বুধবার| জানুয়ারি ২২, ২০২০| ৯মাঘ১৪২৬

শেষ পাতা

রিজার্ভ চুরি

মূল হোতাদের পরিচয় ও আরসিবিসিকে জরিমানার অর্থ চেয়েছে বাংলাদেশ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

ফিলিপাইনের কাছ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় জড়িত মূল হোতাদের পরিচয় চুরিসংক্রান্ত আর্থিক তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে দেশটির রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনকে (আরসিবিসি) করা জরিমানার ২০ মিলিয়ন ডলারও চেয়েছে ঢাকা। গতকাল বাংলাদেশ ফিলিপাইনের মধ্যে দ্বিতীয় ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (এশিয়া প্যাসিফিক) মাসুদ বিন মোমেন। অন্যদিকে ফিলিপাইনের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া প্যাসিফিক বিভাগের সহকারী সচিব মেইনার্দো এলবি মন্টিলাগ্রি। প্রায় চার বছর পর দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় এফওসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।

বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (এশিয়া প্যাসিফিক) মাসুদ বিন মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির যে ঘটনা ঘটেছিল, সেই বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে আজ (গতকাল) ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আরসিবিসির প্রতিনিধিরা আলাদাভাবে বিষয়ে বৈঠক করেছেন। ফিলিপাইনের কাছে আমরা রিজার্ভ চুরির মূল হোতাদের পরিচয় অর্থ চুরির ঘটনাসংক্রান্ত কিছু আর্থিক তথ্য চেয়েছি। ফিলিপাইনের প্রতিনিধিরা আমাদের জানিয়েছেন, তারা সেসব তথ্য বিনিময় করবেন।

তিনি বলেন, আমরা আশা করছি, অর্থ চুরির মূল হোতাদের পরিচয় এবং -সংক্রান্ত আর্থিক তথ্যগুলো ফিলিপাইন জানালে বাংলাদেশে -সংক্রান্ত যে মামলা চলমান রয়েছে, তা নিষ্পত্তিতে তথ্য সহায়ক হবে। বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ফিলিপাইন এরই মধ্যে আরসিবিসিকে ২০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছে। আমরা প্রস্তাব করেছি, জরিমানার অর্থ বাংলাদেশকে দেয়া যেতে পারে। যদিও বিষয়ে ওদের অন্য রকম যুক্তি আছে। তারা বলেছে, আরসিবিসি ওই দেশের আইন ভঙ্গ করেছে বলেই তাদের জরিমানা গুনতে হয়েছে, জরিমানার অর্থের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে চুরি হওয়া অর্থের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে বিষয়ে আলোচনা চলছে। কিছু অর্থের বিষয়ে এখনো হদিস পাওয়া যায়নি, কিছু অর্থ পাচার হয়ে গেছে, সেটা আমরা জানি। অর্থ উদ্ধারের বিষয়ে আমরা স্টেপ বাই স্টেপ এগোচ্ছি।

বৈঠকে রিজার্ভ চুরি ছাড়াও দ্বিপক্ষীয় আরো বেশকিছু বিষয়ে আলোচনা এবং বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে বলেও জানান সচিব মাসুদ বিন মোমেন। তিনি বলেন, সাইবার অপরাধের মাধ্যমে এখন বিশ্বে অর্থ চুরির ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে। তাই আমরা প্রস্তাব করেছি, ফিলিপাইন বাংলাদেশ যদি নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা বিনিময়ের মাধ্যমে রিজার্ভ চুরির অপরাধের মূল উদ্ঘাটন করতে পারে, তা বিশ্বে অনুসরণীয় হয়ে থাকবে, যার মধ্য দিয়ে দুই দেশ উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারে। প্রস্তাবে ওরা রাজি আছে বলে জানিয়েছে।

মাসুদ বিন মোমেন বলেন, অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ মোকাবেলার ক্ষেত্রে দুই দেশের একই অভিজ্ঞতা। তাই এসব বিষয়ে আমরা অভিজ্ঞতা বিনিময় করে আরো শক্তিশালী হতে পারি। এছাড়া সেবিকা (নার্সিং), কৃষি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ বিষয়ে ফিলিপাইনের ভালো দক্ষতা রয়েছে, যা থেকে আমরা কীভাবে সহযোগিতা বা উপকৃত হতে পারি, সেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এজন্য বেশ কয়েকটি সমাঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে। আবার কয়েকটি এমওইউর ড্রাফট আমরা দুই দেশই নিজেদের মধ্যে ভবিষ্যতে স্বাক্ষরের জন্য বিনিময় করেছি। দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য আরো শক্তিশালী করতে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এবং ফিলিপাইনের চেম্বার অব কমার্সের মধ্যে সমাঝোতা স্মারক সই হয়েছে। আশা করছি, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরো জোরদার হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন