রবিবার | ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

দেশের খবর

হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজ

অস্বাভাবিক দামে কেনাকাটা তদন্তে দুদক

বণিক বার্তা প্রতিনিধি সিলেট

 হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজে সাড়ে ১৫ কোটি টাকার কেনাকাটায় দুর্নীতির ঘটনা তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গতকাল দুপুরে দুদকের হবিগঞ্জ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. এরশাদ মিয়ার নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি দল কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে তদন্ত শুরু করে সময় তারা ২০১৭-১৮ সালে দরপত্রের মাধ্যমে কেনা যন্ত্রপাতি উপকরণ পর্যবেক্ষণ করেন প্রতিটি জিনিসের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করেন তারা অভিযানকালে কলেজের অধ্যক্ষ ডা. আবু সুফিয়ানকে পাওয়া যায়নি

হবিগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এরশাদ মিয়া বলেন, হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজে কেনাকাটার বিষয়ে দুদকের ১০৬ হটলাইনে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে এছাড়া সংবাদমাধ্যমে -সংক্রান্ত খবরও দুদকের নজরে এসেছে এগুলো আমলে নিয়ে প্রধান কার্যালয় থেকে দুদকের হবিগঞ্জ কার্যালয়কে প্রাথমিক তদন্তের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তিনি বলেন, ক্রয় করা সরঞ্জামের দাম সম্পর্কে বাজারে যাচাই করা হবে পরবর্তী সময়ে দুর্নীতির প্রমাণ কমিশনের অনুমতি পেলে বিস্তারিত তদন্ত করবে দুদক

তবে অভিযানকালে অধ্যক্ষ ডা. মো. আবু সুফিয়ান দরপত্র প্রস্তাব এবং মূল্যায়ন কমিটির সদস্য সচিব ডা. নাসিমা খানম ইভা কলেজে উপস্থিত ছিলেন না তাদের অনুপস্থিতিতে কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. সোলায়মান মিয়া প্রভাষক ডা. রোজিনা রহমানের সঙ্গে আলাপ করেন দুদক কর্মকর্তারা

অভিযানকালে দুদক হবিগঞ্জের সহকারী উপপরিচালক আব্দুল মালেক, উপসহকারী পরিচালক আব্দুল মোতালেব উপস্থিত ছিলেন

এর আগে গত সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য শিক্ষা পরিবার কল্যাণ বিভাগের যুগ্ম সচিব (নির্মাণ মেরামত অধিশাখা) মো. আজম খানকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি করা হয় কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে উল্লেখ্য, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দরপত্রের মাধ্যমে সাড়ে ১৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনাকাটা করা হয় প্রতিটি সরঞ্জামের অস্বাভাবিক মূল্য দেখানো হয়

নিয়ে গত ২৭ নভেম্বর বণিক বার্তার শেষ পৃষ্ঠায় হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে অস্বাভাবিক দামে কেনাকাটা শিরোনামে একটি সংবাদ ছাপানো হয়

সংবাদে উল্লেখ করা হয়, হবিগঞ্জের শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ হাজার ৮০০ টাকা দামে মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ছবি সংবলিত কাগজে ছাপা প্রত্যেকটি চার্ট কেনে যদিও এসব চার্টের বাজারমূল্য প্রতিটি ১০০-৫০০ টাকা করে মোট ৪৫০টি চার্ট ক্রয়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যয় হয় ৩৫ লাখ ১০ হাজার টাকা এছাড়া মেডিকেল কলেজটির জন্য লেনোভো ব্র্যান্ডের ১১০ পয়েন্ট কোর আই ফাইভ সিক্সথ জেনারেশন মডেলের ল্যাপটপ কেনা হয় ৬৭টি প্রতিটি লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ করে এসব ল্যাপটপের মোট মূল্য দেখানো হয়েছে ৯৯ লাখ ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা অন্যদিকে কম্পিউটার সামগ্রী বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ফ্লোরা লিমিটেডে খোঁজ জানা গেছে, মডেলের ল্যাপটপ তারা বিক্রি করছে প্রতিটি ৪২ হাজার টাকা করে

কলেজের জন্য ওজন মাপার যন্ত্র কেনা হয়েছে একেকটি সাড়ে লাখ টাকা করে যদিও দেশে ৪০ হাজার টাকাতেই উন্নতমানের ওজন মাপার যন্ত্র কিনতে পাওয়া যায় এভাবে বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে বাড়তি দাম দেখানো হয়

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন