রবিবার | ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

পণ্যবাজার

মিসরের পর এবার তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আমদানি করছে ভারত

বণিক বার্তা ডেস্ক

সরবরাহ সংকটে অভ্যন্তরীণ বাজারে লাগামহীন হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের দাম। অবস্থায় বাজার নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের শীর্ষ পেঁয়াজ রফতানিকারক ভারতকে এখন নির্ভর করতে হচ্ছে আমদানির ওপর। সে ধারাবাহিকতায় এরই মধ্যে মিসর থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানিও করা হয়েছে। এছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে আমদানি অব্যাহত রয়েছে। তবে এতেও সহনীয় হয়নি মসলাজাতীয় পণ্যটির দাম। অবস্থায় আবারো দেশটির রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এমএমটিসি তুরস্ক থেকে ১১ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করতে যাচ্ছে। খবর লাইভমিন্ট।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে দ্বিতীয়বারের মতো পেঁয়াজ আমদানি করতে যাচ্ছে এমএমটিসি। এরই মধ্যে তুরস্ক থেকে আমদানির চুক্তিও করে ফেলেছে প্রতিষ্ঠানটি। আগামী জানুয়ারিতে এসব পেঁয়াজের চালান ভারতে প্রবেশের কথা রয়েছে।

অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট বন্যায় এবার ভারতের প্রধান প্রধান উৎপাদন অঞ্চলগুলোয় পেঁয়াজের আবাদ ব্যাহত হয়েছে। একই কারণেও বাজারে নতুন পেঁয়াজ আসতেও দেরি হচ্ছে। ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারেই পণ্যটির সরবরাহ সংকট তৈরি হয় এবং দাম বাড়তে থাকে। রকেট গতিতে দাম বাড়তে বাড়তে একটা পর্যায় ১২০ টাকা পর্যন্তও প্রতি কেজি পেঁয়াজ কিনতে হয়েছে ভারতীয়দের। অবস্থায় রফতানি বন্ধের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ মজুদ কমিয়ে আনতে কড়া নজরদারি শুরু করে সরকার। এতেও বাজারে পেঁয়াজের চড়া দাম ঠেকানো যায়নি। অবস্থায় পেঁয়াজ আমদানির দারস্থ হতে হয় শীর্ষ রফতানিকারক দেশটির। বেসরকারি পর্যায়ের পাশাপাশি সরকারও পেঁয়াজ আমদানি শুরু করে।

এরই মধ্যে মিসর থেকে হাজার ৯০ টন পেঁয়াজ আমদানি করছে এমএমটিসি। চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে চালান পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এছাড়া গত মাসেই সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে লাখ ২০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এমএমটিসি কর্তৃক আমদানীকৃত এসব পেঁয়াজ মুম্বাই দিল্লি ব্যতীত জনসাধারণের মধ্যে ৫২-৫৫ রুপিতে বিক্রির জন্য রাজ্য সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

আমদানি বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারে দামের ঊর্ধ্বমুখী ঠেকাতেও উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত সাহার নেতৃত্বে অর্থমন্ত্রী, ভোক্তা বিষয়কমন্ত্রী, যোগাযোগমন্ত্রী কৃষিমন্ত্রীসহ কয়েক জন মন্ত্রীর একটি প্যানেল তৈরি করা হয়েছে। যারা নিয়মিত বাজার তদারকির বিষয়ে খোঁজখবর রাখবেন। এছাড়া সচিব পর্যায়েও একটি কমিটি গঠন করে পেঁয়াজের বাজার দেখভাল করছে কেন্দ্রীয় সরকার।

এতকিছুর মধ্যেও ভারতে পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল নেই। সর্বশেষ সোমবার মহারাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হওয়া জেলা নাসিকে অনুষ্ঠিত নিলামে প্রতি কুইন্টাল পেঁয়াজের দাম উঠেছে ১১ হাজার রুপিতে, যা যাবত্কালের সর্বোচ্চ দাম। এর আগে সর্বোচ্চ হাজার রুপি পর্যন্ত দরে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে।

এগ্রিকালচার প্রডিউস মার্কেট কমিটি (এপিএমসি) আয়োজিত নিলামে সর্বনিম্ন হাজার থেকে শুরু করে ১১ হাজার রুপি পর্যন্ত দাম ওঠে। সব মিলিয়ে প্রতি কুইন্টালের গড় দাম পড়েছে ১০ হাজার থেকে ১০ হাজার ৩০০ রুপির মধ্যে। যেখানে গত আগস্টেও প্রতি কুইন্টালের দাম ছিল হাজার থেকে হাজার রুপির মধ্যে। সময় গড় দাম ছিল হাজার ৪০০ রুপির মতো।

মূলত সেপ্টেম্বরের পর থেকে পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকে। মাসে নিলামে প্রতি কুইন্টাল পেঁয়াজের গড় দাম ছিল হাজার ২০০ রুপি। অক্টোবরে দাম বেড়ে দাঁড়ায় হাজার ৮০০ রুপিতে। সর্বশেষ নভেম্বরে নিলামে পেঁয়াজের পাইকারি দাম ওঠে সর্বোচ্চ হাজার রুপিতে। সময় গড় দাম ছিল হাজার ৯০০ রুপিতে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন