বুধবার | জুলাই ১৫, ২০২০ | ৩০ আষাঢ় ১৪২৭

সম্পাদকীয়

মুক্ত অর্থনীতিতে বাজার নিয়ন্ত্রণ কেন জরুরি

নীলাঞ্জন কুমার সাহা

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বেশি আলোচিত জাতীয় বিষয় হচ্ছে, আমাদের খুচরা বাজারে পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, যার কারণে সাধারণ ভোক্তা-জনগণ তো বটেই, সরকারও এখন এর তীব্রতা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত গত আগস্টের মাঝামাঝি পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়ার পর থেকেই আমাদের পেঁয়াজের বাজার অস্বাভাবিক রকম বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং নভেম্বরের মাঝামাঝি তা সর্বোচ্চ পর্যায় পৌঁছে। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে নানা ব্যবস্থা, যেমন বাজার তদারকি জোরদার, খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি অন্য দেশ থেকে ত্বরিত আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করলেও তা থেকে আশাতীত ফল পাওয়া যায়নি। মাসেই মিসর থেকে জরুরি ভিত্তিতে পেঁয়াজ আমদানির পর বর্তমানে এর দাম কমা শুরু হলেও গতি অত্যন্ত মন্থর।

যেহেতু এরই মধ্যে আমাদের কৃষকদের উৎপাদিত নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসা শুরু করেছে এবং একই সঙ্গে তুরস্ক মিয়ানমার থেকেও পেঁয়াজ আমদানির ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তাই আশা করছি শিগগিরই পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরে আসবে অর্থাৎ পেঁয়াজের দাম ক্রেতার সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে। আবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত যে, একটি দুষ্ট চক্র একই সঙ্গে লবণের বাজারও অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করেছে, যদিও সরকারের কঠোর নজরদারিতে শেষ পর্যন্ত তাদের অসৎ উদ্দেশ্য সফল হয়নি। আমাদের খুচরা বাজারের এসব নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, তার ফলাফল নিয়ন্ত্রণ পর্যালোচনা খুবই জরুরি, কেননা এটা হয়তো আমাদের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণে সহায়তা করবে, যাতে ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ বা ঘটলেও শিগগিরই এর প্রতিকার করা সম্ভব হয়।

বর্তমানে পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ কি শুধুই ভারত থেকে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ হওয়া না তার পেছনে আরো অনেক কারণ রয়েছে, তা একটু খতিয়ে দেখা দরকার। সবাই জানি, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকলে যেকোনো জিনিসে দাম বেড়ে যেতে পারে। বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে পেঁয়াজ সরবরাহের তেমন কোনো ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়নি, তথাপি পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে, কিন্তু কেন? পেঁয়াজের মাত্রাধিক মূল্যবৃদ্ধির অনেক কারণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হতে পারে:

) কৃষি, খাদ্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়হীনতা: কৃষি মন্ত্রণালয় দেশে পেঁয়াজের ফলনের পরিমাণ সম্পর্কে অবগত, খাদ্য মন্ত্রণালয় গড় চাহিদার ব্যাপারে অবগত। আর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চাহিদা উৎপাদনের মধ্যে যে ঘাটতি, আমদানির মাধ্যমে তা সঠিক সময়ে পূরণ করে থাকে। এক্ষেত্রে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়হীনতা বেশ প্রকট বলেই মনে হয়, যা অবশ্যই কাটিয়ে উঠতে হবে। উল্লেখ্য, এবার পেঁয়াজের দাম বেশি হওয়ায় কৃষকরা যদি আগামীতে পেঁয়াজ চাষে বেশি ঝুঁকে পড়েন, তখন অন্য প্রয়োজনীয় কৃষিপণ্যের উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং এতে ওইসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে। সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিষয়েও আগাম দৃষ্টি দেয়া দরকার।

) একটি নির্দিষ্ট দেশের ওপর অত্যধিক আমদানি নির্ভরশীলতা: গত অক্টোবরে ভারতের গোয়হাটিতে ভারত-বাংলাদেশ স্টেকহোল্ডারদের এক সভায় আমাদের মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশে বর্তমানে ছয় লাখ টন পেঁয়াজের ঘাটতি রয়েছে এবং ঘাটতির শতকরা ৮০ ভাগ পেঁয়াজই

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন