শনিবার | ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

শেষ পাতা

বুয়েটে র‌্যাগিং ও রাজনীতিতে জড়ালে বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক

র‌্যাগিংয়ের কারণে কোনো শিক্ষার্থীর মৃত্যু, মারাত্মক শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি কিংবা শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাঘাত ঘটলে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা করবেন। এছাড়া কোনো শিক্ষার্থী রাজনীতিতে জড়ালে তাকেও বহিষ্কার করা হবে। সোমবার রাতে -সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বুয়েট।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাগিংয়ের শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে কয়েক ধাপে। এর মধ্যে রয়েছে কোনো ছাত্রের মৃত্যুর শাস্তি বুয়েট থেকে বহিষ্কার থানায় মামলা দায়ের। কোনো ছাত্র গুরুতর শারীরিক ক্ষতি বা মানসিক ভারসাম্যহীনতার শিকার হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিরতরে বহিষ্কার করা হবে। মৌখিক বা শারীরিক লাঞ্ছনা সাময়িক মানসিক ক্ষতিসহ -সংক্রান্ত অপরাধের শাস্তি হচ্ছে সতর্কতা, জরিমানা, হল থেকে চিরতরে বহিষ্কার বা একাডেমিক কার্যক্রম থেকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিরত রাখা। ধরনের অপরাধীকে শিক্ষাজীবনে ফিরতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিক করে দেয়া মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কাউন্সেলিং করতে হবে।

রাজনীতিতে জড়িত হওয়ার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা জানান দেয়া, রাজনৈতিক সংগঠনের পদে থাকা বা কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলে সর্বোচ্চ সাজা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিরতরে বহিষ্কার। তবে অপরাধ সাপেক্ষে সতর্কতা, জরিমানা, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেকোনো মেয়াদে বহিষ্কারও করা হতে পারে।

গত অক্টোবর বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদকে শেরেবাংলা হলে পিটিয়ে হত্যা করেন ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। এর পর থেকে বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের মুখে বুয়েট কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করাসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি মেনে নেয়। সর্বশেষ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। সেই দাবিগুলোর একটি ছিল আবরার হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে নাম আসা ছাত্রদের বুয়েট থেকে স্থায়ী বহিষ্কার। দাবি অনুযায়ী, ২৬ জন শিক্ষার্থীকে আজীবন বা স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে বুয়েট কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় ছয়জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেয়া হয়। তিন শর্তের দ্বিতীয়টি ছিল বুয়েটের আহসানউল্লাহ, সোহরাওয়ার্দী তিতুমীর হলে এর আগে ঘটে যাওয়া র‌্যাগিংয়ের ঘটনাগুলোতে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার শাস্তি। গত বৃহস্পতিবার বুয়েটের আহসানউল্লাহ সোহরাওয়ার্দী আবাসিক হলের নয় ছাত্রকে হল থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে একাডেমিক কার্যক্রম চার থেকে সাত টার্ম পর্যন্ত বহিষ্কার করা হয়েছে। আহসানউল্লাহ হলের চার ছাত্রকে সতর্ক করা হয়। আর সোহরাওয়ার্দী হলের ১৭ শিক্ষার্থীকে হল থেকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করা হয়। শিক্ষার্থীদের তৃতীয় দাবিটি ছিল সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি  র‌্যাগিংয়ের জন্য সুস্পষ্টভাবে শাস্তির নীতিমালা প্রণয়ন করে একাডেমিক কাউন্সিল সিন্ডিকেটে অনুমোদন করে বুয়েটের অধ্যাদেশে তা সংযোজন করা। সোমবার সে দাবিটিও পূরণ হয়েছে।

আবরার হত্যায় পলাতক চার আসামির সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ: এদিকে বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় পলাতক চার আসামির সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারির আদেশ দেয়া হয়। গতকাল ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কায়সারুল ইসলাম আদেশ দেন।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) হেমায়েত উদ্দিন খান সাংবাদিকদের বলেন, আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার পলাতক চার আসামির বিরুদ্ধে আগে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি এমন প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয় পুলিশ। তাই আদালত চার পলাতক আসামির সম্পদ ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করেছেন। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী জানুয়ারি তারিখ ধার্য করেছেন আদালত।

যে চার আসামির বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করার আদেশ হয়েছে তারা হলেন মোর্শেদুজ্জামান জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম, মোর্শেদ অমত্য ইসলাম মুজতবা রাফিদ।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন