রবিবার | ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

পণ্যবাজার

খাদ্যশস্য উৎপাদন বাড়াতে বড় পরিকল্পনা রাশিয়ার

বণিক বার্তা ডেস্ক

বিশ্বের শীর্ষ গম রফতানিকারক দেশ রাশিয়া। এছাড়া অন্যান্য ফসল উৎপাদন রফতানিতেও শীর্ষদের তালিকায় রয়েছে দেশটি।

তবে দেশটি এখন কৃষি খাত থেকে আয় আরো বাড়ানোর চিন্তা করছে। লক্ষ্যে খাদ্যশস্য উৎপাদন বাড়ানোর বড় পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে রাশিয়া। এরই মধ্যে ২০৩৫ সাল নাগাদ দেশের খাদ্যশস্যের বার্ষিক উৎপাদন ১৫ কোটি লাখ টনে নিয়ে যেতে কৌশলগত পদক্ষেপও নিয়েছে দেশটির সরকার। লক্ষ্য পূরণে কৃষি খাতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগের প্রস্তুতিও নিয়েছে খাদ্যশস্য উৎপাদনে অন্যতম স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ রাশিয়া। খবর রয়টার্স।

রাশিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১১ কোটি ৮০ লাখ টনের মতো খাদ্যশস্য উৎপাদন হতে পারে, যা থেকে ২০১৯-২০ বিপণন মৌসুমে খাদ্যশস্যের রফতানি দাঁড়াতে পারে কোটি ৫০ লাখ টনে।

তবে সরকার এখন খাদ্যশস্যের উৎপাদন বহুগুণ বাড়াতে কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। ২০৩৫ সাল নাগাদ খাদ্যশস্য উৎপাদনে বড় প্রবৃদ্ধি আনতে এরই মধ্যে খসড়া কৌশলও প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধির কৌশলগত পরিকল্পনার খসড়া সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্য পূরণে খাতসংশ্লিষ্ট অবকাঠামো অনুষঙ্গিক খাতে প্রায় লাখ ৪০ হাজার কোটি রুবল (স্থানীয় মুদ্রা) বা হাজার কোটি ডলারের মতো বিনিয়োগের প্রয়োজন। সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি বেসরকারি উৎস থেকেও ঋণের মাধ্যমে বিনিয়োগ করা হতে পারে।

এমন একটি সময় সরকার কৃষি খাতে বিনিয়োগের বড় পরিকল্পনা করছে, যখন রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহৎ রাষ্ট্রীয় ব্যাংক ভিটিবি শস্য রফতানির বিভিন্ন অবকাঠামোগত সম্পদ ক্রয় করছে। এরই মধ্যে ব্যাংকটি কৃষ্ণসাগরের নভোরসিকে অবস্থিত দুটি শস্য রফতানি টার্মিনাল ক্রয় করেছে। এছাড়া তামান এলাকায় অবস্থিত আরো একটি টার্মিনাল ক্রয়ের কথাও জানিয়েছে ভিটিবি।

এদিকে খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক সরবরাহ বাড়াতে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও শিগগিরই তার বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। ২০২৪ সাল নাগাদ খাদ্যশস্য রফতানি থেকে সাড়ে হাজার কোটি ডলার আয়ের কথা জানিয়েছেন তিনি। লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কৃষি মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দিয়েছেন।

সরকারের লক্ষ্য পূরণের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৌশলগত পরিকল্পনায় বলা হয়েছে ২০৩৫ সাল নাগাদ খাদ্যশস্যের বার্ষিক উৎপাদন ১৪ কোটি টনে নেয়া যাবে। সময় বার্ষিক রফতানির পরিমাণ দাঁড়াবে কোটি ৫৯ লাখ টনে।

তবে সময়ের মধ্যে খাদ্যশস্যের উৎপাদন সক্ষমতা আরো বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছে কৃষি মন্ত্রণালয়। কৌশলগত খসড়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ২০৩৫ সাল নাগাদ খাদ্যশস্যের উৎপাদন বেড়ে ১৫ কোটি লাখ টন পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। সময় রফতানির পরিমাণ বেড়ে কোটি ৩৬ লাখ টন পর্যন্ত যেতে পারে।

পরিকল্পনায় খাদ্যশস্যের উৎপাদন এর মান বৃদ্ধিতেও জোর দেয়া হচ্ছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ ব্যবহার এবং খাদ্যশস্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত অবকাঠামোখাত অনুষঙ্গিক খাতের উন্নয়নের কথাও বলা হয়েছে।

অন্যদিকে রফতানি মজুদ বাড়াতে সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নের দিকেও নজর দিচ্ছে রুশ সরকার। মজুদ সক্ষমতা সময়ের মধ্যে ১৫ কোটি ৬৯ লাখ টন থেকে বাড়িয়ে ১৬ কোটি ৭৪ লাখ টন করার উদ্যোগও নেয়া হয়েছে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল পরিকল্পনায়।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন