বুধবার| জানুয়ারি ২২, ২০২০| ৯মাঘ১৪২৬

খবর

আইসিডিডিআর,বির তথ্য

প্রতি তিন শিশুর একজন খর্বকায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

এক দশকের ব্যবধানে শিশুর পুষ্টির উন্নয়নে বাংলাদেশ বেশ সফলতা দেখিয়েছে। কিন্তু এর পরও পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। দেশের প্রতি তিনজনের একজন শিশুই খর্বকায়। এছাড়া প্রায় ২২ শতাংশ শিশুরই জন্ম হচ্ছে স্বল্প ওজন নিয়ে। আর ক্ষীণ স্বাস্থ্যের শিশু প্রায় শতাংশ।

গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে দুই দিনব্যাপী ফিড দ্য ফিউচার ইনোভেশন ল্যাব ফর নিউট্রিশনস সায়েন্টিফিক সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড টেকনিক্যাল এক্সিবিশন: এগ্রিকালচার টু নিউট্রিশন পাথওয়ে শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইসিডিডিআর,বির জ্যেষ্ঠ পরিচালক ডা. তাহমিদ আহমেদ। মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশের শিশুর পুষ্টি প্রবৃদ্ধির উন্নতি হচ্ছে। ২০০৭ সালে পাঁচ বছরের নিচে খর্বকায় শিশু ছিল ৪৩ শতাংশ, ২০১৭-১৮ সালে ৩১ শতাংশে নামে। অন্যদিকে স্বল্প ওজন নিয়ে জন্ম নেয়া শিশুর হার ২০০৭ সালে ছিল ৪১ শতাংশ, ২০১৭-১৮ সালে তা ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে কৃশকায় বা ক্ষীণ স্বাস্থ্যসম্পন্ন শিশুর হার সময়ের ব্যবধানে ১৭ থেকে কমে শতাংশে নেমেছে। বাংলাদেশে অগ্রগতি এসডিজি অর্জনে সহায়ক হবে। আর বৈশ্বিক ক্ষুধা পরিস্থিতির সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হলে বাংলাদেশের সূচক আরো ভালো অবস্থানে থাকবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী . মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, সরকার সবার জন্য নিরাপদ পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য নিশ্চিত করতে কাজ করছে। নির্বাচনী ইশতেহারে অঙ্গীকার রয়েছে। নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কে এসডিজিতে যে অভীষ্ট লক্ষ্য দেয়া আছে, তা অবশ্যই বাস্তবায়ন করবে সরকার। যেহেতু এর আগে এমডিজির প্রায় সব লক্ষ্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ, এখন এসডিজির অভীষ্ট অর্জনে কাজ করছে সরকার।

উন্নত বাংলাদেশের যোগ্য নাগরিক গড়তে নিরাপদ খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সুস্বাস্থ্য সুন্দর জীবনযাপনে পুষ্টি হলো কেন্দ্রবিন্দু। পুষ্টি হলো শরীরে খাদ্যের চাহিদা অনুযায়ী খাদ্য গ্রহণ। বর্তমান আগামী সফল প্রজন্মের জন্য এটি হলো অস্তিত্বের দিশা। প্রতিদিনের শারীরিক ক্রিয়াকর্ম পুষ্টিকর খাদ্যের মেলবন্ধন সুস্বাস্থ্যের ভিত্তি গড়ে তোলে। একটি সুস্থ শিশু তুলনামূলকভাবে বেশি ভালো শিখতে পারে। পর্যাপ্ত পুষ্টিসম্পন্ন মানুষ তুলনামূলকভাবে বেশি সৃজনশীল। স্বল্প পুষ্টির কারণে শরীরের অনাক্রম্যতা কমে যেতে পারে, দুর্বলতা বাড়তে পারে, শারীরিক মানসিক বিকলাঙ্গতা বাড়তে পারে এবং যেকোনো ধরনের উৎপাদনক্ষমতা কমে যেতে পারে।

সরকার অপুষ্টি সমস্যা সম্পূর্ণরূপে নির্মূলে অঙ্গীকারবদ্ধ। কৃষি খাতে যথেষ্ট পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য উৎপাদন হচ্ছে। কিন্তু মানুষের যে আয় তা দিয়ে পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করতে পারে না। ক্রয়ক্ষমতার দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, আয় বাড়াতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। যেহেতু যান্ত্রিকীকরণের ফলে কৃষিতে কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে, সেহেতু এখন কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে মানুষের আয় বাড়াতে হবে। আয় বাড়লে তখন মানুষ পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করতে পারবে।

ফিড দ্য ফিউচারের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পিপিবি) . মো. রুহুল আমিন তালুকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক . মো. আব্দুল মুঈদ, জাতীয় পুষ্টি কাউন্সিলের মহাপরিচালক ডা. মো. শাহ নেওয়াজ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফিড দ্য ফিউচার ইনোভেশন ল্যাব ফর নিউট্রিশনের পরিচালক . প্যাট্রিক ওয়েব।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন