ্রযুক্তি টেলিযোগাযোগ খাতকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট- উেক্ষপণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ অভিজাত স্যাটেলাইট ক্লাবের সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। বিদেশী স্যাটেলাইটনির্ভরতা পরিহার করে এরই মধ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে অত্যন্ত কার্যকরভাবে ব্যবহূত হচ্ছে, যার সুফল দেশবাসী উপভোগ করছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এরই মধ্যে স্যাটেলাইট হাব স্টেশন স্থাপন করে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে কাজ করছে। এটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একটি অনন্য মাত্রা যোগ হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সেনাসদস্যরা বিশেষত সিগন্যাল কোরের সদস্যরা পেশাদারিত্ব দক্ষতার উন্নয়ন ঘটিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা সার্বভৌমত্ব রক্ষাসহ তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সফলতার সঙ্গে পালনে সক্ষম হবেন বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। আশা করি, সিগন্যাল কোরের ষষ্ঠ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান অবসরপ্রাপ্ত চাকরিরত সর্বস্তরের সদস্যদের মধ্যে সৌহার্দ্য ভ্রাতৃত্ববোধকে আরো দৃঢ় করবে। অর্পিত দায়িত্ব পালনে সবাইকে উৎসাহিত করবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সব শহীদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধ অমর প্রাণ- পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, প্রতিরক্ষাবিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূঁইয়া, যশোর- আসনের সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন, যশোর- আসনের সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) ডা. নাসির উদ্দিন, ঊর্ধ্বতন সামরিক আধা সামরিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের প্রতিরক্ষা সামরিক অ্যাটাশে, সিগন্যাল কোরের বর্তমান অবসরপ্রাপ্ত অফিসার, জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার অন্যান্য পদবির সদস্যরা।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন