শনিবার | ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

টেলিকম ও প্রযুক্তি

যুক্তরাষ্ট্র থেকে গবেষণা কেন্দ্র সরিয়ে নিচ্ছে হুয়াওয়ে

বণিক বার্তা ডেস্ক

চীনভিত্তিক হুয়াওয়ে টেকনোলজিস কোম্পানি লিমিটেড যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজেদের রিসার্চ সেন্টার সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। দেশটি থেকে রিসার্চ সেন্টার সরিয়ে কানাডায় নেয়া হতে পারে। গ্লোব অ্যান্ড মেইলকে এক সাক্ষাত্কারে এমন তথ্য দিয়েছেন হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতা রেন ঝেংফেই। খবর রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বাণিজ্য বিরোধের জেরে হুয়াওয়ের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুয়াওয়ে ইস্যুতে কিছুটা নমনীয় মনোভাব দেখালেও এখন পর্যন্ত বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেননি। পণ্যের নিরাপত্তা ত্রুটি এবং মার্কিন নাগরিকদের ওপর নজরদারির অন্যায্য অভিযোগে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে রিসার্চ সেন্টার হুয়াওয়ে সরিয়ে নিতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের ভাষ্যে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কার্যক্রম না থাকলেও হুয়াওয়ের ব্যবসায় খুব বেশি প্রভাব পড়বে না। নিজস্ব প্রযুক্তিতে পণ্য উৎপাদন এবং বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহে এরই মধ্যে সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি স্মার্টফোন বাজারে এরই মধ্যে জনপ্রিয় আইফোন নির্মাতা অ্যাপলকে পেছনে ফেলেছে। গুগলকে ছাড়াও অপেন সোর্স অ্যান্ড্রয়েড প্লাটফর্ম ব্যবহার করে স্মার্টফোন এনে দেখিয়েছে হুয়াওয়ে। যুক্তরাষ্ট্রে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। পরিস্থিতিতে দেশটিতে গবেষণা এবং উন্নয়ন সেন্টার চালু রাখার পক্ষপাতী নয় সংশ্লিষ্টরা। যে কারণে দেশটি থেকে রিসার্চ সেন্টার কানাডায় সরিয়ে নেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চীনের বাইরে নিজেদের কিছু মোবাইল নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতা নিজেদের পঞ্চম প্রজন্মের নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম উৎপাদনে ইউরোপে নতুন কারখানা স্থাপনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। চীনে উৎপাদিত নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম দিয়ে মার্কিন নাগরিকের ওপর নজরদারির সুযোগ করে দিচ্ছে হুয়াওয়ে, এমন অভিযোগ নাকচ করতে ইউরোপে কিছু সরঞ্জাম উৎপাদন করতে চাইছে প্রতিষ্ঠানটি।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে রিসার্চ সেন্টার সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে হুয়াওয়ের আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। দেশটিতে নিজেদের গবেষণা বিভাগে গত বছর ৫১ কোটি ডলার ব্যয় করেছে প্রতিষ্ঠানটি। যুক্তরাষ্ট্রের রিসার্চ সেন্টারের কর্মী সংখ্যা এরই মধ্যে ৬০০ থেকে কমিয়ে ২৫০ করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন